Techno Header Top and Before feature image

বাংলাদেশে ফিনটেক ব্যবসার পরিকল্পনায় ভাইবার

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বব্যাপী ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিং ও কলিং অ্যাপগুলোতে তথ্য সুরক্ষা, গোপনীয়তা এবং বাংলাদেশের জন্য নতুন পরিকল্পনা নিয়ে টেকশহরে খোলামেলা কথা বলেছেন ভাইবার সিইও জামেল আগাওয়া।

বিশেষ এই সাক্ষাতকারে টেকশহরের আল-আমীন দেওয়ানের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

জামেল আগাওয়া ২০১৭ সালে রাকুতেন ভাইবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগ দেন। এরপর ভাইবারে নিত্যনতুন উদ্ভাবনী ফিচার চালু করে একে নতুন এক মাত্রা দিয়েছেন। ভাইবার ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।মোবাইল মেসেজিং, প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি, টেকনোলজি, অ্যাডভার্টাইজিং, লিডারশিপ, ডাইভারসিটি, মিডিয়া অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট, ম্যানেজমেন্ট ও ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং বিষয়ে বেশ পেশাদারি দক্ষতা রয়েছে আগাওয়ার।

টেক শহর : সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপগুলোর জন্য গোপনীয়তা ও তথ্যসুরক্ষা বিষয়ে এতো উদ্বেগের কারণ কী ?

জামেল আগাওয়া : এটি স্পষ্ট যে, কেউই চায়না তার তথ্য বা ব্যক্তিগত বার্তা সম্পর্কে অন্যরা জানুক। এর মানে সবাই চায় তার কথোপকথন এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য গোপন থাকুক, যাতে অন্য মানুষ, তৃতীয় পক্ষ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং ডেভেলপার নিজেও এসব তথ্য দেখতে না পায়।

ব্যবহারকারীদের এই চাহিদার সাথে হোয়াটসঅ্যাপের নীতিমালা পরিবর্তন সংক্রান্ত উদ্যোগের কারণে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপে গোপনীয়তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ফলে সামগ্রিক উদ্বেগ বেড়েছে।

টেক শহর : হ্যাকাররা যেহেতু আরও কৌশলী ও নিত্যনতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সেক্ষেত্রে এই সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানগুলো বা অ্যাপগুলোর দায়িত্ব কী হওয়া উচিত ? ভাইবারই বা কীভাবে তার ব্যবহারকারীদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে? 

জামেল আগাওয়া :, ব্যবহারকারীরা যেখানেই থাকুক না কেন বিশ্বের সকলকে ভাইবার ই২ইই (এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন) সুবিধা দিয়ে থাকে। তাদের কথোপকথন এবং কোনো তথ্যই বিক্রির জন্য নয়। আমাদের ই২ইই ডিফল্টরূপে থাকে।

ই২ইই এমন একটি সিস্টেম কমিউনিকেশন, যা শুধুমাত্র প্রেরক ও প্রাপক পড়তে পারে। অন্য কেউ, এমনকি ডেভেলপারও বার্তাটি ডিক্রিপ্ট করতে যে ক্রিপ্টোগ্রাফিক কি দরকার হয়, তার নাগাল পায় না।

ভাইবারের সার্ভার বার্তাবাহক হিসেবে শুধুমাত্র বার্তা আদান-প্রদানের কাজ করে, সেখানেও ম্যাসেজ পড়ার কোনো অবস্থাই নেই। ও নিরক্ষর। বার্তাটি কেবল প্রেরক ও প্রাপকের যে ডিভাইসকে উদ্দেশ্য করে দেয়া হয়েছে, তাতেই পড়া যায়। এ প্রক্রিয়ায়, একটি সাধারণ বার্তা ডিক্রিপ্ট করতে কয়েক বছর সময় লেগে যাবে।

ই২ইই-র পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় ভাইবার আরও অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিগত বছর আমরা ‘ডিসাপেয়ারিং মেসেজ’ ফিচার নিয়ে এসেছি। প্রাপক বার্তা বা ফাইল দেখার পর সেটি মুছে ফেলার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউন্টডাউন শুরু হয়। পূর্বে, এমন ফিচার শুধুমাত্র সিক্রেট চ্যাটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল।

কিন্তু এখন ভাইবারে যেকোনো ব্যবহারকারী কোনো বার্তা, ছবি, ভিডিও বা অন্য কোনো ধরনের ফাইল পাঠানোর ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা কিংবা দিন হিসেবে সময় নির্ধারণ করে দিতে পারেন।

দুর্ঘটনাবশত একজন যাতে আরেকজনের কথোপকথনে অ্যাক্সেস করতে না পারে, তার জন্য ভাইবারে রয়েছে হিডেন চ্যাট অপশন। এই ধরনের কথোপকথন পিন-কোড দ্বারা সুরক্ষিত এবং ব্যবহারকারীর সাধারণ চ্যাটের তালিকায় এটি থাকে না। এছাড়াও, যেকোনো বার্তা ব্যবহারকারীর চ্যাট হিস্ট্রি থেকে যেকোনো সময় মুছে ফেলা যায়।

টেক শহর : এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের পরেও কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য বেহাতের মতো ঘটনা ঘটে?

