করোনার সুযোগে আগ্রাসনের অভিযোগ রবির

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : করোনায় সামাজিক সেবামূলক কাজের মোড়কে  দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের ‘মার্কেট লিডার’ আগ্রাসী মার্কেটিং করছে বলে অভিযোগ করছে রবি। 

অপারেটরটি বলছে, এতে দেশের প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড ঠিক থাকছে না, এসএমপির প্রয়োগ হচ্ছে না এবং সংশ্লিষ্ট আইন-নিয়মনীতি ভঙ্গ হচ্ছে। 

তবে এই ‘মার্কেট লিডার’ কে সে বিষয়ে কোনো অপারেটরের নাম উল্লেখ করেনি তারা। যদিও দেশে গ্রাহক সংখ্যার বিচারে শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোন। খুব সম্প্রতি গ্রামীণফোনই করোনার প্রভাব বিবেচনায় সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবে ১০ কোটি মিনিট ভয়েস কল ফ্রি ও এক টাকায় ৩০ জিবি ডেটা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সোমবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, চিফ করপােরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলমসহ অপারেটরটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

রবির সিইও বলেন, দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের মার্কেট লিডার যে এগ্রেসিভ মার্কেটিং শুরু করেছে তা খাতের জন্য ভাল নয়। এতে খাতটির লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হচ্ছে। এটা টেকসই নয়, দীর্ঘ মেয়াদে কারও জন্য ভাল নয়।

‘মার্কেট লিডারের যে আচরণ তাতে বিষয়টা হয়েছে যেন আর কোনো অপারেটর বাজারে টিকতে না পারে। এখানে সিএসআরের নামে বাজার দখলের লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে’ বলছিলেন তিনি। 

এদিকে মার্কেট লিডারের প্রতিটি ট্রিগারের বিপরীতে কাউন্টার দেয়ার কথা জানিয়ে রবি সিইও বলেন, ইতোমধ্যে অনেকগুলো ঘোষণা আজ (সোমবার) হতে চালু হয়ে গেছে। রবির যেমন গ্রাহকরা নিয়মিত রিচার্জ করতেন কিন্তু করোনার কারণে রিচার্জ বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের বিনামূল্যে ১০ মিনিট টকটাইম এবং ৫০ এমবি ডেটা দেয়া হবে। ডাক্তারদের ওই সেবাও আসছে। এছাড়া রবির বিক্রয় ও পরিবেশকদের জন্য খাবার সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্য বিমার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  

সাহেদ আলম বলছেন, সিএসআর এবং  এগ্রেসিভ মার্কেটিং ভিন্ন জিনিস। এগ্রেসিভ মার্কেটিং কখনও সিএসআর হবে না একইভাবে সিএসআর কখনও এগ্রেসিভ মার্কেটিংয়ের জায়গায় চলে আসবে না। 

‘পৃথিবীর সব জায়গায় প্রাইস যুদ্ধ করে ছোটরা। মার্কেট লিডার প্রিমিয়াম সেবার ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম প্রাইসে কাজ করে। আর এখানে হচ্ছে  উল্টো’ বলেছিলেন তিনি।  

রবির এই চিফ করপােরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার মনে করছেন এসব আগ্রাসী অফার অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাজারের ইম্প্যাক্ট স্ট্যাডি করা হয়নি, এসএমপি বিবেচনায় নেয়া হয়নি।

‘আর এটি না করলে তো বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ থাকে না।  যেখানে ছোটদের টিকে থাকা মুশকিল’ বলেন তিনি।

প্রাইস যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং আগ্রাসী অফার অনুমোদনে সরাসরি বৈষম্যের অভিযোগ না আনলেও কারোনাকালীন শুধু মানবিক দিন বিবেচনা করতে গিয়ে ছোট অপারেটরদের কী হতে পারে, মার্কেট ইম্প্যাক্ট, প্রতিযোগিতা আইন ও এসএমপির নিয়মনীতিকে জায়গা দেয়া হয়নি বলে বলছেন সাহেদ আলম।  

মার্কেটে আগ্রাসী অবস্থা তৈরি হওয়ার কারণে এখন রবিকেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ওমন অফার নিয়ে আসতে হচ্ছে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। 

কিন্তু এখানে মার্কেট লিডারের ব্যাপক মুনাফার বিপরীতে মাত্র মুনাফায় আসা রবির পক্ষে এভাবে খরচ করা এক বিষয় নয়।   

এডি/২০২০/১১মে/১৯০০

আরও পড়ুন – 

এলাকাভিত্তিক করোনা ঝুঁকি জানাবে রবি 

ক্লাউডভিত্তিক এসএমই সল্যুশন আনল রবি

রবির ৫ কোটি গ্রাহক পাচ্ছে নগদ

*

*

আরও পড়ুন