Techno Header Top and Before feature image

ফুটবল জাদুকরের বিদায়ে ফেইসবুকে শোক

ফুটবলের জাদুকর দিয়েগো ম্যারাডোনা। ছবি : ইন্টারনেট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফুটবল প্রেমীদের কাছে তিনি ফুটবলের জাদুকর। যারা তার খেলা দেখেননি তারাও তার ভক্ত। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে তাই সবার হৃদয়ে চলছে হাহাকার।

আর্জেন্টাইন সাপোর্টার তো বটেই, কট্টর ব্রাজিলের সাপোর্টারও দীর্ঘ স্ট্যাটাসে ম্যারাডোনাকে স্মরণ করছেন। স্মৃতিচারণ করছেন ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের।

ক্রিকেটের সুপারস্টার মাশরাফি বিন মর্তুজা তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক পাতায় লিখেছেন, শোকের পরে শোক চলছে। তোমার থেকে বড় সুপারস্টার আমার চোখে আর কেউ ছিলো না, আর আসবেও না। ব্যক্তি জীবনে তুমি আমার একমাত্র সুপারস্টার ছিলে যাকে আমি একবার হলেও সামনে থেকে দেখতে চেয়েছিলাম। তোমার বা পায়ের আঁকা নিখুঁত গোলের ছবি গুলো মনের ক্যানভাসে থেকে যাবে আজীবন।

ভালো থেকো ওপারে যাদুকর।

দি ড্রিবলিং মাস্টার

দিয়াগো আরমান্দো মারাদোনা।

বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ফেইসবুকে লিখেছেন, এমন কয়েকজন খেলোয়াড় থাকে যাদের জনপ্রিয়তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে যায়। যারা সব প্রজন্মের কাছে কিংবদন্তী হয়ে উঠেন। দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা এমনি একজন খেলোয়াড় ছিলেন। খেলার মাঠে তার অবিশ্বাস্য প্রতিভা আর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার কথা না বললেই না। খেলার মাঠে তিনি সবসময়ই পরিচয় দিয়েছেন বুদ্ধিমত্তার। তাঁর মত কিংবদন্তী খেলোয়াড় ছিলো বলেই, ফুটবল আমাদের এত আনন্দ দেয়। বিদায়, দিয়েগো!

অন্য এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, মাঝমাঠ থেকে এক ছুটে দুঙ্গা ও এক ডিফেন্ডারকে ছিটকে দিয়ে ক্যানিজিয়াকে দেওয়া বুক কাঁপানো সেই পাস। সময়টা ১৯৯০, বিশ্বকাপ দ্বিতীয় পর্ব। কষ্টের সেই প্রহরে সেই ছোট্টবেলায় এ দৃশ্য এখনও স্মৃতিতে অটুট। ক্যারেকা ও মুলারের সব চেষ্টা ব্যর্থ তার বাঁ পায়ের এক জাদুতেই। তাই সেই রাত ছিল আরও বিষন্ন। সকালটা বিষিয়ে তুলেছিল বন্ধুরা। আবছা আবছা আজও মনে বাজে সেসব কথা।

এরপর থেকে প্রতিপক্ষের চোখে দেখলেও তাকে জেনেছি আরও গভীরভাবে। ফুটবলের সৌন্দর্য্য এক আশ্চর্য ম্যারাডোনা। বিদায় ফুটবল ঈশ্বর

আরেক ব্যবহারকারী লেখেন, হয়তো খেপাটেপনার জন্যই কোটি ভক্ত তার। লোকটা ভালো ফুটবল খেলতেন।

ব্রাজিল দলের সাবেক কিংবদন্তী ফুটবলার পেলে ইনস্টাগ্রামের পাতায় বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ম্যারাডোনার একটি ছবি দিয়েছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, খুবই শকিং খবর। এমন একজন বন্ধুকে আজ হারিয়ে ফেললাম। আমার ঈশ্বর তার পরিবারকে শক্তি দিন। আমি নিশ্চিত, একদিন আমরা একসঙ্গে আকাশে ফুটবল খেলব।

ম্যারাডোনার জন্ম ১৯৬০ সালে। আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১টি ম্যাচে তিনি ৩৪টি গোল করেন। চারটি বিশ্বকাপে তার পায়ের জাদু দেখেছে বিশ্বাবাসী।

১৯৯১ সালে ডোপ টেস্টে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এরপর ১৫ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় তাকে। ১৯৯৭ সালে ৩৭ বছর বয়সে তিনি পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেন। ম্যারাডোনা ২০০৮ সালে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দ্বায়িত্ব নেন। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে আর্জেন্টিনা বিদায় নেয়। এরপরই কোচের পদ থেকে অবসর নেন ম্যারাডোনা।

তবে জীবনের একটা বড় সময় জুড়ে তিনি মাদক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই নানান শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার মস্তিষ্কের জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণ করা হয়। এরপর হাসপাতাল থেকে তিনি ছাড়া পান।

বুধবার বুয়েনাস আয়ার্সে নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ৬০ বছর বয়সী দিয়েগো ম্যারাডোনা।

এজেড/ নভেম্বর ২৬/২০২০/১০.৫৫

আরও পড়ুন

সুস্থ থাকার খবর ইনস্টাগ্রামে দিলেন ম্যারাডোনা

*

*

আরও পড়ুন