জামেল আগাওয়া : বিভিন্ন কারণে এই ধরনের তথ্য বেহাতের ঘটনা ঘটতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, নিম্নমানের এনক্রিপশনের ফলে তথ্য বেহাত হতে পারে।

তবে ভাইবারে এটি সম্ভব নয়, কারণ এর সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা কোনো বার্তা সংরক্ষণ করে না – তাই মানুষের এটি হ্যাক করার এবং এ থেকে কোনো কিছু লাভের কোনো উপায় নেই।

তাই, ভাইবার ব্যবহারকারীরা নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপে তাদের শেয়ার করা তথ্য যেকোনো প্রকার তথ্য বেহাত হওয়া থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

টেক শহর : ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীরা কীভাবে নিরাপদ থাকতে পারেন?

জামেল আগাওয়া : ব্যবহারকারীদের প্রথম যে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে তা হচ্ছে, তারা যে অ্যাপটি ব্যবহার করছে তা এন্ড-টু-এন্ড-এনক্রিপশন (ই২ইই) প্রদান করছে কিনা। এটি অন্য কেউ, এমনকি ডেভেলপার থেকেও তথ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেসেজিং অ্যাপটি যদি এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্বচ্ছ না হয়, তবে ব্যবহারকারীর সেই অ্যাপটি বাদ দিয়ে উল্লেখিত সুরক্ষিত কোনো অ্যাপ ব্যবহার শুরু করা উচিত।

টেক শহর : এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল, বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য ভাইবারের পরিকল্পনা কী ? 

জামেল আগাওয়া : আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগের জন্য কমিউনিটি এবং চ্যাটবটের সুযোগ দেই। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ইবিএল, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগের জন্য ইতিমধ্যে নিজস্ব চ্যাটবট তৈরি করেছে। এমনকি মহামারি চলাকালীন কোভিড-১৯ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেয়ার জন্য ভাইবার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করেছে।

বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বাজার, যেখানে প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডের জন্য এবং সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনায় অনেক মানুষ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। এই যাত্রায় আমরা বাংলাদেশের পাশে থাকতে চাই এবং দেশটি যে ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার অংশ হতে চাই। এজন্যই আমরা আমাদের অ্যাপটি উন্নত করার ব্যাপারে আরও বেশি মনোযোগী হয়ে উঠছি, যাতে আমরা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে পারি।

ভাইবার একাধিক দেশে ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ভাইবার ফিলিপাইনে ফুডপিএইচ বট চালু করেছে। এই বটের মাধ্যমে ফিলিপিনোরা ছোট খাবারের দোকান থেকে খাবার অর্ডার করতে পারছেন। জিক্যাশের সাথে অংশীদারিত্বের মধ্য দিয়ে ব্যবহারকারীরা কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজেই  বিল পরিশোধ করতে পারেন।

নেপালে ইসেওয়া ভাইবারের সাথে যৌথ উদ্যোগে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের প্রথম ডিজিটাল ওয়ালেট চালু করে। এছাড়া, ইসেওয়া একটি নতুন ফিচার চালু করে, যার মাধ্যমে ভাইবার ব্যবহারকারীরা পেমেন্টের জন্য টাকা পাঠাতে পারেন এবং ইসেওয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টপ আপ করতে পারেন।

ডিজিটাল পেমেন্ট বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। তাই ভাইবার বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য চ্যাটবট পেমেন্ট, রিচার্জ ফোন ক্রেডিট, ইন-চ্যাট পেমেন্ট এবং আরও অনেক উদ্যোগ চালুর জন্য ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারীত্বের পরিকল্পনা করছে।

বাংলাদেশে ভাইবার ব্যবহার ৭২ শতাংশ, কমিউনিটি বার্তা প্রেরণ ১১৬ শতাংশ, চ্যাট এক্সটেনশন ৪৭ শতাংশ, কমিউনিটি ভিউ ১৪৯ শতাংশ এবং ভয়েস-ওভার কল ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এশিয়া প্যাসিফিকের দেশগুলোতে ভাইবার গ্রুপে বার্তা প্রেরণ অনেক বেড়েছে, যেমন: শ্রীলঙ্কায় এ সংখ্যা ৯১ শতাংশ এবং ফিলিপাইনে ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

টেক শহর  : ফেইসবুকের সঙ্গে সকলপ্রকার ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা ছিন্নের কারণ কী ? ২০২০ সালে ভাইবারের মূল মাইলফলকগুলো কী ছিল?

