Techno Header Top

ডিজিটাল কমার্স দিবস পালনে উদ্যোগ নেবে সরকার : জব্বার

ফাইল ছবি
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ৭ এপ্রিলকে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স দিবস পালনের জন্যে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

গত কয়েক বছর দিনটিকে কমার্স দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। এমন কি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহকে ই-কমার্স সপ্তাহ হিসেবেও পালন করেছে তারা।

দিনটি উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার ই-ক্যাব আয়োজন করে এক অনলাইন আলোচনার। যেখানে ই-ক্যাব নেতৃবৃন্দ্ব দিনটিকে জাতীয় ই-কমার্স দিবস হিসেবে পালনের দাবি করলে জব্বার বলেন, জাতীয় ই-কমার্স দিবস পালনের আর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং ডিজিটাল কমার্স দিবস পালনের বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে।

তবে দিনটি পালনের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘তারপরেও আমরা টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। আমরাই হয়তো প্রস্তাবটি তুলতে পারি।’
আলোচনায় অংশ নেওয়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানান তারা বিষয়টি নির্দেশনা হিসেবে নিচ্ছেন এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

অনলাইন আলোচনার শুরুতে বক্তব্য দিলেও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি এ সময় সংযুক্ত ছিলেন না।

বেশ কয়েক বছর আগে ৭ এপ্রিল জন্ম হয়েছে ই-ক্যাবের। তারপর থেকে দিনটিকে ধরে নানা আয়োজন করে আসছে ই-ক্যাব। দিনটি আসার আগেই বিভাগীয় পর্যায়ে মেলার আয়োজন করাসহ ঢাকায় বড় আয়োজন করে।

এ বছর আয়োজনের কর্মসূচী দিয়েও করোনার কারণে খুব একটা এগুতে পারেনি। পরে তাদের আয়োজন স্থগিত করতে হয়েছে।

পরে দিনটিকে সামনে রেখে অনলাইনে ‘মানবতার সেবায় ই-কমার্সের ডাক’ আলোচনার আয়োজন করে ই-ক্যাব।

দিনটি পালনের জন্যে ই-ক্যাব মানব সেবা নামের একটি ওয়েব সাইট খুলে (http://manobsheba.com/) সেখান সর্বসাধারণের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করছে যেটি দিয়ে তারা করোনা মোকাবেলায় মানব সেবার কাজে যুক্ত হতে পারেন বলেও আলোচনায় জানানো হয়েছে।

শুরুতে আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, করোনার কারণে ব্যবসা বাণিজ্যকেন্দ্রিক যে ঝুঁকির মধ্যে দেশ পড়েছে সেখান থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ ই-কমার্স।

অনেক সাধারণ মানুষও নিজেদের চাহিদার কারণেই এখন এই ধরণের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে মনে করেন তিনি। সেক্ষেত্রে ই-কমার্স খাতকে যে কোনো সহযোগিতা দেওয়ার জন্যে তার মন্ত্রনালয় স্ট্যান্ডবাই থাকবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশান (এটুআই) এর সিনিয়র পলিসি ফেলো আনির চৌধুরী বলেন, করোনা আর সব খাতের জন্যে যেমন তেমন ই-কমার্সের জন্যে আশীর্বাদ হয়ে হাজির হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যে মানুষ এর আগে অনলাইনে কিছু কেনার কথা চিন্তাও করতে পারতো না এখন তিনি তার প্রয়োজনীয় সব কিছুর জন্যে অনলাইনেই আগে খোঁজ করছেন।এই সম্ভাবণাকে সরকারের কাজে লাগতে হবে।’

ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার জানান, দেশে এখন বছরে আট হাজার কোটি টাকার কেনাকাটা অনলাইনের মাধ্যমে হয়।

তার মতে, যদিও ডেলিভারিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে তারপরেও করোনা পরিস্থিতিতে ই-কমার্স খাতই কেবল পারে সহজে এবং নিরপদে ঘরে ঘরে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং লজিস্টিক ব্যবসার সঙ্গে থাকা উদ্যোক্তরা জানান, সরকারের অনুমোদন থাকার পরেও স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা সদস্যদের দ্বারা হরহামেশাই নাজেহাল হচ্ছেন তাদের কর্মীরা।

আলোচনা সঞ্চালনা করেন ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। তাছাড়া আলোচনায় অংশ নেন আইসিটি সচিব এনএম জিয়াউল আলম, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক এসএস ভদ্র, ই-ক্যাবের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এবং ই-ক্যাবের নেতারা।

জেডএস/ইএইচ/ এপ্রি০৭/২০২০/১৬৪০

*

*

আরও পড়ুন