ডিজিটাল বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিকল্পনা বাস্তব করেছে সরকার : রাষ্ট্রপতি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব ।

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের গ্যালারি হল হতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ‘ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন আইটি-২০২১’ এবং ‘অ্যাসোসিও ডিজিটাল সামিট-২০২১’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার বিগত এক যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশের চার স্তম্ভ-কানেক্টিভিটি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্নমেন্ট এবং আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির অগ্রগতিকে ঘিরে নেয়া অধিকাংশ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।

Techshohor Youtube

‘শহর ও গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল বিভক্তি কমে আসছে। ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমানো, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল যন্ত্রকে হাতের নাগালে আনার পাশাপাশি মানুষের হাতের মুঠোয় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জনগণ এখন ঘরে বসেই দুই শতাধিক নাগরিক সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাচ্ছেন’ বলছিলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি জানান, ২০০৯ সালে দেশের মাত্র ৮ লাখ মানুষ ইন্টারনেট সেবা পেত। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ কোটির বেশি। এ সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে চার গুণের বেশি।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার প্রমাণ মহামারীর দুঃসময়ে তথ্যপ্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা।

‘দেশের শিক্ষা কার্যক্রম, বিচারিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং সেবা ইত্যাদি হয়ে পড়ে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর’ উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে দেশে গড়ে উঠছে ডিজিটাল অর্থনীতি। আমেরিকা, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের তৈরি সফটওয়্যার ও আইটি সেবা সরবরাহ করা হচ্ছে। আইটি খাতে রপ্তানি ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৫ সালের মধ্যে এ আয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে এবং জিডিপিতে সফটওয়্যার ও আইসিটি সেবাখাতের অবদান ৫ শতাংশে উন্নীত হবে। বর্তমান সরকার এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশজুড়ে গড়ে তুলেছে ৩৯টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যার দিক থেকে সারাবিশ্বে আমাদের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশে সাড়ে ৬ লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। ফ্রিল্যান্সারদের পেশাগত উন্নয়নে আইডি কার্ড দেয়া হচ্ছে।

বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার ও জালিয়াতি রোধে তথ্যপ্রযুক্তিবিদসহ সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবানও জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তি একদিকে যেমন আমাদের জন্য অবারিত সুযোগের দ্বার উন্মোচিত করেছে, তেমনি এর অপব্যবহার ও জালিয়াতির কারণে অনেক চ্যালেঞ্জেরও জন্ম দিয়েছে।’

তথ্যপ্রযুক্তির বিনিময় ও হস্তান্তর বৈশ্বিক উন্নয়নের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন বা আমদানিই যথেষ্ট নয় বরং এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের. চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা, পেশাজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অগ্রগামী প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে।’

বাঙালি জাতির ইতিহাসে ২০২১ সাল একটি অনন্য ও স্মরণীয় বছর উল্লেখ করে হামিদ বলেন, এ বছর একইসঙ্গে উদযাপন করা হচ্ছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার। বঙ্গবন্ধু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রযুক্তিকে বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডব্লিউসিআইটির মূল প্রতিপাদ্য ‘আইসিটি দ্য গ্রেড ইকুয়ালাইজার’। আইসিটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে গ্রাম-শহরে দূরত্ব দূর করা, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করা, নারী-পুরুষের বিভেদ দূর করার জন্য। আর সেই প্রতিবাদ্যে অনেুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে। তাই প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো অনুসরণ করি, খারাপ দিকগুলোকে পরিহার করি।

অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্সের (উইটসা) চেয়ারম্যান ইয়ানিস সিরোস, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এনএম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক আব্দুল মান্নান এবং বিসিএস সভাপতি শহিদ-উল-মুনীর বক্তব্য দেন।

‘আইসিটি দ্য গ্রেট ইকুলাইজার’ প্রতিপাদ্যে শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন ইনফরমেশন টেকনোলজি’র ২৫তম আসরে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে যুক্ত হওয়া যাবে।

এই সম্মেলনের পাশাপাশি একই স্থানে একই সময়ে শুরু হয়েছে এশিয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘অ্যাসোসিও ডিজিটাল সামিট-২০২১’।

*

*

আরও পড়ুন