ব্যাটারিচালিত ভেন্টিলেটর বানাবে ডাইসন ও বাংলাদেশি সোলশেয়ার

আইসিইউ-তে রাখা ভেন্টিলেটরের সামনে চিকিৎসক। ছবি : ইন্টারনেট
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কেমব্রিজ টেকনোলজি হটস্পট টিটিপি কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়তে ডাইসনের সঙ্গে ভেন্টিলেটর তৈরি করবে। এজন্য বাংলাদেশি একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পার্টনারশিপও করেছে।

টিটিপি ডাইসনের সঙ্গে ১৫ হাজার ভেন্টিলেটর তৈরিতে কাজ করছে। এর ব্র্যান্ড নাম ‘দ্য কোভেন্ট’। এটি সহজেই বহনযোগ্য ভেন্টিলেটর, যা ব্যাটারি বা সৌর বিদ্যুতেও চলবে।

টিটিপি ডাইসনের প্রকল্পটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ব্যাটারি শক্তি ব্যবহারের ফলে এটি সাধারণ হাসপাতালগুলোতে যেসব জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়, তা থেকে বেরিয়ে আসবে এবং দূরের কোনো হাসপাতালেও ব্যবহার করা যাবে অনায়াসে।

এছাড়াও টিটিপি জনিয়েছে, তারা ঢাকার এমই সোলশেয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের সৌর শক্তি নিয়ে কাজ করবে। যৌথ উদ্যোগের লক্ষ্য সোলশেয়ার-এর সোলবক্স প্ল্যাটফর্মের পাওয়ার ভাগ করে নেওয়ার যে সম্ভাবনা সেটির সক্ষমতা অন্তত দশগুণ বৃদ্ধি করা।

একটি স্মার্ট পিয়ার টু পিয়ার মাইক্রো গ্রিড রিয়েল টাইমে যে অতিরিক্ত সৌরশক্তি উৎপাদন করে তাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখতে পারে।

সোলশেয়ার বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন সৌরশক্তি উৎপাদন ও ব্যবহার করে। যা সেসব অঞ্চলে শক্তির অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করে। এটি ব্যবহারকারীদের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে বিক্রি করে আয়েরও সুযোগ দেয়।

উচ্চ দক্ষতার দ্বি-নির্দেশমূলক ডিসি-থেকে-ডিসি বিদ্যুৎ রূপান্তরকারীকে ডিজাইন করে টিটিপি এবং সোলশায়ারের লক্ষ্য এই ইউনিটগুলোতে বর্তমানে ১০০ কিলোওয়াট সীমা থেকে প্রতি ইউনিট ১ কিলোওয়াট তৈরি করা। এর মানে আরও বেশি পরিমাণ ব্যবহারকারী তাদের চাহিদা মিটিয়ে ইলেক্ট্রিসিটি বিক্রি করতে পারবেন এমনকি তারা উচ্চ ক্ষমতার সব অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবহার করতেও পারবেন।

টিটিপি পাওয়ার ইলেক্ট্রনিক্সের দক্ষদের নিয়ে বায়ো-ডিরেকশনাল পাওয়ার কনভার্টারের উন্নয়নে কাজ করবে। একই সঙ্গে এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনও করবে।

সোলশেয়ারের সঙ্গে ভেন্টিলেটর বানাবে ডাইসন। ছবি : ইন্টারনেট

এই সক্ষমতার মধ্যে মিটারিং, ওয়্যারলেস যোগাযোগ, নিরাপত্তা, পাওয়ার কনভার্সান এবং ইউজার ইন্টারফেইস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। টিটিপি এবং সোলশেয়ারের লক্ষ্য চলতি বসন্তেই নতুন সিস্টেমের প্রোটোটাইপ তৈরি সম্পন্ন করা।

বিশ্বব্যাপী অন্তত একশো কোটি মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার আওতার বাইরে আছেন। একই সঙ্গে আরও অন্তত শতকোটি মাঝে মাঝে সংযোগ সুবিধা পান। সেসব অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাসাবাড়িতে সৌর প্যানেল স্থাপন করে দীর্ঘ মেয়াদী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করা যায়।

তবে এর শুরুতে  খরচ সেটা অনেকেই বহন করতে না পারায় মানুষজনকে এই সুবিধার বাইরে থাকতে হচ্ছে। এছাড়াও প্রতি বছর অন্তত গড়ে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে অব্যবস্থাপনার কারণে।

সোলশেয়ারের পিয়ার-টু-পিয়ার মাইক্রো-গ্রিড এসব অতিক্রম করতে সহায়তা করেছে। সৌরবিদ্যুৎ এখানে ভিন্নভাবে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। যেখানে বাসাবাড়ির প্রয়োজন মিটিয়ে বাকিটা ব্যবহারকারীদের অন্যদের কাছে সরবরাহ করতে পারে।

ফলে অতিরিক্ত বিদুৎ বিক্রি করে প্রথমবারের যে খরচ সেটি উঠিয়ে ফেলতে পারেন গ্রাহকরা। এমন করে বিদ্যুতের ব্যবহার বিশেষ করে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা বাড়াচ্ছে।

সোলশেয়ার দেশের ভিতর ও ভারতে  ২৮ মাইক্রো-গ্রিডের সুবিধা দিয়ে এর ইনস্টলেশন করছে। এর ফলে ব্যবসাক্ষেত্রে এবং সন্তানদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ সোলশেয়ার সারাবিশ্বে ১৬০ মাইক্রো-গ্রিড তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

একত্রে কাজ করে এই সক্ষমতা আরও বাড়াতে চায় টিটিপি এবং সোলশেয়ার। ভবিষ্যতে দুই প্রতিষ্ঠান মিলে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন করতে চায়।

টিটিপির ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজির প্রধান ড. ডেভিড স্মিথ বলেন, এমন সুনামধন্য একটি প্রকল্পে যুক্ত হতে পেরে আমরা গর্বিত। এর মাধ্যমে বিশ্বের অনেক মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এটি বেশি কার্যকরী হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তি কতটা কার্যকরী হতে পারে এই প্রকল্প তার একটি উদাহরণ মাত্র।

ইন্টারনেট অবলম্বনে ইএইচ/এপ্রি১৫/২০২০/ ১২৫০

আরও পড়ুন –

ভেন্টিলেটর বানানোর উদ্যোগে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, মিলেছে বিশ্বখ্যাত কোম্পানির পেটেন্ট

জীবন বাঁচাতে ভেন্টিলেটর কেন জরুরি? কীভাবে কাজ করে

রাস্পবেরি পাইভিত্তিক ভেন্টিলেটরের টেস্টিং শুরু

হাসপাতাল পরিচালনায় টেক জায়ান্টদের সহায়তা চায় যুক্তরাজ্য

*

*

আরও পড়ুন