যে কারণে মেইলের যুগে ফ্যাক্স পাঠালেন মেসি

আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। ছবি : ইন্টারনেট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : লিওনেল মেসি স্পেনিশ ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা ছাড়তে চাওয়ায় ফুটবল ভক্তরা বেশ অবাক হয়েছেন।

কেনো তিনি যেতে চান? কোন ক্লাবে যেতে চান? কতো টাকার বিনিময়ে যেতে চান? এসব প্রশ্নে ছেঁয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া।

তবে এর পাশাপাশি বার্সেলোনাকে ফ্যাক্স পাঠিয়ে দল ছাড়ার অনুমতি চাওয়ার বিষয়টিও কৌতুহলী করেছে ফুটবল ভক্তদের। এই যুগে মেসি ফ্যাক্স কেনো পাঠিয়েছেন তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। ফ্যাক্স পাঠানোতে ট্রলও হচ্ছে মেসিকে নিয়ে।

Techshohor Youtube

যেভাবে ফ্যাক্স পাঠাতে হয়

প্রথমে যাকে ফ্যাক্স করা হবে তাকে কল করতে হয়। তারপর হাতে লেখা চিঠি ফ্যাক্স মেশিনে স্ক্যান করাতে হয়। স্ক্যানের কপি নিতে অপর প্রান্তে একজনকে সাদা কাগজ প্রিন্টারে দিতে হয়। এরপর কম রেজুলেশনের সাদা-কালো লেখাটি প্রিন্ট হয়ে আসে। বর্তমানে এই প্রযুক্তি প্রায় অচল।

উদ্ভাবন ও সমাপ্তি

১৮৪৩ সালে ফ্যাক্সের আইডিয়া পেটেন্ট হিসেবে দাখিল করেন আলেকজান্ডার বেইন। পেন্ডুলামের মাধ্যমে ইলেক্ট্রিকাল সিগনাল পাঠানোর এই প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায় ১৯৮০ এর সালের পর। কাগজে সইয়ের প্রয়োজন হলে বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলো ফ্যাক্স চালাচালি করতো। ২০০০ সালের পরেও ফ্যাক্স ব্যবহারের প্রচলন ছিলো।

এরপর ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার পরই ফ্যাক্সের ব্যবহার কমে যায়। সহজেই লেখা ইমেইল করা যায় বলে ফ্যাক্স পাঠানোর ঝামেলা কেউ করতে চায় না।

মেইল থাকতে ফ্যাক্স কেনো?

অনেকের মতে, ৮০ এর দশকের প্রচলিত ফ্যাক্স পাঠাননি মেসি। তিনি আসলে বুরোফ্যাক্স পাঠিয়েছেন। পেশাগত কাজে স্পেনে বুরোফ্যাক্স পাঠানোর প্রচলন আছে। এই প্রযুক্তিতে আদান প্রদান করা কাগজপত্র আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।

তাই বার্সেলোনা চাইলেও অস্বীকার করতে পারবে না যে তারা মেসির সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অফিশিয়াল কোনো চিঠি পায়নি বা দেরিতে পেয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই দল ছাড়তে হবে মেসিকে। দেরি হলেই আইনী জটিলতায় পড়বেন তিনি। তাই বুরোফ্যাক্সে চিঠি পাঠিয়ে জটিলতা এড়াতে চেয়েছেন মেসি।

বিবিসি ও এএস অবলম্বনে এজেড/ আগস্ট ২৭/২০২০/১৪৪৫

*

*

আরও পড়ুন