জামেল আগাওয়া : আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমাদের মূল্যবোধগুলো ফেইসবুকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কারণ তারা সত্যের পক্ষে কথা বলেনি এবং উগ্র ও বর্ণবাদী বক্তব্যের সময় তারা উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। কমিউনিটি এবং ব্যবহারকারীদের প্রতি আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই আমরা ফেইসবুকের সঙ্গে আমাদের সকল ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছি।

২০২০ সাল আমাদের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে, আমাদের ধারণা পরিবর্তন করেছে এবং নানা বিষয়ের সত্যকে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। এই সময়ে গ্রুপ ভিডিও কলে মানুষের অংশগ্রহণ ২০ জন পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে, গুজব মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে একযোগে কাজ করেছে, অনেক ব্যবসায় চ্যাটবটের মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা সহ নানা কিছু করেছে।

ভাইবার মেসেজিং -এর বাইরে এর কার্যক্রমের সম্প্রসারণে চ্যাটবট পেমেন্ট সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ভাইবার ব্যবহারকারীরা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পণ্য এবং পরিষেবাদি ক্রয় করতে পারবেন এবং গুগল পে, অ্যাপল পে এবং অন্যান্য স্থানীয় মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।

টেক শহর : হোয়াটসঅ্যাপের আলোচিত-সমালোচিত সর্বশেষ আপডেট এবং নীতিমালা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী ?

জামেল আগাওয়া : এটি এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার যে, ফেইসবুক বছরের পর বছর ব্যবহারকারীদের তথ্যের অপব্যবহার করে আসছে । হোয়াটসঅ্যাপ সম্প্রতি এর প্যারেন্ট কোম্পানির ফেইসবুকের সাথে ব্যবহারকারীদের তথ্য শেয়ার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এমন একটি সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীদের সমস্ত তথ্য ঝুঁকিতে ফেলতে যথেষ্ট। যে প্রতিষ্ঠান তাদের ‘আপনার গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা’ এমনটি লেখাকে নিজেদের অন্যতম লক্ষ্য বলে দাবি করে এবং ২০১৬ সাল থেকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন (ই২ইই) ব্যবহার করে আসছে, তাদের থেকে এমন একটি কাজ নিতান্তই অপ্রত্যাশিত এবং গর্হিত।

হোয়াটসঅ্যাপের পলিসি ফর ইএমইএ’র পরিচালক নিয়াম সুইনির টুইটারে দেয়া বক্তব্যে তাদের দুমুখো নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি তার টুইটে বলেছেন যে, ইউরোপের ব্যবহারকারীদের অন্তত বিজ্ঞাপনের জন্য তাদের তথ্য ফেইসবুকের সাথে শেয়ার করা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। জিডিপিআরের মত কঠোর নিয়মকানুনের অভাবে বিশ্বের বাকি ব্যবহারকারীদের তথ্য তাদের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না, এই বক্তব্য কি সেদিকেই ইঙ্গিত দেয় না?

এছাড়াও, ব্যাপক সমালোচনার মুখে হোয়াটসঅ্যাপ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে, যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের নীতি এবং লক্ষ্য সম্পর্কে নিশ্চিত নয়।

হোয়াটসঅ্যাপ তাদের ব্লগে ব্যবহারকারীরা কীভাবে ব্যবসার সন্ধান করতে পারে এবং ফেইসবুক ভবিষ্যতে ব্যক্তি অনুসারে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য এই বিজ্ঞাপনের তথ্য ব্যবহার করতে পারে এমনটি উল্লেখ করেছে। হোয়াটসঅ্যাপ আরও বলছে যে, ই২ইই-র কারণে ব্যবহারকারীদের তথ্য ফেইসবুক অ্যাক্সেস করতে পারে না। এটি বিভ্রান্তিকর এবং সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়।

টেক শহর : ডেটা ইকোনমিতে চলমান প্রতিযোগিতায় কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে?

