রাতেও পাওয়া যাবে সূর্যের আলো!

ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়া
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রাতেও সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আলোর যোগান দিতে অভিনব পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছে সোলারস্পেস নামে একটি কোম্পানি।

কোম্পানিটির ধারণা মহাকাশে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় বিশাল আকারের আলোক প্রতিফলক রাখার মাধ্যমে রাতের বেলায় পৃথিবীর অপরপ্রান্তে আলো দিতে থাকা সূর্যের শক্তি ব্যবহার করা যাবে। প্রতিফলিত ওই আলো সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিফলনের মাধ্যমে সৌরশক্তি উৎপাদন করা যাবে।

এতে রাতের বেলাতেও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।

ধারণাটির উপর কাজ করতে সোলারস্পেসকে পাঁচ বছরের গবেষণা অনুদান হিসেবে সাড়ে ২৭ লাখ ডলার দিয়েছে ইউরোপিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল।

ধারণাটি খুবই সোজাসাপটা। মহাকাশে অত্যন্ত হালকা ওজনের বিশাল একটি প্রতিফলক রেখে দেওয়া, যেটি সূর্য যেখানেই থাকুক না কেন সেখান থেকে আলোকে সোলার প্ল্যান্টে প্রতিফলিত করতে পারবে।

পদ্ধতিটির চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্যামিতিক, আকারগত ও উৎপাদনগত চ্যালেঞ্জ।

জ্যামিতিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঠিক কত উচ্চতায় রাখলে প্রতিফলকটি ২৪ ঘণ্টা আলো প্রতিফলিত করতে পারবে-এই প্রশ্নের জবাব বের করা।

আকারগত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঠিক কত বড় প্রতিফলক তৈরি করতে হবে তা বের করা। বিশাল একটি প্রতিফলক তৈরি করা ভালো হবে নাকি ছোট ছোট অনেকগুলো তৈরি করা ভালো হবে এই প্রশ্নের জবাব বের করা।

উৎপাদনগত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রতিফলকগুলো কোথায় উৎপাদন করা হবে এটি ঠিক করা। পৃথিবীতে বানিয়ে মহাকাশে প্রেরণ করা ভালো হবে নাকি থ্রিডি প্রিন্টারে মহাকাশেই এই প্রতিফলকগুলো প্রিন্ট করে সেটাপ করা ভালো হবে এটি বের করা।

উৎপাদনগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করতে হবে। যার মধ্যে আছে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ এবং মহাকাশে থ্রিডি প্রিন্টারে উৎপাদনের সম্ভাব্যতা।

তবে আশার বিষয় হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশানে থ্রিডি প্রিন্টারের ব্যবহার শুরু হয়েছে।

ইউরোপিয়ান রিসার্চ কাউন্সিলের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জটিলতার কারণে হয়তো এমন একটি পদ্ধতির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে অনেক বছর সময় লেগে যাবে। তবে এই অর্থায়ন ভবিষ্যতের সৌরবিদ্যুতের নির্ভরযোগ্যতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজে লাগবে।

এদিকে জাপানের অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশান এজেন্সি একেবারে বিপরীত একটি সমাধান নিয়ে কাজ করছে। তারা চেষ্টা করছে পুরো সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রকেই মহাকাশে পাঠিয়ে দিতে। যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজটি সেখানেই করা যায়।

রপর সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎকে লেজারের মাধ্যমে পৃথিবীতে নিয়ে আসা যায়। ধারণাটি নিয়ে তারা এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, ২০৩১ সালের মধ্যে মহাকাশে একটি এক গিগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ঘােষণা দিয়েছে তারা। এবং এর কয়েক বছর পর থেকে প্রতি বছর মহাকাশে এমন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন সম্ভব হবে।

চীনও জাপানের মতোই একই রকম পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা মহাকাশে এক মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বন্ধ করার বিকল্প নেই। সৌরশক্তিই হতে পারে সমাধান। তবে সৌরশক্তিকে নির্ভরযোগ্য করে তুলতে ২৪ ঘণ্টা শক্তির নিরবচ্ছিন্ন যোগানের বিকল্প নেই।

তাই দূর ভবিষ্যতে এমন একটি সমাধানের বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বৈজ্ঞানিকদের একটি অংশ মনে করেন রাতে ব্যবহারের জন্য দিনে উৎপাদিত অতিরিক্ত শক্তি ব্যাটারিতে জমা করে রাখা যেতে পারে।

এক্ষেত্রে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারির এফিশিয়েন্সি। আশার বিষয় হচ্ছে প্রতিটি প্রযুক্তি নিয়েই জোর গবেষণা চলছে।

সূত্র : ইন্টারনেট, এমআর/এপ্রিল ০২/২০২০/১১৪৯

*

*