করনীতি সংস্কারে এমটবের পাঁচ প্রস্তাব

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : করনীতি সংস্কারে ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন এমটব।

সংগঠনটি বলছে, যথাযথভাবে করনীতি সংস্কার করা হলে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) মোবাইল শিল্পের বর্তমান অবদান ৭ শতাংশ থেকে আগামীতে আরও বাড়বে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে সম্প্রতি এসব প্রস্তাব দিয়েছে এমটব।

প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, সিম ট্যাক্স তুলে দেয়া। বর্তমানে সিম প্রতি ২০০ টাকা হারে কর রয়েছে। অপারেটররা এই অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দেয়।

কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো। দেশে অপারেটররা ৪৫ শতাংশ কর্পোরেট দেয়। ভারতে এটি ২২ শতাংশ , পাকিস্তান এবং নেপালে ৩০, শ্রীলঙ্কায় ২৮  এবং আফগানিস্তানে ২০ শতাংশ। এমটব এই ট্যাক্স ৩০ শতাংশ করার কথা বলছে।

ন্যূনতম টার্নওভার বা কর্পোরেট ট্যাক্স তুলে দেয়া। মোবাইল অপারেটরগুলো লোকসান করলে বা মুনাফা ২ শতাংশের কম হলেও ২ শতাংশ হারে এই কর দিতে হয়। শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি থেকে এই কর দেয়া হয়। এটির বিলুপ্তি চায় অপারেটরগুলো।

বিটিআরসিসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্য ভ্যাট ছাড়। এমটব বলছে,  ২০১২ সালের নতুন ভ্যাট ও এসডি আইনে সরকারি ও নিয়ন্ত্রণকারি সংস্থাগুলোর জন্য ভ্যাট ছাড় সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। তাই সংস্থাগুলো ভ্যাটনীতি অনুসরণ করছে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিবন্ধন ছাড়াই ভ্যাট দাবি বা সংগ্রহ করছে, আবার কোনও ভ্যাট চালান দিচ্ছে না। এটা ভ্যাট আইনের নীতিবিরুদ্ধ।

দ্বৈত কর পরিহার। অপারেটররা বলছেন, দেশের মোবাইল সেবাদাতারা তাদের মোট আয়ের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ রাজস্বের অংশ হিসাবে এবং ১ শতাংশ সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে (এসওএফ) বিটিআরসিকে প্রদান করে। প্রাথমিক পর্যায়ে, রাজস্বের জন্য ভ্যাট প্রদান করা হয় যার অংশ বিটিআরসিকে দেওয়া হয়। বিটিআরসিকে দেওয়া একই রাজস্বের জন্য যখন আবার ভ্যাট প্রদান করা হয় তখন তা দ্বৈত কর হয়ে যায়।

এমটব সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে মোবাইল শিল্প সকল ধরনের যোগাযোগ, ব্যবসা, বিনোদন ইত্যাদির মেরুদন্ডে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য সময়ের মতো এই কঠিন সময়েও যথাযথভাবে সেবা দিচ্ছে অপারেটরগুলো। যেহেতু এই খাতটি ইতোমধ্যেই করসহ নানা ধরনের সমস্যায় রয়েছে, তাই এখনই সময় এসব দূর করে এই খাতকে উত্সাহিত করা।

এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অবঃ) বলেন, বিগত সময়ে মোবাইল সেবাদাতাদের লাইসেন্স নানাভাবে বিভাজন করে তাদের ব্যবসা সঙ্কুচিত করে ফেলা হয়েছে। অপারেটরদের ব্যবসার সঙ্কোচন সরকারের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সুযোগকেও সীমিত করেছে। অন্যদিকে ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন অনুযায়ী উৎসে ভ্যাট ছাড়ের নীতি ফিরিয়ে আনা হলেও সরকারের আয় বাড়ানো সম্ভব। ৪-জি প্রযুক্তির হ্যান্ডসেটের দাম বেশি হওয়ায় দেশে ৪-জির ব্যবহার খুব ধীর গতিতে এগুচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া দরকার।

এমটব মহাসচিব বলছেন, রেগুলেটরি, কর এবং ভ্যাট সম্পর্কিত সমস্যাগুলি অবিলম্বে সমাধান করা না গেলে খুব শিগগির মোবাইল সেবা বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে অপারেটরদের রাজস্ব আয়ে ইতোমধ্যেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এডি/২০২০/এপিল০৭/২২০০

*

*

আরও পড়ুন