Techno Header Top and Before feature image

পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড সেবা বন্ধ, যেসব সঙ্কটে ফ্রিল্যান্সাররা

ছবি : ইন্টারনেট
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পেওনিয়ার মাস্টারকার্ডের ব্যবহারকারীরা বিশেষ করে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা সঙ্কটে পড়েছেন। কেননা তাদের সব সেবা বন্ধ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল কনডাক্ট অথোরিটি (এফসিএ) যুক্তরাজ্যের ওয়্যারকার্ড সলিউশন লিমিটেডকে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বন্ধসহ বেশকিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করার পর তা বিশ্বব্যাপী বন্ধ হয়ে গেছে।

সেবা বন্ধের ফলে বিপাকে পড়েছেন দেশের ব্যাবহারকারীরা। তারা কার্ড ব্যবহার করে আর কোনো কিছুই করতে পারছেন না। দেশের বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সার ও অনেক প্রতিষ্ঠান পেওনিয়ারের ওই প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করেন। বন্ধের ফলে তারা আর তাদের টাকা উত্তোলনও করতে পারছেন না, পারছেন না অনলাইনে কোনো সেবা সাবস্ক্রিপশন করতে।

বিশেষ করে এই কার্ড ব্যবহার করে দেশের অনেকেই নানা ধরনের ডোমেইন, হোস্টিং সেবাসহ নানা ধরনের সেবার সাবস্ক্রিপশন ফি প্রদান করে থাকে। কার্ডটির মাধ্যমে এসব সেবা প্রদান আপাতত বন্ধ আছে।

এমন অচলাবস্থা হবার কারণ হলো, গত বৃহস্পতিবার জার্মান কোম্পানি ওয়্যারকার্ড এজির শাখা হিসেবে অসচ্ছলতা দেখিয়ে আবেদন করে। এরপরই সঙ্কট দেয়া দেয়। কারণ, এসব কার্ড বরাদ্দ করে ওয়্যারকার্ড ইউকে।

তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার আল-আমিন কবির টেকশহরডটকমকে বলেন, প্রথম অসুবিধা হচ্ছে, দেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে পেওনিয়ার ছিল মূল ভরসা। অধিকাংশই এই গেটওয়ে ব্যবহার করতেন। ফলে সেটি বন্ধ। কেউ কোনো টাকা আর আনতে পারছেন না।

দ্বিতীয়ত, বিদেশী অনেক সেবার সাবস্ক্রিপশন ফি কিন্তু এই কার্ডে পরিশোধ করা হতো। সেটিও এখন বন্ধ।

তৃতীয়ত, এটা এমন একটা সময় হলো যখন মাসের শেষ। অর্থাৎ অনেকেই এই সময়টাতে বিদেশী ক্লায়েন্টদের বিল পান। সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এটাও একটা বড় সমস্যা যারা বিভিন্ন ভাবে সেসব টাকার উপর নির্ভরশীল তাদের জন্য।

চতুর্থ সমস্যা হচ্ছে, এর ফলে অনেকের নতুন প্রোজেক্ট আটকে যাবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই নতুন প্রোজেক্ট নিয়ে হয়তো কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেটার জন্য আর্থিক বিষয় জড়িত ছিল। যা একেবারেই বন্ধ হলো। বলতে গেলে সার্বিকভাবে একটা সঙ্কটে পড়তে হলো।

দেশের ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ শরিফ মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমার জন্য এই কার্ডটা ছিল অনেক কাজে। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে ছোট ছোট অ্যামাউন্টগুলা কার্ডে নিতাম। সব অ্যামাউন্ট একসাথে করে লোকাল ব্যাংকে ট্রান্সফার করতাম। এখন সেটা করা না গেলে প্রত্যেকটা মার্কেটপ্লেস থেকে আলাদা আলাদাভাবে লোকাল ব্যাংকে ট্রান্সফার করতে হবে। এর জন্য প্রতিবার ট্রান্সফার ফি হিসাবে ৩০ ডলার দিতে হবে। আবার যদি ওয়ারট্রান্সফার না দেই তাহলে আমি ডলারের কনভার্সন রেট কম পাবো। মানে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবো।

ফ্রিল্যান্সার আসগর বকুল বলেন, শুধু লেনদেন স্থগিত সমস্যাই কিন্তু বড় সমস্যা নয়, পাশাপাশি যারা এই মাস্টারকার্ড দিয়ে গুগল অ্যাডসেন্স, আলি এক্সপ্রেস, অ্যামাজনসহ বিভিন্ন কাজে জড়িত, ডোমেইন হোস্টিং এক্সটেন্ড ও অনলাইন টুলস অ্যাক্টিভেশন বা আপগ্রেড কাজে পেওনিয়ার ইউজ করছে তারা এই মুহূর্তে বেশ বড় সমস্যায় পড়বেন।

তিনি বলেন, দেশে এখন পেওনিয়ারের পাশাপাশি ভালো কিছু পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এটি করা না গেলে লাখ লাখ ফ্রিল্যান্সার বিশাল ঝুঁকিতে পড়বেন। পাশাপাশি মানি লন্ডারিং বাড়বে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করা সুপরিচিত মুখ হাসিন হায়দার পেওনিয়ার কার্ড সেবা বন্ধ হবার ফলে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে ফেইসবুক পোস্ট দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘পেওনিয়ারের ইস্যুটা অ্যালার্মিং – প্রথম যেই কাজটা আপাতত আপনাকে করতে হবে সেটা হল আপনার যত সাবস্ক্রিপশন কেনা আছে সেগুলোর রিনিউয়াল ডেট চেক করা, এবং সেগুলোর জন্য ব্যাকআপ পেমেন্ট মেথড অ্যাড করা। কারন আপনার সাবস্ক্রিপশন এর সময় ট্রানজেকশন যদি বাউন্স করে তাহলে ইমিডিয়েটলি আপনার সাবস্ক্রিপশন অফ হয়ে যাবে। যারা গান বাজনার সাবস্ক্রিপশন কিনে রেখেছেন, তাদের জন্য হয়তো প্রবলেম নাই – কিন্তু হোস্টিং/সার্ভার রিলেটেড গুলো অনেক ক্রুশিয়াল।’

‘আর এরপরে যেটা করতে হবে, যদি ব্যাকআপ পেমেন্ট মেথড অ্যাড করতে পারেন বা নাও পারেন, এখনই আপনার হোস্টিং/সাইট এর ফুল ব্যাকআপ নিয়ে নিন যাতে হোস্টিং ক্যানসেল হয়ে গেলেও অ্যাটলিস্ট পরে আপনি রিস্টোর করতে পারেন (খুবই খুবই ইম্পর্ট্যান্ট)। টাকা গেলে টাকা আবার আসবে। কিন্তু ডেটা লস হলে ডেটা পাবেন না।’

কার্ড বন্ধের পর থেকেই ব্যবহারকারীরা তাদের শঙ্কার কথা জানিয়ে ফেইসবেুকে নানা ধরনের পোস্ট করছেন।

তবে অনেকেরই প্রত্যাশা সমস্যাটি দ্রুতই সমাধান হবে এবং আবারও সেবা চালু হবে।

অবশ্য বিষয়টি নিয়ে এক ব্লগপোস্টে পেওনিয়ার জানিয়েছে, তারা ব্যবহারকারীদের অবস্থার কথা চিন্তা করে সেবাটি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। খুব শিগগির সেবাটি আবার ফিরে আসবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।

ইএইচ/জুন২৭/ ২০২০/১৪৫৫

*

*

আরও পড়ুন