Techno Header Top and Before feature image

১৫৫ কোটি টাকা লাভ রবির

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ১৫৫ কোটি টাকা লাভ করেছে রবি।

২০২০ সালে রবির মোট আয় হয়েছে ৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে বছরটির চতুর্থ প্রান্তিকের ১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা রয়েছে। প্রান্তিকটিতে কর পরবর্তী লাভ ছিলো ৩৯ কোটি টাকা। আর পুরো বছরটিতে অপারেটরটির কর পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৫৫ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অপারেটরটি জানায়, করোনা মহামারী সত্ত্বেও ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে রবির রাজস্ব বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ১ শতাংশ। তবে প্রবৃদ্ধির গতিতে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করেছে মোট আয়ের ওপর নূন্যতম ২ শতাংশ কর।

কোম্পানির আর্থিক ফলাফল সম্পর্কে রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করোনা মহামারীর কারণে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের আয় কমলেও পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবেলা করায়  রবির আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ১৫৫ কোটি টাকা কর পরবর্তী মুনাফার মাধ্যমে বাজারে আমাদের অবস্থান আরো সুসংহত হয়েছে। তবে মোট আয়ের ওপর ন্যূনতম ২ শতাংশ করের কারণে আমরা এখনো কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘নতুন করে দশ বছরের জন্য ১১ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম (৯০০ ব্যান্ড ও ১৮০০ ব্যান্ড) নবায়ন গ্রাহকদের মানসম্পন্ন সেবা প্রদানে রবির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তবে দীর্ঘদিন ধরে ডিডব্লিউডিএম সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতির ব্যাপাটি ঝুলে থাকায় রবি কয়েক হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারছে না যা মানসম্মত সেবার জন্য জরুরি।

বাজারের ভারসাম্যহীন প্রতিযোগিতার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা এসএমপি বিধিমালাগুলোর কার্যকর প্রয়োগ দেখতে পাচ্ছি না। অন্যদিকে রবির ০১৬ সিরিজের নম্বার বিক্রি ও পুনরায় বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশব্যাপী গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি। এ পরিস্থিতি ভারসাম্যহীন বাজার প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন ১৯ লাখ গ্রাহকসহ ২০২০ সালে রবির সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৯ লাখে। যার মধ্যে ৬৯ দশমিক ২ শতাংশ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। গত বছরের তুলনায় ফোরজি গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৭২ দশমিক ৮ শতাংশ।

পারিপার্শ্বিক কারণে ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় এই প্রান্তিকে ভয়েস সেবা থেকে রাজস্বের হার ১ শতাংশ কমেছে। যার ফলে গত প্রান্তিক থেকে এই প্রান্তিকে রাজস্ব কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ। আগের বছরের (২০১৯) তুলনায় রবির ভয়েস সেবায় রাজস্বের হার ৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। যা ভয়েস কল করার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতার প্রতিফলন। অন্যদিকে ডাটা সেবায় রাজস্ব তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ১ শতাংশ এবং গত বছরের (২০১৯) তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে।

গত প্রান্তিকের তুলনায় ইবিআইটিডিএ ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। তবে পুরো বছরের বিবেচনায় ইবিআইটিডিএ ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। চতুর্থ প্রান্তিকে ইবিআইটিডিএ মার্জিন ছিলো ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ, যা তৃতীয় প্রান্তিকের  তুলনায় ১ পার্সেন্টেজ পয়েন্ট (পিপি) কম। ২০২০ সালের ইবিআইটিডিএ মার্জিন হলো ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০১৯ সাল থেকে ৪ দশমিক ১ পিপি বেশি।

২০২০ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে রবি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে ১ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা, যা ওই প্রান্তিকের মোট রাজস্বের ৭৭ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২০ সালে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মোট ৪ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা জমা দিয়েছে রবি যা ওই বছরের মোট রাজস্বের ৫৬ শতাংশ।

চতুর্থ প্রান্তিকে ৬৫৭ কোটি টাকা মূলধনী বিনিয়োগসহ ২০২০ সালে রবির মোট মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ ২ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ওই বছর ৪ হাজার ২৬৩টির বেশি ফোরজি সাইট স্থাপন করেছে রবি। ২০২০ সালের শেষ নাগাদ রবির নেটওয়ার্ক সাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৬১টি’তে যার মধ্যে ৯৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ ফোরজি সাইট।

এদিকে কোম্পানির বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যত অগ্রগতির লক্ষ্যে মূলধনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২০ সালের শেয়ারের ওপর কোনও লভ্যাংশের সুপারিশ করেনি রবির পরিচালনা পর্ষদ। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এডি/২০২১/ফেব্রুয়ারি১৬

*

*

আরও পড়ুন