Techno Header Top and Before feature image

উষ্ণতা বাড়াচ্ছে ফ্রিজ ও এসি

এসি। ছবি : বিবিসি
Sheikhrussel day

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্লোবাল ওয়ার্মিং যে হারে বাড়ছে তাতে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ সমুদ্রের তলে চলে যাবে। দক্ষিণ মেরুর বিশাল বিশাল বরফ খণ্ড গলতে শুরু করলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঠেকাতে অনেক ধরণের পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী থেকেও উৎপন্ন হচ্ছে এইচএফসি গ্যাস। ফ্রিজ ছাড়া খাবার ঠিক থাকবে না, এসি ছাড়া গরমকাল হবে আরও অসহনীয়।

এক সময় ফ্রিজে ব্যবহৃত হতো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি)। এই গ্যাস ওজন লেয়ারে ছিদ্র করে। ফলে ১৯৮৭ সালে জলবায়ু চুক্তির আওতায় ২০০ দেশ সিএফসি গ্যাস ব্যবহার করা থেকে সরে আসে।

তবে সিএফসির বদলে শুরু হয় হাইড্রোফ্লোরো কার্বন (এইচএফসি) ও হাইড্রোক্লোরোফ্লোরো কার্বন (এইচসিএফসি) এর ব্যবহার। এই দুটি গ্যাস ওজন লেয়ার ফুটা করে না, তবে পরিবেশের উষ্ণতা বাড়ায়।

ফ্রিজ, গাড়ির এয়ার কন্ডিশনার ও এয়ার কন্ডিশনার (এসি) অনেক পুরানো হয়ে গেলে ভেতরে থাকা (এইচএফসি) ও (এইচসিএফসি) গ্যাস পরিবেশে অনেকাংশে ছড়িয়ে পড়ে। ই-বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া ফ্রিজ থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ গ্যাস নির্গত হয়। তাই অকেজো পুরানো ফ্রিজগুলো বাতিল করতে হবে যথাযথভাবে। ক্যামিকেল বের করে  রিসাইকেল করে ফ্রিজে নানান যন্ত্রাংশকে অন্য কাজে ব্যবহার করতে হবে।

এনভায়রনমেন্ট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (ইআইএ) পরিবেশবাদী ক্লেয়ার প্যারি বলেন, এখন পর্যন্ত সিএফসি, এইচএফসি ও এইচসিএফসি গ্যাস মোট গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ১১ শতাংশের জন্য দায়ী।

গ্রীন স্পেসের চিফ ক্লাইমেট সাইন্টিস্ট ডুগ পার জানিয়েছেন, এইচএফসি গ্যাস পরিবেশে ২৯ বছর পর্যন্ত রয়ে যায়। এইচএফসি উৎপন্ন করার পর গ্যাসটি সমস্যায় পরিণত হয়।

তবে দিন দিন রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার বাড়ছে। আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে এসব ইলেক্ট্রনিক্সের সংখ্যা ৩.৬ বিলিয়ন থেকে ৯.৫ বিলিয়ন হয়ে যাবে।

তবে সমস্যা হচ্ছে, গরীব দেশগুলো ধনী হতে শুরু করলে এসির ব্যবহার আরও বাড়বে। এসির বিকল্প হিসেবে পরিবেশ বন্ধব বিল্ডিং তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে।

২০১৬ সালে এইচএফসির ব্যবহার কমাতে ১৫০ দেশ কাইগালি অ্যামেন্ডমেন্টে সই করে। এই চুক্তিতে ২০৪৭ সাল নাগাদ গ্যাসটির ব্যবহার ৮০ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে এই শতাব্দীর শেষে বিশ্বের তাপমাত্রা ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমানো সম্ভব হবে।

বিবিসি অবলম্বনে এজেড/ ডিসেম্বর ০৯/২০২০/১১৫৫

আরও পড়ুন

প্রযুক্তি সচেতনতা: একটি ইমেইল কম পাঠিয়েও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ভূমিকা রাখা যায়

২০৩০ থেকে পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি চলবে না যুক্তরাজ্যে

জলবায়ু রক্ষায় অভিনব উদ্যোগ

*

*

আরও পড়ুন