Techno Header Top and Before feature image

দেশের অর্থনীতি এগুচ্ছে ডিজিটালাইজেশনে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ডিজিটালাইজেশনের প্রেক্ষিতে করোনা মহামারির মতো দুর্যোগের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ।

মঙ্গলবার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক অনলাইন কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী ।

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারীর মধ্যে পৃথিবীর ২০টি দেশ পজিটিভ জিডিপি গ্রোথ রেট ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, এরমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার হার ৫.৪, যেটি পৃথিবীতে তৃতীয়। এটা কখনোই সম্ভব হতো না যদি ডিজিটাল বাংলাদেশ না হতো।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারির মধ্যেও সরকারের কোনো কর্মকান্ড থেমে নেই। প্রধানমন্ত্রী এখনও নিয়মিত আগের মতোই মন্ত্রিসভা ও একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন ডিজিটালি। আমরা যারা এসব সভায় উপস্থিত থাকি, তিনি যখন বাস্তবে আমাদের সামনে সভায় উপস্থিত থাকতেন তখন যে ধরনের ইন্টারেকশন হতো, এখনো ঠিক তেমনি ইন্টারেকশন হয়। বিন্দুমাত্র মনে হয় না যে, প্রধানমন্ত্রী দূর থেকে অনলাইলে আমাদের সাথে সভাগুলো করছেন। অর্থাৎ সরকারের সমস্ত কর্মকান্ড এ ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণে আজকে আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি এবং বাংলাদেশ পজেটিভ জিডিপির ধরে রাখার ক্ষেত্রে পৃথিবীতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল হওয়ার প্রেক্ষিতে আজকে এই দুর্যোগের মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের ২০টি দেশ ছাড়া আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অনেক দেশের অর্থনীতি যখন সংকুচিত হয়েছে, তখন আমাদের দেশে ৫.৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই ২০টি দেশের মধ্যে যে দুটি দেশ আমাদের উপরে রয়েছে, এই দুটি দেশ হচ্ছে আফ্রিকার ছোট অর্থনীতির দেশ।

মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের এই ধারণাটি এসেছিল প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে। সেই আইডিয়া দিয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা আমরা যখন ২০০৮ সালে বলি তখন একটি স্বপ্ন ছিল কিন্তু আজকে এখন এটি আর স্বপ্ন নয় এটি একটি বাস্তবতা। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের দেশে ১৪ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহারকারী। অর্থাৎ শিশু ছাড়া বাকি সবারই মোবাইল ফোন রয়েছে। এখন বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটি বেশি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম ডিজিটালি অনেক বেশি শিক্ষিত।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে তা সমগ্র বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ এবং সেই উদাহরণের কথা বারাক ওবামা যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তিনি যখন তার বাবার দেশ কেনিয়াতে প্রথম সফর করেন, ওই সময় তিনি বলেছেন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বা গেছে সেটা থেকে আফ্রিকার দেশগুলো তথা উন্নয়নশীল দেশগুলো শিক্ষা নিতে পারে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনা মহামারির যখন দ্বিতীয় ঢেউ চলছে, সরকার যদিও লকডাউন ঘোষণা করেছে কিন্তু আমাদের কোনো কর্মকান্ড থেমে নেই। বাংলাদেশের একজন কৃষক এখন তার ফসলের ক্ষেতে গিয়ে ফসলে কোন পোকা ধরেছে সেটির ছবি তুলে সেই ছবি উপজেলা সদরে বা ব্লক সুপারভাইজারের কাছে পাঠিয়ে দেয় এবং মোবাইল ফোনে জিজ্ঞেস করে আমার ক্ষেতে এই পোকা ধরেছে আমি কোন ওষুধ ব্যবহার করবো। ব্লক সুপারভাইজার বা কৃষি অফিসার বলে দেন তিনি কি ওষুধ ব্যবহার করবেন। এজন্য কৃষি অফিসারকে প্র্যাকটিক্যালি তার ক্ষেত পর্যন্ত যেতে হয় না। এটি সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণে।’

এটুআই প্রকল্প ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস আয়োজিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, এটুআই প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল মান্নান।

*

*

আরও পড়ুন