সোলার মিনিমাম আসছে তবে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই

ছবি: সানস্পটহীন সূর্য
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিভিন্ন বিশ্ব মিডিয়া ও ট্যাবলয়েডে এমন কথা বলা হচ্ছে যে সামনের দিনগুলোতে তুষারপাত, ভূমিকম্প এমনকি দুর্ভিক্ষ আসতে পারে। আর এর পেছনে থাকতে পারে সূর্যের প্রভাব। কারণ, সূর্য আরেকটি ‘সোলার মিনিমাম’-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতায় সোলার মিনিমামের সঙ্গে এসবের সম্পর্ক স্থাপন করা খুবই কঠিন।

সোলার মিনিমাম কি?

সহজ ভাষার বলতে গেলে সোলার মিনিমাম হচ্ছে সূর্যের তাপ উৎপাদন কার্যক্রমে একটু ভাটা পড়া। প্রশ্ন হচ্ছে বৈজ্ঞানিকরা কীভাবে বিষয়টি জানেন? বৈজ্ঞানিকরা এই বিষয়টি অনুমান করে সূর্যের গায়ে কালো দাগের সংখ্যা গণনা করে। সূর্যের গায়ে কালো দাগের সৃষ্টি হয় যখন সূর্যের উপরিভাগে চৌম্বক কার্যক্রম বাড়ে। আর এই চৌম্বক কার্যক্রমের সৃষ্টি হয় যখন সূর্যের মধ্যে সোলার ফ্লেয়ার সৃষ্টি হয়। সোলার ফ্লেয়ার হচ্ছে এমন একটি ক্রিয়া যার ফলে সূর্যকে উজ্জ্বলতর দেখায়। এই ক্রিয়াটি যখন ঘটে তখন বৈজ্ঞানিকরা বিশেষ টেলিস্কোপ দিয়ে সূর্যের উপরিতলে অনেকগুলো কালো স্পট দেখতে পান। এই স্পটগুলো একটি নির্দিষ্ট সীমার মথে থাকা মানে সূর্যের তাপ উৎপাদন স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। ওই সীমা থেকে কমে যাওয়া মানে ওই কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

স্বাভাবিক নিয়মে সোলার মিনিমাম প্রতি ১১ বছর অন্তর অন্তর হয়ে থাকে এবং এই অবস্থা ন্যূনতম ছয় মাস স্থায়ী হয়। হিসাব মতে ২০২০ সালের জুন মাস বা তার কমবেশি ছয় মাসের মধ্যে একটি সোলার মিনিমামের সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।

এর অর্থ কি কোনও বিপদ আসন্ন?

সোলার মিনিমামের ফলে জলবায়ুতে মারাত্মক পরিবর্তন এসে তুষারপাত, ভূমিকম্প এমনকি দুর্ভিক্ষ হবে বলে অনেকেই প্রচার করছেন। বাস্তবে সোলার মিনিমামের সঙ্গে এসবের কোনও সম্পর্ক আছে কিনা তা নিয়ে বৈজ্ঞানিকরা এখনও নিশ্চিত নন। বস্তুত এমন আশঙ্কা হয় কারণ, ১৮১৬ সালে একটি সোলার মিনিমামের সময় প্রবল ভূমিকম্প হয়েছিলো, পৃথিবীর অনেক প্রান্তে গ্রীষ্ম আসেনি সে বছর, সেসব স্থানে ফসলও ফলেনি ফলে অনেক মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যায়। তবে পরে বিভিন্ন গবেষণায় জানা যায় বিষয়টি কেবলই কাকতালীয় ছিল। যা কিছু ঘটেছে তা ইন্দোনেশিয়ার টাম্বোরা আগ্নেয়গিরিতে প্রবল অগ্নুৎপাতের কারণে ঘটেছে। এসবের সঙ্গে সোলার মিনিমামের কোনও সম্পর্ক ছিলো না।

কার্যত সোলার মিনিমাম একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, একজন মানুষ নিজের জীবদ্দশায় অনেক সোলার মিনিমামের মধ্য দিয়ে যায় যা টেরও পান না। সেই সঙ্গে সোলার মিনিমামের ফলে যে পরিমাণ তাপমাত্রায় পরিবর্তন হবে সেটি পৃথিবীতে অনুভূতই হবে না বলেই ধারনা করছেন বৈজ্ঞানিকরা। কারণ আমাদের কার্বন নিঃসরণের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রার অবস্থা এতটাই উষ্ণ যে সোলার মিনিমামের ফলে সৃষ্ট তাপমাত্রার তারতম্য অনুভব করতে হলে ওই সোলার মিনিমামকে স্থায়ী হতে হবে প্রায় একশ বছর। যা বৈজ্ঞানিক বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব।

তবে নভোচারীদের জন্য সোলার মিনিমাম এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে কারণ এর ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে ক্ষতিকর রশ্মির পরিমাণ বাড়তে পারে।

সায়েন্স অ্যালার্ট অবলম্বনে এমআর/ মে ১৯/২০২০/১১৩৮

*

*

আরও পড়ুন