জামেল আগাওয়া : মূল যে ধারণাটি ‘ডেটা ইকোনমি’-কে জিইয়ে রাখে তা হল—তথ্য একটি সম্পদ। তাই, এই ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বিক্রেতা অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছে তথ্য সংগ্রহ, সংগঠিত এবং বিনিময় করতে, যাতে তারা এসব তথ্য বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করতে পারে।

এজন্য অনেক অ্যাপ ডেভেলপার ব্যবহারকারীরা মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে যেসব তথ্য শেয়ার করে, সেসব তথ্য ব্যবহার করে দ্রুত অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছে। তবে, আমি এখানে স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, আমরা ব্যবহারকারীদের তথ্য এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারে বিশ্বাসী নই। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যবহারকারীরা একে অপরের মধ্যে যা শেয়ার করছে তা অবশ্যই তাদের নিজেদের মধ্যেই থাকা উচিৎ।

টেক শহর : সাম্প্রতিক তথ্য গোপনীয়তার মান ও নিয়ম-কানুন মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে যে প্রভাব ফেলছে, তা আপনি কীভাবে দেখেন?

জামেল আগাওয়া : সম্প্রতি তথ্য গোপনীয়তার মান ও নিয়মকানুন নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। কিছু নিয়মকানুনে পরিবর্তন আসায়, অনেক অ্যাপ ডেভেলপার এবং প্রযুক্তিবিদদের কঠিন পরিস্থিতে পড়তে হয়েছে।

কিন্তু ভাইবার এসব পরিবর্তন ও নিয়মকানুনকে ইতিবাচকভাবে দেখছে, কারণ আমরা আসলেই মনে করি ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রি করার মত কোন বস্তু নয়। এ ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্ট অবস্থান যে, আমরা অর্থ উপার্জনের জন্য ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহার করাকে সমর্থন করি না এবং আমরা কখনোই মুনাফা অর্জনের ব্যবস্থা হিসাবে এটি থেকে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করি না।

টেক শহর : ভাইবার তাহলে আয়ের বিষয়টি কোন খাতে গরুত্ব দেবে ?

জামেল আগাওয়া : আমরা আয়ের জন্য একাধিক সৃজনশীল উপায় খুঁজে বের করেছি এবং এগুলো আমাদের জন্য চমৎকার কাজ করছে। অন্যান্য অসংখ্য প্ল্যাটফর্মের মত বিজ্ঞাপন ভাইবারের গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস নয়, বরং আমাদের ব্যবসা হলো মুনাফা বার্তা নিয়ে।

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের কাছে বার্তা প্রেরণের জন্য আমাদের মাসিক ফি প্রদান করে। যেকোনো বার্তা প্রেরণের জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভাইবার দ্বারা যাচাই করা দরকার। বিজ্ঞাপন থেকে আমাদের ২০ শতাংশেরও কম আয় হয়। ব্যবহারকারীদের সম্মতি ব্যতীত ভাইবার কোন পাবলিক ডেটা সংগ্রহ করবে না এবং ভাইবারে ব্যক্তিগত বার্তা এনক্রিপ্টেড রয়েছে বিধায় ব্যবহারকারী ছাড়া অন্য কারও তথ্য দেখার কোন উপায় নেই।

টেক শহর : ২০২০-২০২৪ সালে শিল্প এবং প্রযুক্তি বাজার গতিপ্রকৃতি কেমন হতে পারে বলে মনে করেন ?

জামেল আগাওয়া : ২০২০ সাল বৈশ্বিক বাজারে প্রযুক্তি ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং -এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। উদাহরণস্বরূপ, চ্যাটবটের মতো ভার্চুয়াল সহকারীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চ্যাটবট হচ্ছে এআই-চালিত অ্যাপ্লিকেশন, যা একটি নির্দিষ্ট জিজ্ঞাসার উত্তর দেয়ার জন্য মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা খাত চ্যাটবটের পেছনে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে, যাতে মানুষ সম্পূর্ণভাবে পরিষেবাগুলো সম্পর্কে জানতে পারে।

এটি স্টার্টআপগুলোকে চ্যাটবট এবং মেশিন লার্নিংয়ে বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করছে। অসংখ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে এসব প্রযুক্তির পেছনে স্টার্টআপগুলোর বিনিয়োগ সর্বাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজনেস ইনসাইডারের মতে, চ্যাটবটের বাজার ২০১৯ সালে ২.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ২৯.৭ শতাংশ যৌগিক বাৎসরিক হারে ২০২৪ সালে ৯.৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ৮০ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চ্যাটবট প্রযুক্তি গ্রহণ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সামাজিক দূরত্বের ধারণাটি এই বিকাশের গতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

সমগ্র বিশ্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযুক্ত হয়ে উঠছে। এআই প্রযুক্তিখাতের নির্বিঘ্ন ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

এডি/২০২১/ফেব্রুয়ারি২৪

*

*

আরও পড়ুন