Techno Header Top and Before feature image

হুয়াওয়ের প্রতি বাইডেনের নীতি কেমন হবে?

ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়া

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্বাচিত হওয়ার পর প্রযুক্তি বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি হচ্ছে হুয়াওয়ের প্রতি নতুন প্রশাসনের মনোভাব কেমন হবে?

সম্প্রতি একটি গবেষণামূলক প্রতিবেদনে বহুল আলোচিত এই বিষয়টির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন পলিটিকো। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেন প্রশাসন হুয়াওয়ের প্রতি নমনীয় না হয়ে আরও কঠোর হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেনের প্রশাসনে কথা কম বলে কাজ বেশি করার নীতিতে চলবে এবং হুয়াওয়ের দিকে বেশি নজর না দিয়ে তারা বিকল্প প্রযুক্তি তৈরিতে বেশি নজর দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ক্যারিয়ারগুলোর বাণিজ্য বিষয়ক প্রধান স্টিভ বেরি সম্প্রতি বাইডেনের ট্রান্সিশন টিমের সঙ্গে কাজ করেছেন। বাইডেন প্রশাসনের মধ্যে হুয়াওয়ের অনুকূল কোনও মনোভাব তিনি দেখেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিধরাও হুয়াওয়ের সঙ্গে সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগ্রহী নন। তারা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের প্রতি নির্ভরশীল করে তোলে এমন যে কোনও নীতির বিরোধিতা করবেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর মনোভাবও তাই। অস্ট্রেলিয়া ও জাপান শুরুতেই হুয়াওয়েকে ব্যান করে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সও এই দলে যোগ দেন। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোও হুয়াওয়ের নেটওইয়ার্ক উপকরণের উপর সন্দেহ পোষণ করছে।

কানাডা, জার্মানি ও স্পেন এখনও নিশ্চিত নয় হুয়াওয়েকে ঠিক কতটা ব্যন করা উচিত। কানাডার সিদ্ধান্ত খুব সহসাই জানানো হবে বলে জানা গেছে। তবে বার্লিন ও মাদ্রিদের সঙ্গে হুয়াওয়ের দেনদরবার এখনও চলছে। ধারনা করা হচ্ছে ইউরোপের এই দুটি দেশকে হুয়াওয়ে নিজ দলে ভেড়াতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নিকট ভবিষ্যতে হুয়াওয়েসহ চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তেমন কোনও ভবিষ্যৎ নেই বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে এতদূর নিয়ে গেছে যে এরপর চীনের সঙ্গে কাজ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

আর যুক্তরাষ্ট্র যদি হুয়াওয়ের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে নমনীয় হয়ও তবু যুক্তরাজ্য আর হুয়াওয়ের সঙ্গে কাজ করবে না বলে জানিয়েছে। একই মনোভাব আছে আরও অনেক দেশের মধ্যেই। ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের নেতাদের মধ্যে চীনা প্রযুক্তির প্রতি এক ধরনের ভীতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যা সামনের দিনগুলোর বিশ্বাস অর্জনের ক্ষেত্রে হুয়াওয়ের প্রতিকূলে কাজ করবে।

এদিকে, কিছুটা দেরিতে হলেও চীন বাইডেনের প্রশাসনকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আশা করছে যে নতুন প্রশাসন পারস্পরিক সহযোগীতার দিকে জোর দেবে এবং ভিত্তিতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের দিগন্তকে আরও প্রশারিত করতে একসঙ্গে কাজ করবে।

বাইডেন প্রশাসন যদি চীনের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতি আরও বিরূপ আচরণ করে তাহলে চীন বাণিজ্য যুদ্ধে আরও আগ্রাসীভাবে যুক্ত হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে এবং তারাও আস্তে আস্তে মার্কিন পণ্যের বিকল্প খুঁজতে শুরু করবে।

২০১৯ সালে নেটওয়ার্ক উপকরণে ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান থাকার অজুহাতে হুয়াওয়েকে যুক্তরাষ্ট্রতে নিষিদ্ধ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, ফাইভজি প্রযুক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো থেকে অনেক এগিয়ে ছিলো হুয়াওয়ে। তাই ধারনা করা হয় হুয়াওয়ের প্রযুক্তি উৎকর্ষের গতিকে মন্থর করে দিতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

পলিটিকো অবলম্বনে এমআর/ডিসেম্বর ৫/২০২০/১০৫০

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হুয়াওয়েকে দেউলিয়া করা: রেন ঝেংফেই

গুগলের সঙ্গে আপোস চায় না হুয়াওয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে হুয়াওয়ের ফ্ল্যাগশিপ চিপ তৈরি বন্ধ!

*

*

আরও পড়ুন