দেশি স্টার্টআপকে প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা প্রদানের দাবি

বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভিসিপিয়াব। ছবি : সৌজন্যে
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশি স্টার্টআপকে প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিয়াব)।

স্থানীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উন্নয়নে কাজ করা সংগঠনটি প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে এক ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

‘জিডিপিতে স্টার্টআপের অবদান বিষয়ক বাজেট আলোচনা’ শীর্ষক বৈঠকটি গত বৃহস্পতিবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) এর সাথে যৌথভাবে আয়োজন করে সংগঠনটি। বৈঠকের সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভিসিপিয়াব চেয়ারম্যান শামীম আহসান।

বক্তব্যে শামীম আহসান দাবি জানান, কোভিড-১৯ এর কারণে ব্যবসায় ও অর্থনীতি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সহায়তায় পরিচালিত আমাদের দেশের স্টার্টআপগুলো দেশের অর্থনীতি তে অবদান রেখে চলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলোকে কর অব্যহতি, অনুদান, সহজ শর্তে ঋণ এবং ইক্যুইটি বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নত বিশ্বের মতো একই ধরণের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা দেয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। 

এই ব্যবসাগুলোকে রক্ষা করতে পারলে স্টার্টআপে কাজ করা ৭ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে। এই আহ্বানে সাড়া দিলে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে পাঁচটি ইউনিকর্ন তৈরি এবং উদ্যোগী মূলধন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে ছয় মিলিয়নেরও বেশি লোকের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব বলে জানান ভিসিপিয়াবের চেয়ারম্যান এবং পেগাসাস টেক ভেঞ্চারসের জেনারেল পার্টনার শামীম আহসান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, কোভিড-১৯ এর ফলে আমাদেরকে প্রযুক্তি গ্রহণের দিকে নজর দিতে হচ্ছে, যা তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনা তৈরি করছে। সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এসব স্টার্টআপকে সহায়তার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা উদ্যাক্তাদের টিকে থাকা ও ব্যবসায় সহজ করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরিতে কাজ করবো।

বিশেষ অতিথি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরেই উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপে নজর দিয়ে আসছে, কারণ সেটি আমাদের ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার অন্যতম পন্থা। আমরা আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ছোট-বড় সব ধরণের ব্যবসায়ের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছি। স্টার্টআপ বাংলাদেশ তার অ্যাক্সেলারেটর প্রোগ্রাম এবং স্টার্টআপ ফান্ডের মাধ্যমে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে সহায়তা করছে। আমরা আগামীতেও যাতে স্টার্টআপগুলো বেড়ে উঠতে পারে তার জন্য নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা অব্যহত রাখবো।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শিবলি রুবাইয়াত উল ইসলাম, এফবিসিসিআই এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ভিসিপিয়াবের মহাসচিব শওকত হোসেন, মসলিন ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ভিসিপিয়াব পরিচালক ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন। 

এছাড়াও ভার্চুয়াল বৈঠকটিতে উপস্থিত ছিলেন আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ মজিবুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক; বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর; স্টার্টআপ বাংলাদেশের বিনিয়োগ উপদেষ্ঠা টিনা জাবিন, এফএনএস মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আহমেদ, বিডিওএসএন এর সাধারন সম্পাদক মুনীর হাসান। 

ভিসিপিয়াবের ভাইস চেয়ারম্যান জিয়া ইউ আহমেদ, বিল্ড বাংলাদেশের উপদেষ্টা আরস্ত খান, দৈনিক প্রথম আলোর বিজনেস এডিটর ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) এর নির্বাহী সদস্য সুজয় মহাজন, ইনফ্লেকশন ভেঞ্চারস লিমিটেডের অংশীদার তানভীর আলী, পাঠাও এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুসেইন এম ইলিয়াস, স্টার্টআপ ঢাকার সহ-প্রতিষ্ঠাতা সামাদ মিরালি, বাংলাদেশ এঞ্জেলসের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মিনহাজ আনোয়ার, দ্য বিজনেস স্টান্ডার্ড এর নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার খান, দ্য ডেইলি স্টারের বিপণন প্রধান তাজদিন হাসান, সিএমজেএফ’র সভাপতি ও চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের আউটপুট এডিটর হাসান ইমাম রুবেল এবং সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন প্রমুখ।

ইএইচ/জুন২২/২০২০/১৪০০

*

*

আরও পড়ুন