Samsung IM Campaign_Oct’20

জুম টিকটক নেটফ্লিক্সসহ অনলাইন সেবায় ভ্যাট আদায়ে তৎপরতা

Vat-techshohor
Evaly in News page (Banner-2)

টেক  শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনলাইন সেবায় ভ্যাট আদায়ে তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।

২০১৯-২০২০ বাজেটের আগেই গুগল, ফেইসবুক ও ইউটিউবের ভ্যাট কাটছিলো ব্যাংকগুলো।

এবার এগুলোর পাশাপাশি জুম, টিকটক, স্কাইপে, লিঙ্কইন, হইচই, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স, হইচই, এইচবিও নাউ, শোটাইম, জি৫, টুইটার এডস, জয়েনমিসহ ৭৬ টি সেবায় ভ্যাট আদায়ে উল্লেখ করেছে কোনো কোনো ব্যাংক।

এরমধ্যে শুধু গুগল, ফেইসবুক, ইউটিউবের ক্ষেত্রে ভ্যাট আদায়ে বেশি চেষ্টা করতো ব্যাংকগুলো। কিন্তু এগুলোসহ অন্যসব সেবায় ঠিকঠাক রাজস্ব মিলছে না দেখে নতুন করে বাংলাদেশ ব্যাংককে সব ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ করেছে এনবিআর।

নতুন  বাজেট ঘোষণার দিন ১১ জুন এনবিআরের গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (মূসক) বাংলাদেশ ব্যাংককে ওই চিঠি দেয়।

আর এর এক সপ্তাহ আগে ব্যাংকগুলোর কাছে নেটফ্লিক্সসহ এসব অনলাইন সেবার বিপরীতে ভ্যাট কাটা হয়েছে কিনা তার বছরভিত্তিক হিসাব প্রমাণসহ চেয়ে সব ব্যাংককে চিঠি দেয় এনবিআর।

এনবিআরের উপ-কমিশনার ও বিভাগী কর্মকর্তা (বিভাগ-২) উপল চাকমা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ব্যাংকগুলো যদি এখনও ভ্যাট না কাটে তাহলে এই ভ্যাট কাটা ও আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এনবিআরকে জানাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে , অনলাইনভিত্তিক বিনোদন চ্যানেলের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রায় সাবস্ক্রিপশন বা গ্রাহক  ফি দেয়া হয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এ অর্থ দেয়া হয়। মূল্য সংযোজন কর আইন-২০১২ অনুযায়ী এটি ভ্যাট আদায়যোগ্য সেবা।

এনবিআর হতে ভ্যাট কাটার প্রমাণ চেয়ে চিঠি পাওয়ার পর ইতোমধ্যে অনেক ব্যাংকই তাদের গ্রাহককে চিঠি দিয়েছে।

তানভীর ইসলাম, যিনি একজন ফ্রিল্যান্সার। ব্র্যাক ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংকের গ্রাহক তিনি। দুটি ব্যাংকেরই ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন তিনি। তিনি গুগলের জি সুইট, গুগল ড্রাইভ, প্লেস্টেোরের অ্যাপস, ফেইসবুক বিজ্ঞাপন, স্কাইপের ইন্টারন্যাশনাল কলিং মিনিট, জুম, ডোমেইন হোস্টিংসহ বিভিন্ন সেবা কিনে থাকেন।

মঙ্গলবার  (১৬ জুন) তিনি ব্র্যাক ব্যাংকের চিঠি পান, যেখানে বলা হয়েছে ২০১৯ সালের জুন হতে অনলাইনে নেয়া এসব সেবার বিপরীতে ভ্যাট কাটা হতে পারে যদি এনবিআর নির্দেশনা দেয়।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের নভেম্বর হতে ফেইসবুক, ইউটিউব ও গুগল এই তিনটি সেবায় ভ্যাট কাটা হচ্ছিল।

১১ জুন চিঠি পেয়েছেন সিটি ব্যাংকের। সেখানেও একই নির্দেশনা।

আগে হতে নির্দেশনা না থাকায় হুট করে পুরোনো এমন বিলে ভ্যাট কাটার নির্দেশনায় বিপাকে পড়েছেন তিনি। 

তিনি বলেন, তিনি তো তার গ্রাহকদের কাছ এই ভ্যাট হিসাব করে বিল করেননি। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

গত অর্থবছরে এসব অনলাইন সেবায় ভ্যাট আরোপ করা হলেও সময়মতো ভ্যাট আদায় করা যায়নি নানা কারণেই।

তখন অনাবাসী কোম্পানির বিআইএন-নিবন্ধনের সুযোগ না থাকায় এটি কার্যকর করা যাচ্ছিল না। যদিও ভ্যাট আইনে স্থানীয় প্রতিনিধির বিআইএন নিবন্ধনের মাধ্যমে ভ্যাট আদায়ের সুযোগ আছে, কিন্তু ফেইসবুক-গুগল বা অন্য কেউ সেই পথে যেতে রাজি হয়নি। তারা বরং এনবিআরকে অনুরোধ করে নিয়মের কিছুটা পরিবর্তন করে তাদেরকে সরাসরি বিআইএন দেওয়ার জন্যে।

মূলত বিদেশী এই কোম্পানিগুলো ভ্যাট প্রদানের ক্ষেত্রে জটিলতার বিষয়টি এনবিআরের সামনে তুলে ধরে তখন নিয়মটির ক্ষেত্রে শিথিলতার সিদ্ধান্ত আনার অনুরোধ করে তারা।

তখন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে বাংলাদেশে আবাসিক অফিস না থাকলেও ফেইসবুক বা গুগলের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছ থেকে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) পাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

তখন সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক এবং সার্চ ইঞ্জিন গুগল ছাড়াও প্রথম দফায় ইউটিউব এবং মাইক্রোসফটকে বিআইএন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  ফলে তারা তাদের সেবার ওপর থেকে এনবিআরকে সারাসরি ভ্যাট দিতে পারবে।

এনবিআর-এর হিসেবে বিদেশী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনা গেলে এই খাত থেকে সরকারের বছরে অন্তত তিনশ কোটি টাকা বাড়তি আয় হবে।

প্রথম দিকে পরিকল্পনা ছিল, বৈশ্বিক এই কোম্পানিগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে ভ্যাট আদায় করা হবে। সে লক্ষ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেটেই বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাধ্যতামূলক করে সরকার। জুলাই থেকেই এই ভ্যাট কার্যকর করা হলেও তা যে আদায় হয়নি ঠিকঠাক তা নতুন করে এনবিআরের চিঠিতে বোঝা গেলো।

এ বিষয়ে এনবিআর-এর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলছেন, প্রতি বছর এই চারটিসহ আরও কিছু প্রযুক্তি কোম্পানির কাছ থেকে বাংলাদেশিরা অন্তত দুই হাজার কোটি টাকার সেবা কেনে। মূলত প্রচার এবং সফটওয়্যার কেন্দ্রিক এই সেবার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ধরলে এখান থেকে সরকারের অন্তত তিনশ কোটি টাকা আয় হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিনিই এই খাতটি বড় হচ্ছে। ফলে সরকার এখনই ঠিকঠাক তৎপরতা না বাড়ালে রাজস্ব আয়ের অনেক বড় একটি খাত হাতছাড়াই থেকে যাবে।

এডি/২০২০/জুন১৭/২০৩০

*

*

আরও পড়ুন