Techno Header Top

স্যাটেলাইট থেকে ডেটা নিয়ে কেনিয়া মশাবাহিত রোগ থেকে বাঁচল যেভাবে

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ২০১৬ সালের ঘটনা। আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় সেবার হঠাৎই ছড়িয়ে পড়লো মশাবাহিত রোগ। 

রিফট ভ্যালি জ্বরে ভুগতে শুরু করে দেশটির হাজার হাজার মানুষ। অনেকটা মহামারি আকারে দেখা দিলো ডেঙ্গু, মাইলেরিয়ার মতো রোগ।

বিশেষ করে রিফট ভ্যালি জ্বরের উপসর্গ সম্পর্কে অন্যান্য অঞ্চলে কে কি ভাবে সেটার চেয়ে কেনিয়াসহ আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোতে এই ভাইরাস সম্পর্কে তারা খুব সতর্ক।

ভাইরাসটি সাধারণ ফ্লুর মতোই। তবে সাধারণ ফ্লু থেকে ব্যতিক্রম হলো, এতে জ্বরের পাশাপাশি শরীরের পেশীগুলো প্রচণ্ড ব্যথা করে, হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা করে, মাথা ব্যথা করে। আর চূড়ান্ত পর্যায়ে এর ফলে অন্ধত্ব বা ব্রেন হেমারেজের মতো ঘটনায় মৃত্যু হয় অনেকে। 

২০০৬-০৭ সালের দিকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ওই অঞ্চলে অন্তত ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিভিন্ন গৃহপালিত পশু-পাখির ক্ষতি হয়। মাংস, দুধের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে আফ্রিকার অন্যান্য দেশ যেমন সুদান, তানজানিয়া, সোমালিয়া, মাদাগাস্কারে অন্তত ৫০০ লোক মারা যায়।  আক্রান্ত হয়েছিল দুই লাখের বেশি।

কিন্তু মহামারির মতো ছড়িয়া পড়া মশাবাহিত সেই রোগ অল্প সময়ে কেনিয়া নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে স্যাটেলাইটের মাধ্যমের। 

২০১৬ সালে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষকরা কেনিয়ার অবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করে। তখন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তথ্য নিয়ে তারা সেগুলো বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করে। এরপর শুরু হয় ভ্যাকসিন তৈরির কাজ। 

অবশ্য মানুষের জন্য এই রোগের ভ্যাকসিন তৈরি না হলেও পশু-পাখির জন্য স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন তৈরি করে কেনিয়া।  যার পুরো কৃতিত্ব সেই স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ডেটা। আর সময়ের ব্যবধানে সেই রিফট ভ্যালি অনেকটা বিদায় নিয়েছে দেশটি থেকে। 

নাসার বিজ্ঞানী ও নাসা গডডার্ড এঅর্থ সাইন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার অ্যান্ড লিডার অফ টি রিফ্ট ভ্যালি ফিভার মনিটরিং প্রজেক্টের প্রধান আসাফ আনাআম্বা বলেন, আপনাকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে যে, আপনি কাজটি করবেন এবং আমরা সেটাই করেছি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত ডেটা থেকে। 

এই প্রক্রিয়ায় মূলত ডিভাইসের মাধ্যমে ট্র্যাক করা হয়। তারপর সেই ডেটা নিয়ে গবেষণা করা হয়। সেখান থেকেই ফলাফল আসে। 

এর পাশাপাশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশটিতে কোথায় কোথায় মশার প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে সেসবও নির্ধারণ ও চিহ্নিত করা হয়। এভাবে কয়েকটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ডেটা নিয়ে গবেষণা করার পর তথ্য নিয়ে তা কাজে লাগিয়ে কেনিয়ায় এখন ভাইরাসটি দূর করতে সক্ষম হয়েছে। 

ইন্টারনেট অবলম্বনে ইএইচ/জুলাই২৩/ ২০২০/১৩৪৫

আরও পড়ুন – 

শত কোটি বছর অক্ষত থাকবে ডিজিটাল ডাটা

মার্কিন সেনাদের সার্ভিস অ্যান্ড ডাটাবেইজ সাইট হ্যাক করেছিল আইএস!

জিপিএস ডেটাই কি করোনার সমাধান?

*

*

আরও পড়ুন