বিনামূল্যে ৩ মাস বাড়তি স্পেকট্রাম চায় ৩ অপারেটর

Evaly in News page (Banner-2)

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রাহকদের বাড়তি চাহিদায় ঠিক মতো সেবা দিতে অল্প সময়ের জন্য অতিরিক্ত কিছু স্পেকট্রাম চেয়ে তিন অপারেটর যৌথভাবে আবেদন করেছে।

এ তিন মোবাইল ফোন অপারেটর হলো রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক। অপারেটরগুলো এ ব্যান্ডউইথ বিনামূল্যে চাইছে।

হঠাৎ করে এমন পদক্ষেপের কারণ হলো করোনার এ সংকটে সাধারণ ছুটিতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটের ব্যবহার যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন সর্বোচ্চ।

তিন অপারেটরের সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন গত রোববার জমা পড়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি)।

রবির চিফ করপারেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম টেকশহরডটকমকে জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটের ব্যবহার ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়তি স্পেকট্রাম ছাড়া অন্য কোনোভাবে এখন ডেটার গতি এবং সেবার মান ঠিক রাখা সম্ভব নয়।

‘পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকার জনগণকে সহযোগিতা করার জন্য অপারেটরদের জরুরি ভিত্তিতে বিনামূল্যে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দিচ্ছে।  বাংলাদেশে স্পেকট্রামের দাম বরাবরই অপারেটরদের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল, যে কারণে আমরা সব সময় স্পেকট্রামের সংকটে ভুগেছি। অব্যবহৃত স্পেকট্রাম জনগণ বা সরকারের জন্য কোনো ভ্যালু অ্যাড করছে না। এ কারণে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও বাড়তি স্পেকট্রাম বরাদ্দ চেয়ে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি’ বলছিলেন তিনি।

সাহেদ আলম আশা করেন ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রকৃত সুবিধা জনগণকে আরও বেশি করে পৌঁছে দিতে সরকার অব্যবহৃত তরঙ্গ অপারেটরদের দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

এদিকে দেশের প্রধান অপারেটর গ্রামীণফোন এই ইস্যুতে আগে থেকেই অপারেটর তিনটির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এ কারণে তারা এই বিষয়ে যুক্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

বিটিআরসিকে পাঠানো চিঠিতে তিন মাস সময়ের জন্য স্পেকট্রাম চাওয়া হলেও কয়েকটি বিষয় এখানে পরিস্কার করে উল্লেখ করা হয়নি।

এর মধ্যে উল্লেখ করার মতো একটি বিষয় হলো – অপারেটর তিনটি কিভাবে স্পেকট্রাম চায়। তারা কিনে নেবে নাকি ফ্রি স্পেকট্রাম ব্যবহার করতে চায় তার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

তাছাড়া কিনে নিলে সেক্ষেত্রে মূল্য কতো হবে তাও চিঠিতে নেই।

তবে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান টেকশহরডটকমকে জানান, তারা তিন মাসের জন্য প্রাথমিকভাবে অব্যবহৃত স্পেকট্রাম বিনামূল্যে পাওয়ার আবেদন করেছেন।

তিনি বলেন, এখন গ্রাহকদের ডেটা ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে কিছু প্যাকজের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমানো হয়েছে। যেহেতু সবাই বাসায় অবস্থান করছেন তাই ডেটার ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে, যা ছোট অপারেটর হিসাবে নেটওয়ার্কে চাপ সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে দেশের বড় অপারেটরের চাপে এবং দেশের এই পরিস্থিতির কারণে বাংলালিংকের ভয়েস কলের ব্যবহার ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তাইমুর।

‘এমতাবস্থায় আমরা বিটিআরসির কাছে আগামী ৩ মাসের জন্য প্রাথমিকভাবে অব্যবহৃত স্পেকট্রাম বিনামূল্যে প্রদানের জন্য আবেদন করছি যাতে  নির্বিঘ্নে এই সংকটে গ্রাহকদের সেবা প্রদান অব্যাহত রাখা যায়’ বলছিলেন তাইমুর রহমান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মাসের সঙ্গে তুলনা করলেও সামগ্রিকভাবে মোবাইল ডেটার ব্যবহার ৩০ শতাংশের মতো করে বেড়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি হয়ে যাওয়া এবং এরপর ২৬ মার্চ থেকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ছুটি হয়ে যায়।

মূলত হোম অফিস এবং মানুষের ঘরে থাকার কারণে অনলাইন ভিত্তিক বিনোদনের কারণে ইন্টারনেটের ব্যবহার অনেক বেড়েছে।

জেডএ/আরআর/এপ্রিল ১৪/২০২০/০১.৫০

*

*

আরও পড়ুন