করোনাভাইরাস : দূরে থেকেও সম্পর্ক ভালো রাখার উপায়!

দূরে থেকেও নানা উপায়ে সম্পর্ক ভালো রাখা যায়। ছবি : ইন্টারনেট
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে অনেকেই তার পরিবার ও বন্ধু বান্ধবদের থেকে দূরে কোথাও আটকা পড়েছেন। এখন প্রায় সব দেশেই চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ফিরে যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। 

এই সময়ে অবশ্য কয়েকটি টোটকা জানা থাকলেই দূরে থেকেও সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা যায়।  আমরা নিশ্চয় এই সমেয় ভিডিও কল বা নানা ধরনের ভয়েচ ও ভিডিও কলিং অ্যাপ ব্যবহার করছি। তবে এর বাইরেও বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন আরও কিছু টোটকা। 

কানের সঙ্গে সংযুক্ত 

এই সময়ে অবশ্যই আমরা অনেক ভিডিও কল পাচ্ছি বা করে থাকি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, ভিজ্যুয়াল ছাড়াই আমরা আরও ভালোভাবে আবেগ ধরতে পারি। 

নিরবতার শক্তি : কোনো একটি কলে নিরব থাকলে অনেকেই মনে করেন লাইন কেটে গেছে। কিন্তু এমন নিরবতা দুজনকে আরও কাছে নিয়ে আসে। এই নিরবতা যতো দূরেই অপর প্রান্তের মানুষটি থাকুক না কেনো তাকে একেবারে কাছে আনে এবং তাকে আরও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। 

এয়ারটাইমের সমতা : চ্যাট করার সময় সেটা বন্ধু হোক বা বাবা-মা, সময় কিন্তু সমান ভাগে ভাগ হয়। কিন্তু ফোন কলের ক্ষেত্রে সেটির মূল্যই ভিন্ন। সেখানে মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময়ও মনে হয়, ৩০ মিনিট কিছুই না। 

গভীরভাবে শোনা : কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনা অন্যকে সত্যিকারের কাছে এনে দিতে পারে। অনুভব করতে পারা যায়। এতে আমাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া যায় ফোন কলে। তার প্রতিটি শব্দ, আবেগ, তার ভিতরের অর্থ এবং পুরো আলোচনার একটা সারাংশও সহজেই করা যায়। 

কথা হোক চোখে চোখে

কথা বলার সময়ে সবচেয়ে কার্যকর যোগাযোগ হলো চোখের সঙ্গে। যে কারো মুভমেন্ট ও কথার আবেগ তার চোখে বেশি প্রকাশ পায়। 

গবেষকরা দেখান, আমরা যতো বেশি চোখের সঙ্গে সংযুক্ত হবো, অন্যরা তত বেশি মনোযোগ দেবেন।

কিন্তু ভিডিও কলের ক্ষেত্রে এখানে একটা বড় বাধা আছে। কারণ, ডিভাইসের ক্যামেরাগুলো থাকে একেবারে কোনো একপাশে। ক্যামেরার অবস্থানের কারণেই সরাসরি চোখে তাকিয়ে কথা বলা যায় না। 

গত প্রায় ৩০ বছর থেকে ভিডিও কনফারেন্স কলের ক্ষেত্রে ডিভাইসের এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এখনো তা সম্ভব হয়নি। তাই ভিডিও কলে সরাসরি চোখে চোখ রেখে কথা বলাও হয় না। 

ল্যাপটপ উচু করে ধরুন : যদি ল্যাপটপে কথা বলেন, তাহলে অবশ্যই ল্যাপটপটি আপনার চোখের সমান উঁচুতে ধরে কথা বলুন। 

স্টিকারে মুখ আঁকুন : কোনো একটি স্টিকারে মুখ এঁকে সেটির দিকে ক্যামেরা ধরে দেখুন ঠিক আই কন্টাক হয় কিনা। 

আপনার ফেইস লুকিয়ে রাখুন : আই কন্টাক করতে অসুবিধা মনে হলে আপনার ফেইস ঢেকে রাখুন। তাতে কথা বলা আরও সাবলীল হয়ে উঠবে। 

ব্যাকগ্রাউন্ড বদলে দিন : যদি একেবারে অসুবিধা মনে হয় তাহলে ভিডিও কলের সময় আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড বদলে দিতে পারেন। যাতে মনোযোগ আপনার দিকে থাকে। 

স্পর্শ ছাড়াই যুক্ত থাকুন

বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ লন্ডনের প্রযুক্তি ও যোগাযোগের অধ্যাপক কেরি জ্যুইট বিশ্বাস করেন যে, অনলাইন কথোপকথনে স্পর্শের অভাব সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

তিনি বলেন যে, স্পর্শ হচ্ছে মানুষের প্রথম জ্ঞান। কারণ গর্ভাবস্থায় আমরা স্পর্শটাকেই প্রথম অনুভব করি। এটি বার্তা দেওয়া ও নেওয়ার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে কার্যকর একটি উপায়। 

আবেগ ও স্পর্শ দুটি খুবই সম্পর্কযুক্ত হিসেবে দেখান গবেষকরা। 

ফিল দ্য কানেকশন : করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমরা প্রত্যেকেই এখন একে অপরের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছি এবং একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি। বেঁচে থাকার তাগিদেই আমরা তা করছি এবং এটিই প্রথম কোনো সঙ্কট যেখানে পৃথিবীর সবাই বিচ্ছিন্ন থাকছে।  আর এখনই সত্যিকারের অনুভূতি অনুভব চর্চার অন্যতম সময়। 

অঙ্গভঙ্গির নতুন আঙ্গিক তৈরি : আপনি আপনার হার্ট স্পর্শের চেষ্টা করুন, অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন এবং সেগুলো স্ক্রিনে অন্যের সঙ্গে শেয়ার করার চেষ্টা করুন। এটি আপনাকে তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে সহায়তা করবে। 

নিজের দুর্বলতা দেখান : ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে কোনো বিষয়ে একেবারে সৎ হোন। কথা বলার শুরুর দিকেই ব্যক্তিগত কোন বিষয় উন্মুক্ত করুন। 

নিরাপদ জায়গা তৈরি করুন : কথা বলার সময় জিজ্ঞেস করুন কেমন লাগছে কথা বলে। আপনি কি চান, সে কি চায় সেসব জানার বোঝার চেষ্টা করুন। তাহলেই দেখা যাবে যোগাযোগ হয়ে উঠেছে দ্বিপাক্ষিক এবং কার্যকর। 

বিবিসি অবলম্বনে ইএইচ/ এপ্রি১৩/২০২০/ ১৫৪৮

আরও পড়ুন – 

বয়স্কদের হতাশা দূরে রাখে ভিডিও চ্যাট

মানসিক চাপ কমাবে যে ৭ অ্যাপ

ফোন জীবাণু মুক্ত রাখার কৌশল

*

*

আরও পড়ুন