Techno Header Top and Before feature image

এসএমএসে তিন দিন আগেই মিলবে বন্যার সতর্কতা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ডিজিটাল পদ্ধতিতে আধুনিক বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সোমবার রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত পানি ভবনে ভার্চুয়াল ও ভৌত কাঠামোর সংমিশ্রণে ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা’ এর উদ্বোধন করা হয়।

এতে অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোঃ মোহসীন এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মোঃ ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার।

ডিজিটাল পূর্বাভাসের এই উদ্যোগে সহায়তা করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো), এটুআই, গুগল, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ।

জাহিদ ফারুক বলেন, পরিবর্তনশীল আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে ডিজিটাল বাংলাদেশে দুর্যোগের আগে ও পরে মানুষকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো), এটুআই ও গুগলের সহায়তায় উন্নত ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।

‘এ কার্যক্রমের আওতায় বাপাউবো’র বিদ্যমান ৫-দিনের আগাম বন্যা পূর্বাভাস উপাত্তকে প্রক্রিয়াকরণ করে উন্নততর প্লাবন মানচিত্রের সাহায্যে বন্যা শুরু হওয়ার তিন দিন হতে তিন ঘণ্টা সময় পূর্বে স্থানীয় জনগোষ্ঠী পর্যায়ে তাৎক্ষণিকভিত্তিতে ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানা, সম্প্রতি তিস্তার পানি বেড়ে গেলে ডিজিটাল ব্যবস্থায় তিন হাজার স্থানীয় মানুষকে পূর্বাভাস মেসেজ দেয়া হয়েছে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ বাংলাদেশের তিন শতাধিক নদী অববাহিকার ৭১ শতাংশ প্লাবন ভূমি রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট বন্যার পূর্বাভাস দিতে পারলে প্রাণ এবং সম্পদের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব। বন্যার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্যা ও দুর্যোগ প্রশমন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হবে।

‘২০২০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদেরকে ‘পুশ নোটিফিকেশন’-এর মাধ্যমে পূর্বাভাস প্রদান শুরু করা হয়েছিল। ২০২০ সালে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও পদ্মা নদী তীরবর্তী ১৪টি জেলার ৩৮টি উপজেলায় এই কার্যক্রমটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হয়। ২০২০ সালে ৩ লক্ষ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন এর মাধ্যমে ১০ লক্ষ স্মার্ট নোটিফিকেশন পাঠিয়ে বন্যা কবলিত এলাকার জনগণকে সেবা প্রদান করা হয়। এর সফলতার ভিত্তিতে দেশজুড়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’ বলেন তিনি।

এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, প্রযু্ক্তিগত উদ্ভাবন এমন এগিয়েছে যে, আজকে নির্দিষ্ট জায়গার নির্ধারিত সময়ে আবহাওয়া কেমন থাকবে তার সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আজকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার প্রণয়নের মাধ্যমে সেটা আরও অত্যাধুনিক হলো।

কবির বিন আনোয়ার বলেন, মাত্র তিনদিন আগে তিস্তা ব্যারেজের ওই পাড়ে হঠাৎ বৃষ্টিপাতের কারণে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারাত্মক বন্যার সৃষ্টি হয়। যার ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার প্রায় ৬টি উপজেলা প্লাবিত হয়। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এর আগেই গুগলের আগাম বার্তা ছিলো এবং ৯ ঘণ্টায় তিস্তা ব্যারেজের তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিলো।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী এবং গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ুসি মাতিয়াছ বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ।

*

*

আরও পড়ুন