Techno Header Top and Before feature image

করোনায় বেড়েছে রোবটের চাহিদা

হাসপাতালের মেঝে মুছতে রোবটের চাহিদা বেড়েছে। ছবি : বিবিসি
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : করোনাভাইরাস ছড়ানোর পর থেকেই স্বয়ংক্রিয় রোবটের চাহিদা বেড়ে গেছে।

সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে বাসা থেকে কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু অনেক পেশার মানুষের কাছে বাসা থেকে কাজের চিন্তা বিলাসিতা মাত্র। যারা বাসা থেকে কাজ করতে পারেন না তাদেরকে ঝুঁকি উপেক্ষা করেই কাজে যেতে হচ্ছে। যেমন পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা ডেলিভারি ম্যানদের পক্ষে অনলাইনের উপর নির্ভর করে কাজ করা অসম্ভব। কাজের খাতিরে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তাকে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। আর এ কারণেই বাড়ছে অটোমেটেড রোবটের চাহিদা। সরাসরি বললে, করনাভাইরাসের সংক্রমণ শুধু জীবন নয়, অনেকের চাকরিও কেড়ে নিচ্ছে।

২০২১ সালের আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না। এমন অবস্থায় মার্টিন ফোর্ড নামের এক ফিউচারিস্ট জানিয়েছেন, মানুষ সব সময়ই রোবটের বদলে মানব কর্মীকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলে এসেছে। তবে কোভিড-১৯ রোগের মহামারী এই চিন্তা ধারা বদলে দেবে এবং এতে অটোমেশন প্রযুক্তির প্রসার ঘটবে।

যে সব কাজ করছে রোবট

ইতোমধ্যে মার্কিন রিটেইল শপ ওয়ালমার্ট তাদের মেঝে পরিস্কারের জন্য রোবট ব্যবহার করছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে রোবট। রেস্টুরেন্টের খাবার সরবরাহেও রোবট কাজে লাগানো হচ্ছে।

কাস্টমার অব দ্য ফিউচার বইয়ের লেখক ব্লেক মরগান জানিয়েছেন, মানুষ এখন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে ভাবছে। শুধু মাত্র অটোমেটেড রোবট ব্যবহার করেই এ পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব। কারণ কর্মীদের কাছ থেকে সেবা নিতে বা পণ্য ডেলিভারি নিতেও মানুষ ভয় পাচ্ছে।

মার্কিন ফাস্ট ফুড চেইন শপ ম্যাকডোনাল্ডস খাবার রান্না ও পরিবেশনের জন্য অনেক আগে থেকেই রোবট নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। অ্যামাজনের ওয়্যার হাউজেও রোবট দিয়ে কাজ চালানো হয়। এখন দুটি কোম্পানিই পণ্য মজুদ, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া ও প্যাকিংয়ের কাজের জন্য রোবটের ব্যবহার বাড়িয়েছে।

এতে করে মানব কর্মীদের অভিযোগ কমেছে। সহকর্মীদের সঙ্গে তারা দূরত্ব রেখে কাজ করতে পারছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে তাদের চাকরি থাকবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, একবার কোনো কোম্পানি রোবটের ব্যবহার শুরু করলে দ্বিতীয় বার আর ওই পদের জন্য মানব কর্মী নিয়োগ দেয় না। কারণ রোবট কেনার খরচ আছে। তবে প্রতি মাসে রোবটকে বেতন দিতে হয় না বলে পরবর্তীতে খরচ কমে আসে।

শুধু পরিছন্নতা কর্মী, ওয়্যারহাউজ কর্মী বা ডেলিভারি ম্যান নয়, চাকরি হারাবেন স্কুলের শিক্ষক, শরীর চর্চা প্রশিক্ষক ও অর্থনৈতিক পরামর্শদাতারাও। কারণ তাদের জায়গা নিতে তৈরি করা হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

লকডাউনের কারণে এখন সবাই দূর থেকে কাজ করতে চাচ্ছে।ফলে হঠাৎ করে অনলাইন নির্ভর হয়ে যাওয়া কর্মীরা ঝুঁকিতে আছেন। কারণ তাদের অনেক কাজই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে করানো সম্ভব।

বিবিসি অবলম্বনে এজেড/ এপ্রিল ১৯/২০২০/১২১৫

*

*

আরও পড়ুন