অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নিত্যপণ্য, মিলছে সাড়া

ছবি : ইন্টারনেট
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : করোনা পরিস্থিতিতে ইভ্যালি, প্রিয়শপ বা আজকের ডিলের মতো ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসগুলো জরুরি ও নিত্যপণ্য তুলেছে।

এসব মার্কেটপ্লেসে আগে চাল, ডাল, তেল, লবণের মতো গ্রোসারি পণ্য ও ওষুধপত্র ছিল না। করোনা পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে ডেলিভারি ও লজিস্টিক সার্ভিস সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অন্য লাইফস্টাইল পণ্য ডেলিভারি বন্ধ করতে হয় তাদের।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে গ্রোসারি পণ্য বিপণনে নামে এগুলোসহ বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস।

এক্সপ্রেস শপ করে গ্রোসারি পণ্য ডেলিভারি শুরু করে ইভ্যালি। গ্রাহকরা তাদের পণ্য অর্ডার করার পর সর্বনিম্ন এক ঘণ্টা থেকে ক্ষেত্র বিশেষে সর্বোচ্চ ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের বাড়িতেই সরবরাহ পাচ্ছেন।

ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল টেকশহরডটমকে বলেন, করোনা মহামারির সময় সেবা দিতে এই শপ ।

‘এতে বিভিন্ন মহল্লায় বা এলাকায় মুদি ব্যবসা পরিচালনা করেন তারা ইভ্যালি এক্সপ্রেস শপে যুক্ত হচ্ছেন। গ্রাহক তার অবস্থান থেকে অনলাইনে অর্ডার করলে তার নিকটস্থ ইভ্যালির দোকানগুলোতে অর্ডার পৌঁছে যাবে। পরে সেই দোকান থেকেই গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে। বাজারমূল্যেই এই সেবা দেয়া হচ্ছে’ বলেন তিনি।

মোহাম্মদ রাসেল জানান, তারা দেশব্যাপী এই সেবা দিতে শুরু করেছেন। বেশ ভাল সারা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

২৪ ঘন্টার মধ্যে চালডালতেলসহ নিত্যপণ্যের সঙ্গে ওষুধপত্র ও করোনায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দিচ্ছে প্রিয়শপ ডটকম। 

প্রিয়শপ ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিকুল আলম খাঁন টেকশহরডটকমকে বলেন, সংকটকালীন এই সময় গ্রাহকরা যেন ন্যায্য দামে ঘরে বসে নিত্যপণ্যসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পেতে পারে সেজন্য এই আয়োজন।

ডেলিভারিতে কর্মী ও গ্রাহকদের সুরক্ষাসহ প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ডেলিভারি করার সময় সেফটি কিটস ব্যবহার করছে কিনা তা চেক করাসহ ডেলিভারি কর্মীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কথাও জানান তিনি।

মাত্র কয়েকদিনে এসব পণ্যে দৈনিক অর্ডারে ব্যাপক সাড়া পড়েছে বলে জানান আশিক।

আজকের ডিলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ফাহিম মাসরুর টেকশহরডটকমকে জানান, তাদের অন্যসব পণ্যের ডেলিভারি এখন বন্ধ রয়েছে।  দু-একদিন হয়েছে গ্রোসারি পণ্য তুলেছেন তারা। গ্রাহকরা যেন ঘরে বসে জরুরি ও নিত্যপণ্য পেতে পারে তারজন্য এই ব্যবস্থা।

মানুষের রেসপন্স ভাল, বলছিলেন তিনি।

অন্যদিকে নিত্যপণ্য বা গ্রোসারি পণ্য সরবরাহের ই-কমার্স প্লাটফর্ম চালডাল ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলীম টেকশহরডটকমকে জানান, সাধারণ সময়ের চেয়ে তারা দেড়গুণ বেশি পণ্য ডেলিভারি দিচ্ছেন। চাহিদার বিপরীতে ডেলিভারি ও ওয়্যারহাউজ সংকটের কারণে অনেক অর্ডার তারা নিতে পারছেন না।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি হতে মার্চ মাসের ২৫ তারিখ আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছে চিঠি দিয়ে ডিজিটাল কমার্স বা ই-কমার্সসহ প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তি সেবা কার্যক্রম যেন চলতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ই-কমার্স খাতের সংগঠন ই-ক্যাব মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল টেকশহরডটকমকে জানিয়েছিলেন, কার্যক্রম চালানোর জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক অনুমতি পাওয়া গেছে।

ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতেও দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে ই-কমার্স সেবা যেন নির্বিঘ্নে চলতে সহযোগিতা করা হয়।

তমাল বলছিলেন, করোনার কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ই-কমার্স ও এর লজিস্টিক কার্যক্রম সচল রাখতে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। এখন এই সেবা বিঘ্নহীনভাবে চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এডি/২০২০/এপ্রিল০২/২১২০

*

*

আরও পড়ুন