Samsung IM Campaign_Oct’20

পাসপোর্টের ছবি নিয়েও বর্ণবাদী আচরণ

এলাইনের ছবি ৫ বার বাতিল হয়। ছবি : বিবিসি
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট নীতিমালা মেনে ছবি তুলেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বাদামি বা কালো বর্ণের নাগরিকরা।

অনলাইনে ছবি জমা দেওয়ার পর নানান খুঁত বের করছে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম। শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গরা এই সমস্যায় বেশি ভুগছেন। বিবিসির এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পাসপোর্ট জমা নেওয়ার ওয়েবসাইট স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে ছবির মান যাচাই করে। হোম অফিসের নীতিমালা, অনুযায়ী মুখ ও চোখের পাতা খোলা রেখে সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছবি তুলতে হয়।

এই নিয়ম মানার পরও বাদামি ও কালো বর্ণের ২২ শতাংশ নারীকে বলা হয়েছে তাদের ছবির মান খারাপ। অপরদিকে, সাদা বর্ণের নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ১৪ শতাংশ।

শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের চেয়ে বাদামী ও কালো বর্ণের পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ৬ শতাংশ বেশি ঘটেছে। অর্থাৎ বাদামী ও কালো বর্ণের মানুষদের ক্ষেত্রে সিস্টেমটির ভুল করার হার বেশি।

সেখানে এলাইন ওউসু নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী জানান, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমটি তার ছবি ৫ বার বাতিল করে। প্রতিবারই বলা হয়, তার মুখ হা করা তাই ছবিটি নেওয়া হচ্ছে না অথচ নিয়ম মেনেই ছবি তুলেছিলেন তিনি।

এলাইন বলেন, ওয়েবসাইটের দেওয়া ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি ছবি অ্যাপ্রুভ করাতে পেছেন। তবে এর জন্য তিনি খরচ করতে রাজি ছিলেন না।

তিনি বলেন, অ্যালগোরিদম যদি আমার ঠোঁট চিনতে না পারে তাহলে সেটা সিস্টেমের দোষ, আমার না। সবার ক্ষেত্রেই তো সিস্টেমটির একভাবে কাজ করার কথা, তাই না?

আরেক শিক্ষার্থীকে বলা হয়, ফেইসে আলোর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ফেইস ও ব্যাকগ্রাউন্ডের পার্থক্য ধরা যাচ্ছে না। ছবির মান খারাপ, এমন যুক্তিতে ১০ বার ছবি বাতিল করা হয়।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি একজন উঠতি প্রযুক্তিবিদ। কিভাবে এই সিস্টেমকে পক্ষপাত শেখানো হয়েছে তা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছি।

মেশিন লার্নিং সিস্টেমকে প্রথমে চেহারার আকৃতি কেমন হয়ে থাকে তা শেখানো হয়। অসংখ্য মানুষের ছবি দেখে দেখে সিস্টেমটি চেহারার প্যার্টান চিনতে শুরু করে। পাসপোর্টের ছবির ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গদের চেহারার আকৃতি বেশি করে চেনানো হয়েছে। ফলে ছবিতে বাদামি ও কালো বর্ণের মানুষের চেহারা কম চিনতে পারছে সিস্টেমটি।

ফেইস রিকগনিশন সিস্টেমকে বিভিন্ন বর্ণের মানুষ চিনতে শেখানো হয়নি ফলে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন সংখ্যালঘুরা।

এ বিষয়ে দেশটির পাসপোর্ট অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৯০ লাখ মানুষ এই সেবা ব্যবহার করেছেন। পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়াটি সহজ করতে ফেশিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমটির আরও উন্নতি ঘটানো হচ্ছে। এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

*

*

আরও পড়ুন