Techno Header Top

ভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসা বদলেছে নেটফ্লিক্সের

নেটফ্লিক্স প্রযোজিত 'দ্য ওল্ড গার্ড' সিনেমায় শার্লিজ থেরন। ছবি : ইন্টারনেট
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : করোনাকালে লকডাউনের প্রভাবে ৩ কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক জুটেছে নেটফ্লিক্সের।

ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটির জন্য এটি একটি রেকর্ড। তবে চূড়ায় পৌঁছালে সেখান থেকে নামতেও হয়। রোলার কোস্টার রাইডের মতো ২০২০ সাল কিভাবে নেটফ্লিক্সের ব্যবসার চিত্র বদলে দিল সেটিই এখানে তুলে ধরা হলো।

চূড়া থেকে নামার পালা

বছরের প্রথম ৩ মাসে সাইটটিতে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬০ লাখ। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের নতুন গ্রাহক জোটে ৩ কোটি ৪০ লাখ। তবে প্রথম ৩ মাসের তুলনায় শেষ ৩ মাসে গ্রাহক সংখ্যা ছিলো খুবই কম। শেষ ৩ মাসে তারা পেয়েছে ২২ লাখ সাবস্ক্রাইবার। নেটফ্লিক্সের গ্রাহক যে কমে যাবে তার পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিলেন বাজার বিশ্লেষকরা। গত এপ্রিলেই তারা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ধীরে ধীরে লকডাউন উঠে গেলে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যাও কমবে। ফলে ভিডিও স্ট্রিমিং সাইটটিও হঠাৎ আসা পরিবর্তনের জন্য তৈরি ছিলো। তাদের অনুমান ছিলো অন্তত ২৫ লাখ গ্রাহক তারা পাবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ লাখ কম সাবস্ক্রাইবার পাওয়ায় শেয়ার মূল্য ৫ শতাংশ কমে নেটফ্লিক্সের।

দ্য ওল্ড গার্ড

গত প্রান্তিকের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা ছিলো শার্লিজ থেরন অভিনীত ‘দ্য ওল্ড গার্ড’। অ্যাকশন ও ফ্যান্টাসি ঘরানার সিনেমাটি মুক্তির প্রথম ৪ সপ্তাহে ৭ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহক সিনেমাটি দেখেন। এছাড়াও, জনপ্রিয় হয়েছে এনালো হোমস, প্রজেক্ট পাওয়ার ও দ্য কিসিং বুথ ২ সিনেমাগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাজার

লকডাউনের মধ্যে নেটফ্লিক্সের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৩ মাসে এশিয়া অঞ্চলে গ্রাহক বেড়েছে ১০ লাখ। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও নেটফ্লিক্সের আয়ের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র। ডলারের বিপরীতে অনেক দেশের মূদ্রার মান কম। ফলে মার্কিনিরাই নেটফ্লিকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত গ্রাহক। 

অরিজিনাল কনটেন্ট

আগামী ১ বছরে নেটফ্লিক্সের তৈরি অসংখ্য কনটেন্ট মুক্তি পাবে। কারণ মহামারী ঠেকানোর জন্য অধিকাংশ দেশেই সিনেমা হল বন্ধ। কোথাও কোথাও হল খুলে দেওয়া হলেও দর্শক নেই। ফলে সিনেমা নির্মাতারা তাদের কনটেন্ট বিক্রির জন্য নেটফ্লিক্সের দ্বারস্থ হচ্ছে।

গ্রাহকরা সবসময় অরিজিনাল কনটেন্ট দেখতে আগ্রহী। তবে এই অরিজিনাল কনটেন্ট তৈরিতে নেটফ্লিক্সের খরচও বেশি হয়। ফলে অরিজিনাল কনটেন্টের সংখ্যা বাড়ালে সাবস্ক্রিপশন ফিও বাড়াতে পারে নেটফ্লিক্স।

প্রোডাকশন বন্ধে লাভ

করোনাভাইরাসের কারণে অনেক কনটেন্ট তৈরির কাজ থেমেছিলো। তবে খরচ বন্ধ থাকায় তাদের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে ক্ষতির মুখ দেখতে হয়নি নেটফ্লিক্সকে। এক প্রান্তিকেই তাদের আয় ৬৪০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ায়, লাভ হয় ৭৯ কোটি ডলার।

বিবিসি অবলম্বনে এজেড/ অক্টোবর ২২/২০২০/১১

*

*

আরও পড়ুন