Techno Header Top and Before feature image

অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, উল্টো ফেইসবুককে দোষারোপ বাংলাদেশী দুই সংগঠনের

omputer-hacker-screen-techshohor
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নিজেদের বিরুদ্ধে অ্যাকাউন্ট হ্যাক এবং ম্যালওয়্যার ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে উল্টো ফেইসবুককেই দোষারোপ করছে বাংলাদেশের দুই সংগঠন।

সংগঠন দুটি বলছে, ফেইসবুকের এই অভিযোগ অযৌক্তিক এবং ঢালাওভাবে করা হয়েছে। এমন অভিযোগ করার আগে তাদের কাছে কোনো কিছু জানতে চাওয়া হয়নি, বক্তব্য নেয়া হয়নি। তারা কী প্রমাণ পেয়েছে তাও দেয়া হয়নি।

দেশের অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন- সিআরএএফ এবং ডনস টিমের বিরুদ্ধে সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, প্রবাসী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগ আনে ফেইসবুক।

শুক্রবার সকালে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ এ দুটি সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায়। তারা বলছে, গ্রুপগুলো ফেইসবুক ব্যবহার করে ম্যালওয়্যার ছড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার মত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলো।

ক্র্যাফের প্রেসিডেন্ট জেনিফার আলম টেকশহরডটকমকে জানান, ‘আমরা কোনো হ্যাকিং গ্রুপ না। আমরা বিনামূল্যে মানুষকে সাইবার ক্রাইম, হ্যাকিং ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন করে থাকি। আমাদের সম্পর্কে ফেইসবুুককে কেউ ভুল বার্তা দিয়েছে।’

‘এমন একটা অভিযোগ করার আগে ফেইসবুক আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। দেশে ফেইসবুকের কোনো অফিস নেই, কোনো প্রয়োজনে আমরা কোনোরকম যোগাযোগও করতে পারি না। আমাদের বিরুদ্ধে কী প্রমাণ তারা পেয়েছে তাও তারা অবহিত করেনি। আমরা দেশের আইনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবো এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ফেইসবুকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইবো।’ বলছিলেন জেনিফার আলম।

তিনি বলেন, আমাদের নিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কোনো অভিযোগ করেনি, কোনো তারকা-সেলিব্রেটিরা অভিযোগ করেনি। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে কোথাও না কোথাও তো অভিযোগ বা প্রশ্ন আসতো।

ডনস টিমের বিভাগীয় প্রধান এইচ আর সোহাগ টেকশহরডটকমকে বলেন,
‘ফেইসবুক যে অভিযোগগুলো করেছে তার সবগুলোই অযৌক্তিক। ফেইসবুক দাবি করেছে আমরা ধর্মীয় উস্কানিমূলক ও সংখ্যালঘুদের নিয়ে আক্রমনাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করি যা সম্পূর্ণ ঘৃণিত একটি অভিযোগ এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণও দিতে পারবে না তারা।’

‘হ্যাকিং শব্দটির পূর্বে-পরে কোনো বাক্য না দেখে হ্যাকিং লেখা থাকলেই সেটা কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের বাইরে বা অযোক্তিক তা বলা যাবে না। ফেইসবুক যে সকল অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নিয়েছে তার সত্যতা কতটুকু এ বিষয়ে প্রমাণ চাইবার অধিকার আমরা রাখি এবং এর ফলশ্রুতিতে আমরাও ফেইসবুকের নিকট সত্যতা জানতে চাইবো’ বলছিলেন তিনি।

সোহাগ বলেন, ‘ফেইসবুক কি ধরণের কিওয়ার্ডভিত্তিক ডাটা ও আইপি অ্যানালাইসিস করে আমাদের অনেকের আইডি নিষ্ক্রিয় করেছে সেটা সম্পর্কে আমরা এখনও অবগত নই।

‘তবে ডনস টিমের সাথে কোনোভাবে সম্পৃক্ত নেই এমন শতাধিক আইডি গতকাল থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত কল পেয়েছি আমরা। তাহলে ফেইসবুক কিসের ভিত্তিতে এ সকল আইডিগুলো বন্ধ করেছে এবং তাদের অ্যানালাইসিস কতটুকু ফলপ্রসু হয়েছে সেটা নিয়েও অবশ্যই প্রশ্ন থেকে যায়।’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে ফেইসবুকের নিউজরুমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তারা স্থানীয় অধিকারকর্মী, সংবাদিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিনিধি, এমনকি প্রবাসে থাকা কারও কারও অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত।

ফেইসবুক ওই প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশের এ দুটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ভুয়া অ্যাকাউন্ট, মেধাস্বত্ত্ব চুরি, অশ্লীলতা ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে ফেইসবুককে রিপোর্ট করত। সেই সঙ্গে তারা ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট ও পেইজ হ্যাক করত। কিছু ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেগুলো নিজেদের কনটেন্ট ছড়ানোর মত কাজে ব্যবহার করত।

ফেইসবুক বলছে, তারা প্রমাণ পেয়েছে যে, ইমেইল এবং ডিভাইস হ্যাকিংয়ের পর ফেইসবুকের অ্যাকাউন্ট রিকভরি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তারা ব্যবহারকারীদের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতো।

ইতোমধ্যে এ দুটি সংগঠনের এই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার কথা জানিয়েছে ফেইসবুক। গ্রুপগুলোর অ্যাকাউন্ট ও পেইজ ডিলিট করে দেয়া হয়েছে।

এডি/২০২০/ডিসেম্বর১১/১৬২০

*

*

আরও পড়ুন