Techno Header Top and Before feature image

আফ্রিকায় ড্রোন যেভাবে জীবন রক্ষাকারী হয়ে উঠছে

ড্রোন দিয়ে রক্ত সরবরাহ করে মৃত্যুহার কমিয়েছে আফ্রিকার দেশগুলো। ছবি : ইন্টারনেট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ‘মৃত্যু খুব দ্রুত আসে’- আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে প্রখর রোদে বসে থেকে তেমনটাই বলছিলেন টেমি গিওয়া তুবসুন। 

তিনি কথা বলছিলেন, সন্তান জন্মদানের পর আঘাত বা রক্তপাত সম্পর্কে। 

‘আমি সবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছি এটা ভেবে যে, তারপরও এ বিষয়ে নজর বা মনোযোগ দেওয়া হয় না। অথচ এটিই এ অঞ্চলের মৃত্যুর অন্যতম কারণ’ বলেন তুবসুন। 

তুবসুনের কোম্পানি লাইফব্যাঙ্ক তার দেশ নাইজেরিয়া এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোর হাসপাতালে জীবন রক্ষার জন্য রক্ত সরবরাহ করে থাকে। 

সাধারণভাবে এসব রক্ত সড়কপথে বা নৌকায় করে পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু ইথিওপিয়াতে রক্ত পৌঁছানো হয় ড্রোনে করে। 

গিওয়া তুবসুন প্রথমবারের মতো কিগালি গিয়েছেন আফ্রিকান ড্রোন ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে। চকচকে কনভেনশন সেন্টারটি দেখতে একেবারে মৌমাছির চাকের মতো।  

রাতের বেলা শহরটিতেহ রংধনুর মতো সব আলো দেখা যায়। এমনকি দেখে মনে হয় কিগালি শহরের মস্তকে কেউ হীরার মুকুট পরিয়ে দিয়েছে।

আফ্রিকার শহরগুলোর মধ্যে কিগালি খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এটি যেমন রাজনৈতিকভাবে হচ্ছে, তেমনি উন্মুক্ত বাণিজ্য সুবিধায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে। 

দেশটির সরকার প্রযুক্তিকে সামনে রেখে ২০৫০ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম অর্থনৈতিক দেশ হবার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে এখনো ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট পল কাগমে ঘোষণা করেছেন, শুধু ড্রোন দিয়ে কাজই হবে দেশে। ড্রোন তৈরির কারখানা করার কথাও বলেন। পরীক্ষামূলকভাবে সেটি শুরু হওয়ার খবরও দেন তিনি। 

দেশটির শিক্ষার্থীদের কাছেও এখন ড্রোন আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক স্কুলের শিক্ষার্থীরা ড্রোনের পাইলট হবার আগ্রহের কথাও জানাচ্ছে।

লাইফব্যাঙ্কের কর্ণধার টেমি গিওয়া তুবসুন। ছবি : বিবিসি

অনুন্নত দেশগুলোতে যেমন রুয়ান্ডায় প্রযুক্তির সঙ্গে ব্যবহারকারীরা খুব দ্রুত খাপখাইয়ে নিচ্ছে বলে জানান এক কলেজ শিক্ষার্থী বেঞ্জিামিন। বেঞ্জামিন পড়াশোনা করছেন প্রকৌশল নিয়ে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে মানুষ জানেই না আসলে ড্রোন কি, কিন্তু নবীনরা বয়ষ্কদের সেটি জানাতে পারে। 

রক্ত সরবরাহে কেন ড্রোন?

তুবসুন ব্যাখ্যা করেন কিভাবে তার গাড়ির চালকরা রক্ত পৌঁছাতে গিয়ে নানা অসুবিধায় পড়েন। তিনি জানান, দিনে প্রায় ৪০০ স্থানে রক্ত সরবরাহ কাজ করতে হয়। চালকরা অনেক সময়ই অঞ্চলগুলো চেনেন না। কিছু এলাকায় ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও কিছু এলাকায় যাতায়াতে খুব অসুবিধা হয়। 

ড্রোন দিয়ে এটা করার অন্যতম কারণ হচ্ছে, রোগীদের কাছে খুব দ্রুত পৌঁছানো যায়। তবে নাইজেরিয়াতে এখনো এটি ব্যবহার করা হয়নি। 

সেখানে এখনো এর কোনো নীতিমালা নেই বলে জানান তিনি। তবে তার কথায় বোঝা যায়, দেশটিতে অনেক মানুষ এটি ব্যবহার করতে চান। তারা বদলাতে চান। এটি করতে পারলে পুরো আফ্রিকা বদলাবে বলেও মনে করেন তিনি।  

তানজিনিয়ার এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিক ফ্রেঞ্জ এমবুয়া অবশ্য ভিন্ন কথা বলেছেন। 

এমবুয়া বলেন, আমি মনে করি না আগামী এক দশকে আফ্রিকায় ড্রোন বাস্তবসম্মত কিংবা অর্থবহ কোনো অবদান রাখবে। বরং এখানে মানবিকতার জন্য, মানুষের প্রয়োজনে এটি ব্যবহার বাড়তে পারে। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে একেবারেই নয়। 

এটি এখন আফ্রিকায় কাজ করছে, কারণ এটি চলে অন্যের সহায়তায় বা স্পন্সরে। 

তুবসুন দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেছেন। তারপর দেশে ফিরে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এটি অবশ্যই কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে করেননি বলে জানান তিনি। কারণ, ড্রোনের মাধ্যমে ডেলিভারির চার্জ আফ্রিকার নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মানুষের পক্ষে পরিশোধ সম্ভব নয়। তাই এ সেবা বাণিজ্যিক আয়ের জন্য মোটেও সুবিধাজনক নয়।

তবে এই প্রক্রিয়ায় আফ্রিকার দেশগুলোতে সন্তান জন্মের পর মায়েদের মৃত্যুহার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

বিবিসি অবলম্বনে ইএইচ/এপ্রি০৭/২০২০/

*

*

আরও পড়ুন