Techno Header Top and Before feature image

ইন্টারনেটের গতি নিয়ে ওকলার রিপোর্ট ‘সত্য’ নয়, খতিয়ে দেখতে বিটিআরসির কমিটি

speed test-techshohor

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বিশ্বের ১৩৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশে ১৩৫, ওকলার এই তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিটিআরসি।

ইন্টারনেট অ্যাকসেস ও পারফরম্যান্স অ্যানালিসিস কোম্পানি ওকলা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট গতির চিত্র দিয়ে জুন মাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেখানেই বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি নিয়ে এমন তথ্য দেয়া হয়। তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পেছনে আছে শুধু আফগানিস্তান ও ভেনিজুয়েলা।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার বলছেন, ওকলার এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করার দায়িত্ব বিটিআরসির। তবে প্রতিবাদ করার আগে এটা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি করা হয়েছে , ভাইস-চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ওই কমিটি কাজ করছে।

বিটিআরসির সিস্টেম এন্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ নাসিম পারভেজ বলেন, ‘বাংলাদেশে যে পরিমাণ ডিজিটাল গ্রোথ হয়েছে, এক্সপানশন হয়েছে, যে পরিমাণ ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সেবা নিচ্ছি, জুম মিটিং করছি, অনলাইন এক্টিভিটি করছি-এটা কখনই সম্ভব না যে বাংলাদেশ ১৩৭ টা দেশের মধ্যে ১৩৫তম।’

‘এটা সত্য নয়’ বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এটা জানায়নি। জানিয়েছে একটি কমার্শিয়াল প্রাইভেট কোম্পানি, এটা আইটিইউ স্বীকৃতি দেয় না বা অ্যাফিলিয়েটেড কোনো প্রতিষ্ঠানও না।’

বিটিআরসির এই মহাপরিচালক বলেন, ‘এই ধরণের প্রতিবেদনের পেছন জরিপে স্যাম্পলিং লাগে যে, কতোজন মানুষের ডেটা পরীক্ষা করে বিষয়টা এমন। আমরা এটা তুলনা করে দেখেছি, ওরা প্রতি ১০০০ জনের মধ্যে দশমিক ৪৬ , মানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এক জনেরও কম মানুষের টেস্ট করে তারা এটা বলেছে। মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি।’

‘তারমানে এখানে ডেটা স্যাম্পলিংয়ের একটা বিষয় রয়েছে। আপনি যখন বেশি ডেটার মধ্যে রেজাল্টটা চেক করবেন তখন রেজাল্টটা বেশি অথেনটিক হবে ।’ উল্লেখ করেন তিনি।

নাসিম পারভেজ বলেন, ‘বাংলাদেশে ফোরজি কাভারেজ প্রায় ৯৯ শতাংশ। কিন্তু স্মার্টফোন আছে ৩০ শতাংশের মতো। ওকলা যে হ্যান্ডসেট হতে স্পিডটা টেস্ট করেছে সেটা হয় টুজি হ্যান্ডেসেট নয় থ্রিজি হ্যান্ডসেট। অথচ এটা ফোরজি হ্যান্ডসেট হলে যে স্পিডটা দেখাতো তা অনেক হায়ার হতো। ওনারা কিন্তু এটাও উল্লেখ করেননি কী হ্যান্ডসেট ব্যবহার করেছে। তারমানে এখানে হ্যান্ডসেটের একটা বিরাট ব্যাপার আছে, টেকনোলজির বিরাট ব্যাপার আছে। ’

তিনি বলেন, ‘এই টেস্টটাই সে যখন মালেশিয়ায় করেছে ওখানে স্মার্টফোন প্রেনিট্রেশন ৭০ শতাংশ। ওখানে যখন টেস্ট করবে তখন অটোমেটিক্যালি গতি বেশি হবে। এই প্যারামিটারগুলো না বিবেচনা করেই ওরা একটা রিপোর্ট দিয়েছে, কমার্শিয়ালি চিন্তাভাবনা করে।’

রোববার টেলিযোগাযোগ সেবা সম্পর্কে অভিযোগ বা মতামত জানতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর গণশুনানিতে ওকলার এই প্রতিবেদনের প্রসঙ্গটি তোলেন গণমাধ্যম কর্মীরা।

পরে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থানের কথা জানায় বিটিআরসি।

ওকলার ওই প্রতিবেদেনে বলা হয়, বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি ১২ দশমিক ৪৮ এমবিপিএস। আপলোডের গতি ৭ দশমিক ৯৮ এমবিপিএস।

*

*

আরও পড়ুন