এসএমপির বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আবারও আদালতে গ্রামীণফোন

গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয় জিপি হাউজ। ছবি : টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এসএমপি অপারেটর হিসেবে বিটিআরসির আরোপিত নতুন নির্দেশনার বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেছে গ্রামীণফোন।

এ নিয়ে এসএমপি ইস্যুতে তৃতীয়বারের মতো আদালতের দ্বারস্থ হলো অপারেটরটি।

এবারে আদালতের কাছে গ্রামীণফোনের অভিযোগ,  বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট কবার বা এসএমপির নীতিবিরুদ্ধ কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ ছাড়াই বিটিআরসি এই বিধিনিষেধ দিয়েছে।

রোববার হাইকোর্টে ভাচুর্য়াল এই রিট আবেদন করে গ্রামীণফোন।

বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খাঁন টেকশহরডটকমকে জানান, তারা বিষয়টি অবহিত হয়েছেন তবে এ বিষয়ে অফিসিয়ালি এখনও কোনো কাগজপত্র তারা পাননি।

‘কাগজপত্র পেলে বিটিআরসি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে’ বলেন তিনি।

গত ২১ জুন এসএমপি বা একচেটিয়া অপারেটর হিসেবে গ্রামীণফোনের উপর দুই বিধিনিষেধ কার্যকরের নোটিস দেয় বিটিআরসি। এতে এমএনপি লকিং পিরিয়ড কমিয়ে দেয়া এবং বর্তমানে চালু সকল সার্ভিস, প্যাকেজ, অফার নতুন করে অনুমোদন নেয়া ও নতুন কোনো প্যাকেজ বা সেবার ক্ষেত্রেও অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে।

এরপর রোববার আরও একটি বিধিনিষেধ দেয়া হয়ে। যেখানে কল টার্মেনেটিং রেট কমিয়ে দেয়া হয়।

এর আগে এই বিধিনিষেধ জারির পর গ্রামীণফোনের পরিচালক ও হেড অব পাবলিক অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত টেকশহরডটকমকে বলেছিলেন, আরোপিত বিধিনিষেধসমূহ এসএমপির মূল উদ্দেশ্যের সাথে অসংগতিপূর্ণ কেননা বাজার বিনষ্ট হয়েছে এমন কোনো প্রমাণের উপর ভিত্তি করে এটি আরোপ করা হয়নি। আরোপিত এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিধিগুলোই মূলত প্রতিযোগিতা বিরোধী, যা গ্রাহক স্বার্থের পরিপন্থী’ বলছিলেন তিনি।

বিধিনিষেধের চিঠি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করার কথা বলেছিলেন তখন।

আর সেই পদক্ষেপ এলো আদালতের শরণাপন্ন হওয়া।

২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে গ্রামীণফোনকে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

টেলিকম খাতের জন্য বিটিআরসি যে এসএমপি নীতিমালা তৈরি করেছে সেখানে কোনো অপারেটরের কার্যকর গ্রাহক বা আয় বাজারের ৪০ শতাংশ হলে তাকে এসএমপি ঘোষণা কর যাবে। সেই ফর্মুলায় জিপিকে এসএমপি ঘোষণা করা হয়।

১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনের উপর চারটি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতে যায় গ্রামীণফোন। ওই সময় শর্ত আরোপের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণভাবে বিধি না মানা নিয়ে গ্রামীণফোনের অভিযোগ করে। আদালত বিটিআরসিকে এর কারণ জানাতে বলে।  এর পরের প্রক্রিয়ার ১৯ মার্চ তা বাতিল করে বিটিআরসি।

বিটিআরসি নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করে। এ প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল এসএমপি ঘোষিত অপারেটরকে তাদের ওপর আরোপ হতে চলা বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবহিত করে মতামত জানতে চাওয়া।

ওই বছরের মে মাসে জিপিকে চারটি বিধিনিষেধ দেয় বিটিআরসি, যেখানে জিপির কলের মূল্য মিনিট প্রতি অন্যদের চেয়ে পাঁচ পয়সা বেশি হওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব পায়।

তখন এসএমপি ঘোষিত অপারেটরের জন্য সব মিলে ২০টি বিধিনিষেধের একটি তালিকাও করে বিটিআরসি, যা সময় সময়ে তারা জারি করবে।

তবে বিধিনিষেধের বিষয়ে কিছু না বললেও তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও আদালতে যায় গ্রামীণফোন। 

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট আইনগত সেই প্রক্রিয়া শেষ করে। আদালত এ প্রক্রিয়ায় দুটি সংশোধনীসহ পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বিটিআরসিকে আবারও নির্দেশনা জারি করতে বলেন।

আর ২০২০ সালের জুনের শেষ দিকে এসে তা জারি করে বিটিআরসি।

এর মধ্যে ২০২০ সালের মে মাসে অপর তিন অপারেটর রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক বিটিআরসির কাছে চিঠি দিয়ে গ্রামীণফোনের ‍উপর এসএমপির বিধিনিষেধ আরোপের অনুরোধ করে।

চিঠিতে তারা গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে সামাজিক দায়বদ্ধতার নামে বাজার নষ্ট করার অভিযোগ আনে। 

তিন অপারেটর প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে দেয়া ওই চিঠিতে তারা বলছেন, এসএমপি ঘোষিত অপারেটর যেভাবে বাজার দখলের জন্য দেশের টেলিটকম খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে তা এ খাতটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। 

এডি/২০২০/জুন২৮/২২০০

*

*

আরও পড়ুন