Techno Header Top and Before feature image

২৩০ ধারায় পরিবর্তন ইন্টারনেটকে বদলে দেবে

বাঁ থেকে, টুইটারের সিইও জ্যাক ডরসি, অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই ও ফেইসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়া
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: গুগল, ফেইসবুক ও টুইটারের প্রধান নির্বাহীদের গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে এক সিনেট শুনানিতে ব্যাপক জেরা করা হয়েছে। শুনানিটির বিষয় ছিলো দেশটির কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি আইনের ২৩০ ধারা সংশোধনীর বিষয়ে।

ফেইসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ, টুইটারের সিইও হ্যাক ডরসি ও অ্যালফাবেটের (গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি) সিইও সুন্দর পিচাই ২৩০ ধারার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন যে এই ধারায় কোনও পরিবর্তন ইন্টারনেটকে ব্যাপকভাবে বদলে দেবে। মানুষ আর আগের মতো ইন্টারনেটে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবে না। অপরদিকে, সিনেটরদের যুক্তি ছিলো যে এই ধারা প্রযুক্তি জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর হাতে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দিয়েছে যার অপব্যবহার করে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত বিষয়ক একটি প্রতিবেদনকে টুইটার সরিয়ে দিলে রিপাবলিকানরা ২৩০ ধারায় পরিবর্তনের জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়। শুনানির এক পর্যায়ে রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ টুইটারের সিইও জ্যাক ডরসিকে গালমন্দও করেন এবং কড়া ভাষায় জবাব চান যে কোন ক্ষমতাবলে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যে, সংবাদমাধ্যমগুলো কোন সংবাদ প্রচার করবে এবং কোনটি করবে না।

একটি আইনের একটি ধারা নিয়ে এতো বিতর্ক কেন? কেনই বা এই আইনের পরিবর্তন ইন্টারনেটকে বদলে দিতে সক্ষম?

যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি আইনের ২৩০ ধারায় বলা আছে “No provider or user of an interactive computer service shall be treated as the publisher or speaker of any information provided by another information content provider”। সহজভাবে যার অর্থ হচ্ছে যদি কেউ ইন্টারনেট কিছু লিখেন তাহলে তার দায় দায়িত্ব কেবল তারই। এতে প্ল্যাটফর্মকে কোনওভাবে দায়ী করা যাবে না।

১৯৯৬ সালের এই আইনটির বিরুদ্ধে এখন দুই পক্ষেরই আপত্তির সীমা নেই। ডেমোক্রেটরা মনে করেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ ছড়ালেও এই আইনের কারণে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে দায়ী করা যাচ্ছে না। তারা মনে করেন ইন্টারনেটে আরও মডারেশান দরকার। অপরদিকে রিপাবলিকানরা মনে করেন এই আইনের শক্তিতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কোনও দায় বহন না করেই রক্ষণশীল মতধারাকে দমন করে যাচ্ছে। রিপাবলিকানরা মনে করেন ফেইসবুক, টুইটার সব তাদের প্রতি রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বিমাতাসুলভ আচরণ করছে।

এদিকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ২৩০ ধারাকে খুব পছন্দ করেন। কারণ, এই ধারা তাদেরকে অসীম শক্তি প্রদান করে যা তাদের ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরী। যদিও দিনকে দিন ইন্টারনেটে মডারেশান ও ট্রাস্টের বিষয়টি ব্যাপকভাবে গতি পেয়েছে। ফেইসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গও মনে করেন ইন্টারনেটে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছুটা মডারেশান থাকা উচিত। যদিও তিনি উল্লেখ করেননি সেটি কেমন হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই টেক জায়ান্টদের অসীম ক্ষমতা খর্ব করার বিষয়ে ব্যাপক প্রচার করেছে রিপাবলিকানরা। এর মধ্যে কোভিড১৯ মহামারির সময়ে টুইটার ট্রাম্পের টুইটকে ফিল্টার করলে সেটি আরও গতি পায়।

যদি ২৩০ ধারা পরিবর্তন করে কনটেন্ট ও মডারেশানের জন্য প্ল্যাটফর্মকে দায়ী করা হয় তাহলে পুরো ইন্টারনেট জগতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ, ইন্টারনেটের কলেবর এখন এতোটাই বৃহৎ হয়েছে যে এখন আর এটির মডারেশানের ক্ষমতা কোনও দেশের সরকারের নেই। তাই, এই দায়িত্বটি প্ল্যাটফর্মকে দেওয়াই ভালো। আর মডারেশনের জন্য প্ল্যাটফর্মকে দায়ী করা হলে প্ল্যাটফর্মগুলো মডারেশানের দায়িত্ব নেবে না।

তাই, অনেকেই মনে করেন যদি ২৩০ ধারাকে বিলোপ করে দেওয়া হয় তাহলে ইন্টারনেট অতিমডারেশানের ফাঁদে পড়ে এক ধরনের ম্যাগাজিনের মতো হয়ে উঠবে অথবা একটি নৈতিকতাবহির্ভূত স্থান হয়ে উঠবে যা সভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ হবে।

তাই কেউ কেউ বলছেন, মডারেশানের জন্যে একটি পলিসি হওয়া জরুরী। এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে কিছু কিছু দেশ এই ধরনের পলিসিকে নিজেদের সুবিধার্থে কাজে লাগাতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের পলিসিতে পরিবর্তন এলে বিশ্বব্যাপি যে এর প্রভাব পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এমআর/অক্টোবর ২৯/২০২০/২২১০

আরও পড়ুন –

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ফেইসবুক-টুইটারের ভূমিকায় অসন্তুষ্টি

প্রেস সচিবের অ্যাকাউন্ট বন্ধে টুইটারকে ট্রাম্পের হুমকি

সোশ্যাল মিডিয়া কতটা পক্ষপাতদুষ্ট?

প্রথমবারের মতো ট্রাম্পের পোস্ট সরালো ফেইসবুক

*

*

আরও পড়ুন