Techno Header Top

দুবাইয়ের মরুভূমিকে বদলে দিচ্ছে নরওয়ের স্টার্টআপ

ফসল ফলছে ধূসর মরুতে। ছবি : ইন্টারনেট
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মরুভূমির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেই দেশেরই পরিচিত শহর দুবাইয়ের কিছু মরুভূমির চেহারা বদলে দিয়েছে এক স্টার্টআপ। 

যে মরু ধু ধু করতো বালিতে, সেই মরু এখন পুরোটাই সবুজে ছেয়ে গেছে। চাষ হচ্ছে নানা জাতের কৃষি পণ্য। আর কাজটি করেছে নরওয়েজিয়ান এক স্টার্টআপ। 

গল্পের শুরু মার্চ মাসের প্রথম দিকে। সেসময় একটি দল দুবাই সফরে আসে। এরপর তারা মরুর বুকে এক প্লটে তরমুজ, জুচিনি, পিয়ার্ল মিলেট রোপণ করে।

পাঁচ মাস পরে সেই মরু আর মরু নেই। সারি সারি গাছে পরিপূর্ণ এক সবুজের জায়গা হয়ে ওঠে। গাছে গাছে ফল আসে, সবজিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে সেই প্লট। 

এটি সম্ভব হয়েছে নরওয়েজিয়ান উদ্ভাবনী স্টার্টআপ ‘ডেজার্ট কন্ট্রোল’-এর মাধ্যমে। তাদের উদ্ভাবিত তরল ন্যানোক্লে পদ্ধতির মাধ্যমে এই সবজি ও ফল চাষ সফলতার মুখ দেখেছে। 

কেবল পানি এবং কাদামাটি দিয়ে তৈরি তরল ন্যানোক্লেটি বালি বা বেলে মাটিতে স্প্রে করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি এমন এক পদ্ধতি যা বালিকে ভিজিয়ে রাখে এবং বালির কণায় সংযুক্ত থাকে, পানি ধরে রাখে এবং উদ্ভিদ তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় সেই মাটি থেকে। 

ডেজার্ট কন্ট্রোল জানায়, মিশ্রণটি পুষ্টিকর দুর্বল বেলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং পানির ব্যবহার অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে আনে। এমনকী, এই তরল ন্যানোক্লে মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে শুষ্ক জমিকে আবাদি জমিতে পরিণত করতে পারে। 

মরুভূমি যেভাবে সবুজ হলো

২০০০ শতকের মাঝামাঝিতে দুবাই ভ্রমণ করেছিলেন নরওয়ের বিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান ওলেসেন।  

ডেজার্ট কন্ট্রোলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওলে ক্রিস্টিয়ান সিভারস্টেইন বলেন, যখন বালিতে পানি দেয়া হয় তখন তা ঘন কাদায় পরিণত হয়ে যায়।

স্টার্টআপটি কাদার পরিমাণকে কিছুটা কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছিলেন বলে জানান সিভারস্টেইন। 

সিভারস্টেইন বলেন, আসলে যেকোনো সাধারণ সেচ পদ্ধতির মাধ্যমেই এটি আপনি করতে পারেন। আবার পানি ছিটিয়ে দিয়েও করতে পারেন। 

ফসল ফলতে শুরু করায় দুবাইয়ের মরুভূমিকে প্রাধান্য দেয়া শুরু হয়েছে। এমনকি এখানে ফলানোর ফলে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা দিনকে দিন বাড়ছে। বর্তমানে দেশটিতে ৯০ শতাংশ খাদ্যই আমদানি করা হয়। 

২০১৮ সালে ডেজার্ট কন্ট্রোল দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োসালিন এগ্রিকালচারের সঙ্গে অংশীদারিত্বে ল্যাবরেটরি এবং মাঠে এর পরীক্ষা শুরু করেছে।

যদিও কোভিড-১৯ এর কারণে ল্যাবরেটরি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মাঠে তাদের কাজ কম হলেও চালু রয়েছে। 

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োসালিন এগ্রিকালচারের মহাপরিচালক ইসমাহান এলুয়াফি বলেন, আমরা মরুতে এমন ফসল ফলানোর বিষয়টি জোর দিয়ে দেখছি। যদি এভাবে সফল হতে থাকি তবে মরু নিয়ে আমাদের ভিন্ন চিন্তার সময় এসেছে। একই সঙ্গে দেশকে খাদ্য নিরাপত্তায় এগিয়ে নেবারও সময় এসেছে। 

নরওয়ের স্টার্টআপটির এমন উদ্ভাবনে বিস্মিত দুবাইয়ের বিজ্ঞানীরাও। তারাও এখন স্টার্টআপটির সঙ্গে কাজ করে সামনে এগোতে চাইছে। 

ইন্টারনেট অবলম্বনে ইএইচ/আগস্ট ১৫/২০২০/১৪৪০

আরও পড়ুন – 

স্টার্টআপের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে আসছে অ্যাপল 

করোনার কারণে দেউলিয়ার পথে বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ!

*

*

আরও পড়ুন