কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ জানাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতোটা

ব্লুটুথ প্রযুক্তির ব্যবহার হতে পারে সহজ সমাধান। ছবি : ইন্টারনেট
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সারা বিশ্বের ৮০ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী যদি কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ ব্যবহার করে তবে দ্রুত করোনাভাইরাসকে বিদায় জানানো সম্ভব হবে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসকে এমন তথ্য দিয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিগ ডেটা ইন্সটিটিউট। 

কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ করোনা ঠেকাতে কতোটা কার্যকর হবে তা সময়ই বলে দেবে। এর আগে জেনে নেওয়া যাক অ্যাপটির কাজ কী এবং কীভাবে কাজ করে।

কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ কী?

আশেপাশে থাকা কোনো ব্যক্তি কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত কিনা, আক্রান্ত ব্যক্তি কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং কারা তার সংস্পর্শে এসেছিলেন তা কনট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপের মাধ্যমে জানা যায়। ইবোলা মহামারী ঠেকাতেও একই ধরণের অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছিলো। যদি কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে অ্যালার্ট পাঠিয়ে তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরকে সতর্ক করতে পারবেন। এতে সেই ব্যক্তি সতর্ক হয়ে করোনা টেস্ট করতে পারবে বা আইসোলেশনে থাকতে পারবে।

কীভাবে অ্যাপটি ডেটা নেবে তা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারেনি উন্নত দেশগুলো। স্মার্টফোন থেকে ডেটা নিতে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে বা ভবিষ্যতে হবে সেগুলো হলো-

জিপিএস স্যাটেলাইট লোকেশন ডেটা

এ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির জিপিএস স্যাটেলাইট লোকেশন ডেটার রেকর্ড নেয়া যাবে। এর মাধ্যমে তার সংস্পর্শে আসা অন্য ব্যক্তিদের সতর্ক করা যাবে। তবে এই পদ্ধতিতে সব জায়গার লোকেশন ডেটা নেওয়া সম্ভব হবে না। কারণ ফ্ল্যাট বাড়ির ভেতরে থাকলে এই প্রযুক্তি ভালোভাবে কাজ করে না।

চীনেও কিউআর কোড স্ক্যান করে বাস, পার্ক, রেঁস্তোরা ও অন্যান্য পাবলিক প্লেসে গেলে তার রেকর্ড রাখা হচ্ছে। কিন্তু বিল্ডিংয়ের ভেতরে কার সঙ্গে কে দেখা করছে তার রেকর্ড থাকে না।

মোবাইল টাওয়ার

ব্যবহারকারী কোথায় কখন যাচ্ছেন তার রেকর্ড মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমেও পাওয়া যায়। তবে স্যাটেলাইট ডেটার তথ্য বেশি নির্ভরযোগ্য। কোনো ব্যক্তি লকডাউন মানছেন কিনা সে তথ্য টাওয়ারের লোকেশন ডেটা থেকে নেওয়া যেতে পারে।

স্মার্টফোনের ব্লুটুথ

স্মার্টফোনে ব্লুটুথ ব্যবহারেও সুফল মিলতে পারে। ব্লুটুথ ব্যবহার করে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের জন্য বিশেষ অ্যাপ তৈরির কাজ করছে অ্যাপল ও গুগল।

তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা যেখানেই যান না কেনো স্মার্টফোনের ব্লুটুথ কাছাকাছি থাকা অন্যান্য স্মার্টফোনের সঙ্গে নির্দিষ্ট কি কোড আদান প্রদান করবে। অন্যদের ফোনের কি কোড ব্যবহারকারীর ফোনে সেইভ থাকবে ১৪ দিন পর্যন্ত। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হলে অ্যাপটির মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে সবাইকে তা জানানো যাবে এবং সেন্ট্রাল ডেটাবেইজে স্মার্টফোনের নির্দিষ্ট কি কোডটি যুক্ত করা যাবে। ডেটাবেইজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিদিন ডাউনলোড হবে। ফলে ফোনে সেইভ থাকা কোনো একটা কোড ওই কোডের সঙ্গে মিলে গেলে স্মার্টফোনের মালিক সহজেই বুঝতে পারবেন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে তিনি এসেছিলেন কিনা।

অ্যাপল ও গুগল তাদের অপারেটিং সিস্টেমে অ্যাপটি যুক্ত করতে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে লোকেশন ডেটার প্রয়োজন পরবে না। ফলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না।

তবে অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে এই অ্যাপের ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। বিপুল সংখ্যক মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার করলে তবেই করোনাকে ঠেকানো যাবে।

বিবিসি অবলম্বনে এজেড/এপ্রিল ২৫/২০২০/১৩১২

আরও পড়ুন – 

দেশে করোনাভাইরাস ইনফরমেশন সেন্টার চালু করেছে ফেইসবুক

ইন্টারনেটহীন ৩৬০ কোটির কাছে করোনার বার্তা যাবে টেলিফোনে

কোভিড -১৯ ট্র্যাকার আনল তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ

*

*

আরও পড়ুন