Techno Header Top and Before feature image

অনলাইন ব্যবসায় ডাকবিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ডাকবিভাগকে অনলাইন সেলিংয়ের বিষয়ে আরও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিয়ে ডাক অধিদপ্তরের নবনির্মিত সদরদপ্তর ‘ডাক ভবন’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ডাকের সেবাটাকে একেবারে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাটা এখনই নিতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু অনলাইন সেলিং জনপ্রিয়তা লাভ করছে, কাজেই ডাকঘরের পিছিয়ে থাকলে চলবে না। ডাক বিভাগকে এই ব্যাপারে আরো দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভবিষ্যতে ডাকের মাধ্যমে যাতে গ্রাহকের কাছে খাদ্য, ফল-মূল সহজে পৌঁছাতে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পাঠানো, অর্থাৎ যেগুলো পচনশীল পণ্য সেগুলো পরিবহনের জন্য ইতোমধ্যে কুলিং সিস্টেম যেন থাকে, ফল-মূল, বিভিন্ন তরিতরকারি বা কোনো পণ্য যেন ভালো থাকে, সে ধরনের গাড়ি কিনে এই ডাকের মাধ্যমে মানুষ যেন সে সেবা পায় সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি’ বলেন তিনি ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘শুধু গাড়ি কিনলে হবে না এখানে চেম্বার দরকার। সে জন্য ডাকঘরগুলোতে কুলিং সিস্টেমযুক্ত চেম্বার যাতে তৈরি হয় তার ব্যবস্থা, অর্থাৎ ওয়ারহাউজ, সেগুলো নির্মাণ হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা জানান, জেলা ও বিভাগীয় সদরে আধুনিক মেইল প্রসেসিং, কুলিং সুবিধাযুক্ত স্টোরেজ, ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এবং গ্রাহকবান্ধব ৩৮টি মডেল ডাকঘর নির্মাণ করছে সরকার।

তাঁর সরকার ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের রূপরেখার আওতায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ডাকপরিষেবা বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

ভবনটি নির্মাণে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৯১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ভবনটিতে সুসজ্জিত ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, আধুনিক পোস্টাল মিউজিয়াম, সুপরিসর অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া, ডে-কেয়ার সেন্টার, মেডিকেল সুবিধা, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও সার্বক্ষণিক ওয়াইফাইসহ অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় যখন সরকার গঠন করি, তখন আমরা ডাক বিভাগের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিই। ১৮৯৮ সালে আইন করা ছিল। এই আইনটিকে আমরা আধুনিক করার কাজ হাতে নিই। আমরা ডাকঘর আইনকে হালনাগাদ করে ডাকঘর সংশোধন আইন-২০১০ প্রণয়ন করি।’

তিনি বলেন, ডিজিটাল সেবা যাতে মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে ব্যবস্থাও আমরা নিই এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা অন্তর্ভুক্ত করি। প্রত্যেকটি ডাকঘরকে ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তরের নির্দেশনা আমরা দিই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পোস্ট ই-সেন্টার প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ৮,৫০০টি ডাকঘরকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যেই ডিজিটাল ডাকঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। যার মাধ্যমে সামাজিক উদ্যোক্তা সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মহিলা ও পুরুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই ডাকঘর থেকে বিভিন্ন বয়সী প্রশিক্ষণার্থী কম্পিউটারের উপর মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন এবং গ্রামীণ জনগণ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, যেমন: ইন্টারনেট ব্রাউজিং, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ভর্তি ফরম অনলাইনে পূরণ, ফলাফল ডাউনলোড, দেশে-বিদেশে ভিডিও কনফারেন্সিং, ছবি তোলা, ডকুমেন্ট প্রিন্ট আউট প্রভৃতি সেবা লাভ করছে।

ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকার আগারগাঁওয়ের ডাক ভবন প্রান্তে যুক্ত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস পিএমও থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াসহ গণভবন এবং পিএমওর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

*

*

আরও পড়ুন