Techno Header Top and Before feature image

নারী উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ টাকার ঋণ দিতে বললেন স্পিকার

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নারী উদ্যোক্তাদের বিনা সুদে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা দিতে বললেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। 

করোনার সময়ে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ঋণসহ উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, ব্যাংকিং সহায়তা, যথাযথ আইন ও নীতি প্রণয়ন, প্রধানমন্ত্রীর বাস্তবায়িত ১০০টি অর্থনৈতিক জোনে বিশেষ প্লট বরাদ্দ দেয়ার কথা বলেন। 

শনিবার উইমেন ই-কমার্স অন্ট্রাপ্রেনিওরশিপ সামিটের ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন স্পিকার।

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু গুরুতর চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা বাসায় অবস্থান করায় নারীদের পারিবারিক দায়িত্ব বেড়ে গেছে, অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতিতে মা হিসেবে নারীদের সহায়তা করতে হচ্ছে, নারী উদ্যোক্তাদের পূর্বে নিযুক্ত করা কর্মচারীদের বেতন ও গৃহীত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে।’

স্পিকার বলেন, ‘ই-কমার্সে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে অনলাইন পেমেন্ট, কর ও শুল্ক অবকাঠামো উপযোগী করতে হবে। প্রযুক্তিভিত্তিক মডেলগুলোকে উন্নত করার মাধ্যমে ই-কমার্স সেক্টরকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে যেন নারী উদ্যোক্তারা এর সুফল আরও বহু গুণে পেতে পারে। নারী উদ্যোক্তাদের অনেক জটিল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়, যা কাম্য নয়।’

‘নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, অপর্যাপ্ত মূলধন, লিঙ্গ বৈষম্য, জ্ঞান ও পরিচালন দক্ষতার অভাব, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তার অভাব, তথ্য প্রাপ্তি ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধায় সীমিত প্রবেশাধিকার ইত্যাদি সমস্যা রয়েছে। ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হবার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীদের নিজস্ব সামান্য সঞ্চয় থেকে বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু নারীরা এ সকল চ্যালেঞ্জকে সম্ভাবনায় পরিণত করে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং নিজেদের প্রচেষ্টায় নারী উদ্যোক্তা হিসেবে যথাযোগ্য স্থান করে নিচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাগণ হাল ছাড়বে না, তারা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখবে।’ বলছিলেন তিনি।

উদ্যোক্তা সংস্কৃতিকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ গড়ে তোলার ভিত্তি উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, গত ১১ বছরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে এখন ১০ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হয়েছে। এর সুফল হিসেবে ১০ লাখ নারী উদ্যোক্তা এবং ১৫ লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে। গ্রামে বসেই সাড়ে ৫ হাজার নারী উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। আগামী ২০৩০ সালে দেশের আইসিটি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশে পৌঁছবে। ২০৫০ সালে সমান-সমান হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন অর্থ নারীর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা উল্লেখ করে ২০২১ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ ইন্টারনেট অ্যাকসেস নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডিসেম্বর নাগাদ ডিজিটাল লেনদেনের ইন্টার অপারেবল সিস্টেম চালু হয়ে গেলে ই-কমার্স খাতে নতুন বিপ্লব সাধিত হবে। বর্তমান ই-কমার্স সাইটকে ভবিষ্যত প্রযুক্তিমুখী করতে প্রযুক্তি সহায়তা দেবে আইসিটি বিভাগ। ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা করা হবে। নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে দেশে উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে।

জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বের এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এসবিকে টেক ভেঞ্চার ও এসবিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবির, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সৈয়দা মুনা তাসনিম, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম কে দোরাইস্বামী।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উই সভাপতি নাসিমা আক্তার নিসা।

এডি/২০২০/অক্টোবর২৪/১৭১০

আরও পড়ুন

উদ্যোক্তা হতে আর্থিক, সামাজিক সহায়তা চান নারীরা

বিপিও খাতের ৪০% নারীদের দখলে

এই সংকটেও আশাবাদী ফেইসবুকভিত্তিক নারী উদ্যোক্তারা

চ্যালেঞ্জ নিতে পারলেই তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীরা নেতৃত্ব দেবে

*

*

আরও পড়ুন