Samsung IM Campaign_Oct’20

বিনামূল্যে স্পেকট্রাম পেতে এখনও আশাবাদী রবি

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিনামূল্যে স্পেকট্রাম চাওয়াকে মন্ত্রণালয় বাস্তবসম্মত মনে না করলেও এখনই আশা ছাড়ছে না রবি। 

করোনায় বাড়তি ইন্টারনেট ব্যবহার সামাল দিতে ৩ মাসের জন্য বিনামূল্যে ওই স্পেকট্রাম চেয়েছিল রবি, সঙ্গে ছিল বাংলালিংক ও টেলিটক। 

কিন্তু বিনামূল্যে এই স্পেকট্রামের আবেদনকে বাস্তবসম্মত না উল্লেখ করে তা দেয়ার চিন্তাভাবনা নেই বলে বুধবার টেকশহরডটকমকে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। 

বৃহস্পতিবার রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম টেকশহরডটকমকে জানান, করোনা ভাইরাসজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনস্বার্থে তিন মাসের জন্য বিনামূল্যে স্পেকট্রাম বরাদ্দ চেয়ে রবি সরকারের কাছে আবেদন করেছে। রবির এ আবেদনে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশাবাদী তারা।

রবির উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলছেন, রবি হঠাৎ করেই স্পেকট্রামের ডিমান্ড দেয়নি। পুরো পরিস্থিতি নিয়ে বিটিআরসি-টেলিযোগাযোগ বিভাগের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করেই আবেদন করেছেন। 

অপারেটরটি সে আলোচনায় পজিটিভ মনোভাবই পেয়েছে বলেই আবেদন করেছে।  

প্রথমে সবগুলো অপারেটর মিলেই স্পেকট্রাম চাওয়ার আলোচনা চলছিল। গ্রামীণফোন সেখানে ছিল কিন্তু তারা তখন ডিসকাউন্টে স্পেকট্রাম চাওয়ার আলোচনা তোলেনি। 

রবির বিনামূল্যে স্পেকট্রাম চাওয়ার ব্যাখ্যায় জানা গেছে, সরকারের কাছে অব্যবহৃত স্পেকট্রাম রয়েছে। যা থেকে সরকারের কোনো আয় হচ্ছে না। এই অবব্যহৃত স্পেকট্রামই করোনাকালীন দুর্যোগ সময়ে বিনামূল্যে চাওয়া হয়েছে। আর এই স্পেকট্রাম হতে যে আয় হবে তার রেভিনিউও সরকার পাচ্ছে ।  

এদিকে করোনা দুর্যোগে সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা হতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া আর প্রণোদনা ও ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেমের সহযোগিতার বিষয়কে ভিন্ন হিসেবে দেখছেন তারা।

রবির ভাবনা, অনেক বড় কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান নানাভাবে করোনা দুর্যোগে এগিয়ে এসেছেন এখন আবার প্রণোদনা নিচ্ছেন। তারা তো প্রণোদনা চায়নি, স্পেকট্রাম চেয়েছে। 

 রবির সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল এই কর্মকর্তা বলছেন, এখন নেটওয়ার্কের ডিজাইন বদলে গেছে। ঈদের সময় যে পরিকল্পনায় প্রস্তুতি নেয়া হয় এবার সেটি নেয়া যায়নি। ঈদের সময়ে মানুষের মুভমেন্ট নিয়ে একটা ডেটাভিত্তিক ধারণা থাকে। কিন্তু এখনকার মুভমেন্ট ঈদের মতো নয়। মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে, ঘরে থাকছে এবং তুলনামূলক বেশি ডেটার ব্যবহার করছে। 

‘দেখা যাচ্ছে ২৮ হতে ৩০ শতাংশ ডেটার ব্যবহার বেড়েছে। অন্যদিকে ভয়েস কলের পরিমান কমেছে। ফলে ভয়েস রেভিনিউ কমে গেছে ২১ শতাংশ আর ডেটা রেভিনিউ বেড়েছে ২ শতাংশ। সব মিলিয়ে রেভিনিউ কমে গেছে ১২ শতাংশ’ বলছিলেন তিনি ।  

তিনি জানান, রবির দৈনিক রেভিনিউ কমছে ৪ কোটি টাকা। সর্বশেষ ৩০ দিনে অপারেটরটি রেভিনিউ  হারিয়েছে ১২০ টাকা। যদি করোনার কারণে লকডাউন পরিস্থিতি  আরও ৩০ দিন বাড়ে  তাহলে এই রেভিনিউ লস দ্বিগুণ হয়ে যাবে। 

২০১৯ সালে অপারেটরটি নিট মুনাফা করেছিল ১৭ কোটি টাকা। সেখানে এভাবে আয় হারানো অপারেটরটিকে মুনাফা ধরে রাখার ভাবনা ছেড়ে বড় লোকসান ঠেকানোর চ্যালঞ্জে ফেলবে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে গ্রামীণফোনের ছাড়ে স্পেকট্রাম চাওয়ার আবেদনকে বাস্তবসম্মত মনে করছে সরকার। সেখানে ছাড়ে স্পেকট্রাম নেয়ার কথা বলা হলে সেটি রবির জন্য আবার কঠিন  বলে বলেছেন রবির এই দাায়িত্বশীল কর্মকর্তা। 

প্রতিদিন আয় কমে যাওয়ার মধ্যে বড় অংকের টাকা খরচ করা রবির জন্য মরার উপর খাড়ার খা হবে বলে তার মত।

রবি স্পেকট্রাম পেলে এক সপ্তাহের মধ্যে তা ব্যবহার উপযোগী করতে পারবে। তাদের হার্ডওয়্যার রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ফোরজি চালুর সময় স্পেকট্রাম পেয়ে ১ দিনের মধ্যে ৬৪ জেলায় সেবা চালু করেছে রবি। 

রবি ১৮০০ এবং ২১০০ দুটি ব্যান্ডেই স্পেকট্রাম চেয়েছে। ২১০০ ব্যান্ডে থ্রিজির জন্য ৫ মেগাহার্জ এবং ১৮০০ ব্যান্ডে ফোরজির জন্য ৫ মেগাহার্জ। ১৮০০ ব্যান্ডে ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্জের নীচে নিয়ে তার ব্যবহার উপযোগিতা নেই।  

স্পেকট্রাম পেলে রবি ঢাকাতে প্রতি গ্রাহককে ১৪ হতে ১৫ এমবিপিএস এবং ঢাকার বাইরে প্রতি গ্রাহককে ৪ হতে ৯ এমবিপিএস ডেটা দিতে পারবে।

বিনামূল্যে স্পেকট্রাম পেলে একদিকে সরকার অব্যবহৃত স্পেকট্রাম হতে রেভিনিউ পাবে, দুর্যোগকালে গ্রাহক মানসম্মত সেবা পাবে এবং গ্রাহকের ডেটার ব্যবহারের চাপ সামলে লোকসান খানিকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মত এই কর্মকর্তার।   

এডি/২০২০/এপ্রিল২৩/২৩৫৯

*

*

আরও পড়ুন