Techno Header Top and Before feature image

বিটিআরসির গণশুনানি : গ্রাহকের মুখে অপারেটরদের সেবায় ভোগান্তির কথাই

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টেলিযোগাযোগ খাতের সেবা নিয়ে নানা অসন্তুষ্টি শোনা গেলো গ্রাহকের মুখে।

রোববার টেলিযোগাযোগ সেবা সম্পর্কে অভিযোগ বা মতামত জানতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর গণশুনানিতে খাতটির বিভিন্ন সেবার ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার অনলাইন প্লাটফর্মে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এটি বিটিআরসি তৃতীয় গণশুনানি।

এতে গ্রাহকরা মোবাইল অপারেটরগুলোর বিভিন্ন এলাকায় ঠিকঠাক নেটওয়ার্ক না থাকা, কলড্রপ, চলতি পথে মহাসড়ক-রেলে নেটওয়ার্ক না পাওয়া, এমএনপি নিয়ে সমস্যা, ব্রডব্যান্ডে এলাকাভিত্তিক সিন্ডিকেশন, ইন্টারনেটের গতি না থাকা, বিভিন্নভাবে মোবাইলের টাকা কেটে নেয়াসহ নানা ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন ।

তবে শুনানিতে গ্রাহকের এসব ভোগান্তি ও অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বিটিআরসি। গ্রাহকদের প্রতিটি অভিযোগ বিটিআরসির স্ব স্ব বিভাগ তাৎক্ষণিক সমাধান দেন, সমাধানের উপায় করে দেন এবং সমাধানে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

এমনকি বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার নিজেও গ্রাহকের অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সমাধান দিয়েছেন । এছাড়া অনেক অভিযোগের বিষয়ে গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সংযোগ করে দিয়েছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান যেন পরবর্তীদের কোনো ভোগান্তি ছাড়াই গ্রাহক সমাধান পান।

তিনঘন্টার মতো সময়ে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে তানজিল হাসান নামে একজন গ্রাহক জানতে চেয়েছেন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি এবং অসহনীয় কলড্রপের প্রতিকারের বিষয়ে।

জাবাবে কমিশনের ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিঃ জেঃ এহসানুল কবির বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অপারেটররা প্রতি জেলায় পয়েন্ট অব প্রেজেন্স (পপ) বসালে ব্রডব্যান্ড সেবার গতি বাড়বে।

নেটওয়ার্ক দুর্বলতার কারণে টেলিটকের কল এবং ডাটা ব্যবহার করা যায়না বলে অভিযোগ করেন শরীফুল ইসলাম নামে এক গ্রাহক।

জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার বলেন, টেলিটকের মান উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে ২ হাজার ২০৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন এবং এটি বাস্তবায়ন হলে সেবার মান বাড়বে।

অবৈধ ফোন বন্ধের বিষয়ে প্রশ্ন করেন আবুল আযম ।

উত্তরে স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিঃ জেঃ মোঃ শহীদুল আলম জানান, বিভিন্ন উপায়ে দেশে অবৈধ সেট আসছে বিধায় ন্যাশনাল আইডেনটিটি ইকুইপমেন্ট রেজিস্টার করা হয়েছে। প্রতিদিন ১ লাখের বেশি সেট এনইআইআর এ যুক্ত হয়, যার মধ্যে ৩০ ভাগ অবৈধ হ্যান্ডসেট।

অক্টোবরে এনইআইআরের পরীক্ষামুলক সেবা বন্ধ হওয়ার পর অবৈধ সেটের বিষয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সোহাগ কায়সার নামে গ্রাহক এমএনপি নিয়ে সমস্যার কথা বলেন। শিপু সাহা জানান গ্রামীণফোন তার অতিরিক্ত টাকা কেটে নিয়েছিলো। চাঁদপুর হতে পেশা অ্যাডভোকেট নিয়ামুল ইসলাম ব্রডব্যান্ডের সিন্ডিকেশন নিয়ে কথা বলেন, তিনি জানান সেখানে বিটিআরসি নির্ধারিত চার্জ মানা হচ্ছে না। পাভেল আহমেদ অভিযোগ করেন কলে ভ্যাট ও সারচার্জ নিয়ে, মেহেদি হাসান, নাজমুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের অভিযোগ ছিলো শহরের বাইরে ভালো নেটওয়ার্ক না থাকা, টেলিটকসহ অপারেটরগুলোর সেবা নিয়ে ভোগান্তি নিয়ে।

গণশুনানিতে ৩০টিরও বেশি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়।

গণশুনানি কমিটির সভাপতি ও বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার অনুষ্ঠিত এ গণশুনানির স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

‘খুব বেশি কথা বলতে চাই না, সব তথ্য নিয়েই সব বিষয়ে কথা বলব। আমরা চাই ভুলগুলো ধরিয়ে দিন আমরা সেগুলো সমাধান করব’ বলেন তিনি।

অংশগ্রহণকারীদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের কমিশনার প্রকৌঃ মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিটি গণশুনানির আয়োজন যেকোনা প্রতিষ্ঠানের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ায় ।

গণশুনানিটি পরিচালনা করেন সিস্টেম এন্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহপরিচালক ব্রিঃ জেঃ মোঃ নাসিম পারভেজ। এ সময় তিনি ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত গণশুনানির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

শুনানিতে আরও ছিলেন, কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার প্রকৌঃ এ কে এম শহীদুজ্জামান, প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসাইন, লিগ্যাল এবং লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডু, অর্থ হিসাব ও রাজস্ব বিভাগের মহাপরিচালক মোঃ মেসবাহুজ্জামান ।

*

*

আরও পড়ুন