মুখ দিয়ে গেইম খেলেও সেরা

ক্রিস স্কট। ছবি : বিবিসি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ক্রিস স্কট পেশায় ছিলেন স্কাইডাইভিংয়ের প্রশিক্ষক।

২০১৪ সালে ১৭৫ ফুট উচ্চতা থেকে নামতে গিয়ে  হঠাৎ আসা ধুলিঝড়ে তার প্যারাশুট অকেজো হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তার প্রশিক্ষণার্থী ও সহযাত্রী গ্যারি মেসিনা। কপালের জোরে বেঁচে ফিরলেও ঘাড় ভেঙে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন স্কট। ১১ দিন অবচেতন ছিলেন তিনি। জ্ঞান ফেরার পর চলাচলের জন্য ভরসা করতে হয় জয়স্টিক যুক্ত হুইলচেয়ারের উপর।

এরপর মাউন্ট সিনাই হসপিটালে পুর্নবাসন কেন্দ্রে তার পরিচয় হয় ডাক্তার ডেভিড পাতরিনোর সঙ্গে। স্কট যখন জীবনের মানে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তখন ডেভিডই তাকে সাহায্য করেন। জানতে চান, কী করতে ভালো লাগে। ভিডিও গেইমিংয়ের কথা জানালে হাসপাতালেই প্লেস্টেশন ৪ এ বাস্কেট বল গেইম এনবিএ খেলার ব্যবস্থা করেন ডেভিড। সেন্সর যুক্ত বিশেষ কোয়াডস্টিকের মাধ্যমে মুখ দিয়ে গেইম খেলতে শুরু করেন স্কট। তার দক্ষতা দেখে টিম গঠন করে ইস্পোর্টস টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার কথা মাথায় আসে পাতরিনোর।

Techshohor Youtube

মাউন্ট সিনাই হসপিটালে আরও কয়েকজন শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিকে ভিডিও গেইম খেলার আহবান জানান তিনি। এতে অনেকেই সাড়া দেন। এরপর টুনার্মেন্টের জন্য ৮ জনের একটি দল গঠন করে অনলাইনে গেইম খেলার অনুশীলন করাতে শুরু করেন তিনি। ‌আলাদাভাবে তারা কল অব ডিউটি, লিগ অব লেজেন্ডস ও আমেরিকান ফুটবল মেডেন এনএফএল খেলেন। দলবদ্ধভাবে খেলার সময় তারা ছিলেন দুর্দান্ত। অনেক সময় তারা সম্পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তিদের হারিয়ে দিতেন। অপর প্রান্তে যে শারীরিকভাবে অক্ষমরা আছেন তা অনেকেই বুঝতেন না।

টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ২০১৯ সালে কোয়াড গড নামের একটি দল গঠন করেন তারা। প্রতিযোগিতা শুরুও হয়। কিন্তু সেখানে খেলতে পারেননি স্কট। বুকের ইনফেকশনে হঠাৎ মৃত্যু হয় তার। তাকে ছাড়াই ৯৯ টি দলের সঙ্গে খেলে টুর্নামেন্ট চতুর্থ স্থান অর্জন করে ‘কোয়াড গড’ গেইমিং দলের সদস্যরা।

এরপরে তারা ই-স্পোর্টসে নিয়মিতভাবে অংশ নিতে থাকেন। ফোর্টনাইট খেলায় অর্জন করেন বিশেষ দক্ষতা।

তাদের কথা গেইমিং কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়লে ফান্ডিং আসতে শুরু করে। আগামীতে বিভিন্ন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ানশিপে খেলার পাশাপাশি ২০২৪ সালের অলিম্পিকেও অংশ নিতে চান তারা।

*

*

আরও পড়ুন