Techno Header Top

টিকটক চ্যালেঞ্জের নির্মমতায় ক্ষুব্ধ তারা

নিষ্ঠুরতার শিকার লিজি ভেলাস্কজ ও মেলিসা ব্লেক। ছবি : ইন্টারনেট
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : জীবনে কম অনলাইন বুলিংয়ের শিকার হননি লিজি ভেলাস্কজ। স্কুলে থাকার সময়ও তিনি সবার তীর্যক মন্তব্য হজম করেছেন। তবে ইউটিউব ভিডিওতে যখন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে কুৎসিত মেয়ে বলা হল তখন আর চুপ থাকেননি।

সেই ১৭ বছর বয়স থেকে শুরু। তখন থেকেই প্রতিবন্ধীদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন, লড়াই করছেন বুলিংয়ের বিরুদ্ধে। তবে শত চেষ্টা করেও ট্রলকারীদের দমাতে পারেননি। সম্প্রতি টিকটক অ্যাপে ‘নিউ টিচার চ্যালেঞ্জ’ নামের একটি ট্রেন্ড ভাইরাল হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জে অভিভাবকরা নতুন টিচারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার ভান করেন। টিচারের প্রোফাইলে দেওয়া থাকে লিজি বা অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ছবি। এই ছবি বাচ্চাকে দেখালে তারা চমকে যায় বা ভয় পায়। তাদের এই প্রতিক্রিয়া দেখে মজা নেওয়াই এ চ্যালেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য।

টিকটক ভিডিওতে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভিজি। তিনি বলেন, অন্য সবার মতো দেখতে নয় এমন ব্যক্তিকে দেখে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক এটা আপনার বাচ্চাকে শেখাবেন না। প্লিজ। এই ট্রেন্ড বন্ধ হওয়া দরকার। আমরা মানুষ, অনুভুতি আমাদেরও আছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষ ‘নিউ টিচার চ্যালেঞ্জের ছবি বা ভিডিও সম্বলিত পোস্ট রিমুভ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এছাড়াও, অনেকে এই ভিডিওর বার্তা পাবেন না তাই চ্যালেঞ্জটি বন্ধ করার কোনো তাগিদও তাদের থাকবে না।

৩১ বছর বয়সী লিজি জন্মগতভাবেই খুব বিরল একটি রোগে ভুগছেন। এ কারণে কখনওই তার ওজন ২৯ কেজির বেশি হয়নি। এর প্রভাব পড়েছে তার শারীরিক গঠনে। রোগের কারণে একটি চোখও হারিয়েছেন তিনি।

ফ্রিম্যান-সেলডন সিন্ড্রম নামের এক জিনগত রোগে আক্রান্ত আরেক নারী মেলিসা ব্লেক বলেন, তার কোনো টিকটক অ্যাকাউন্ট নেই। কিছু বন্ধু তাকে এই চ্যালেঞ্জের কথা জানায়। তিনি বলেন, যারা এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিচ্ছে তারা ভুলে যাচ্ছে ছবিটা একজন মানুষের। এটা তাদের কাছে অন্যকে নিয়ে হাসাহাসি করার উপলক্ষ্য মাত্র। কাজটা করে একজন মানুষকে নয়, বরং সব প্রতিবন্ধী মানুষকে হেয় করছেন আপনি।

লিজি ও মেলিসা দুজনেই অনলাইনে ভালো মানুষের দেখাও পেয়েছেন। অনেকে সম্পূর্ণ অপরিচিত হয়েও তাদেরকে সমর্থন দিয়েছেন।

লিজির বার্তা সম্বলিত টিকটক ভিডিওটি দেখা হয়েছে ২০ লাখেরও বেশি বার। এই ভিডিও শেয়ার করার সময় অনেকেই তার নাম ট্যাগ করছেন। বাচ্চাকে সমব্যথী হতে বলছেন। এসবও অনেক অনুপ্রেরণা দিচ্ছে লিজিকে।

সোশাল মিডিয়াতে সাইবার বুলিং বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা তিনি আশা করেন না। তবে মানুষকে কিছুটা হলেও সহমর্মী করে তুলতে পারলে নিজেকে সফল দাবি করতে পারবেন লিজি।

সিএনএন অবলম্বনে এজেড/ সেপ্টেম্বর ০২/২০২০/১৫২৫

*

*

আরও পড়ুন