করোনাভাইরাস : ভিডিও কনফারেন্সে কর্মী ছাঁটছে স্টার্টআপ

বিশ্বব্যাপী স্টার্টআপরা কর্মী ছাঁটাই করছে। ছবি : বিবিসি
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : করোনাভাইরাস মহামারিতে কর্মীদের আর্থিক সুবিধা দিতে না পারায় বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্টার্টআপ কর্মী ছাঁটাই করতে শুরু করেছে। 

এমন অবস্থায় তারা কেউই কর্মীদের মুখোমুখি হচ্ছেন না। এজন্য ব্যবহার করছেন ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ জুমসহ অন্যান্য মাধ্যম। 

ইলেক্ট্রিক স্কুটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বার্ড গত শুক্রবার অন্তত ৪০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা মোট কর্মীর ৩০ শতাংশ। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিষ্ঠানটি এজন্য কর্মীদের সঙ্গে জুম ভিডিও কনফারেন্স অ্যাপটি ব্যবহার করেছে। 

জুম অ্যাপে একটি কলে এক হাজার জন পর্যন্ত যোগ দিতে পারেন। 

অবশ্য প্রথমে বার্ড ছাঁটাই করার আভাস দিয়েছিল টুইটারে। এরপর আগের একটি ধারণ করা ভিডিও কনফারেন্সে চালানো হবে বলেও বলেছিল তারা। তবে বার্ডের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এভাবে রেকর্ড চালানোর বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। 

পরে প্রধান নির্বাহী ট্র্যাভিস ভেন্ডারজ্যান্ডেন বলেন, ভিডিওটি বন্ধ করা হয়েছিল, আমরা চেয়েছিলাম আরও মানবিক হতে।

তিনি বলেছেন, অবশ্য একজন একজন করে কল দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছি। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আরেকটি স্কুটার স্টার্টআপ লিমে বেশকিছু কর্মী ছাঁটাই করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি খুব ভালো করে আসছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের এমন মহামারিতে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। 

গত সপ্তাহের ওই প্রতিবেদন বলছে, প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে বিনিয়োগ খুঁজছে। যার মূল্যমান ২৪০ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। 

তবে সংবাদ মাধ্যম বিবিসির অনুরোধেও লিমে কোনো মন্তব্য করেনি। 

ট্রাভেল স্টার্টআপগুলোও তাদের উপর থেকে খরচের বোঝা কমাতে চাইছে। এজন্য তারা কর্শী ছাঁটাইয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। 

ক্র্যাঞ্চবেইজ নিউজের বরাতে বিবিসি বলছে, বিজনেস ট্রাভেল বুকিং প্লাটফর্ম ট্রিপঅ্যাকশন তাদের ১১০০ কর্মীর মধ্যে থেকে ২৯৭ কর্মী ছাঁটাই করেছে। এছাড়াও নতুন করে আরও কিছু কর্মী ছাঁটাই করার করতে তাদে জুম ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপের মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছে। 

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী এরিয়েল কোহেন বলেছেন, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কাউকে ছাঁটাই করার মতো কষ্টকর খুব কমই আছে। এর অর্থ হলো আমি আমার কর্মীদের চোখে তাকানোর মতো সাহস রাখছি না। 

‘এটি জুমের মাধ্যমে করতে হচ্ছে, যা খুব খারাপ দৃষ্টান্ত। কিন্তু এ ছাড়া এখন কোনো উপায়ও নেই, তাদের তো আর অফিসে আনতে পারছি না আমরা।’

এছাড়াও হসপিটালিটি স্টার্টআপ সোন্ডার তাদের ১২০০ কর্মীর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ ছাঁটাই করতে যাচ্ছে। অবশ্য তাদের আর্থিক সুবিধা দিয়েই ছাঁটাই করা হতে পারে। 

জেসুস লিভিং এয়ারবিএনবির ক্যাবএন্ডে কাজ করা একটি স্টার্টআপ। তারাও ৩০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে টিতে থাকার কথা বলেছে। 

ইসরাইলভিত্তিক পরিবহন বুকিং স্টার্টআপ বুকাওয়ে কর্মীদের বেতন কমানো এবং কিছু কর্মীকে ছাঁটাই করার কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের অন্যতম একটি ট্রাভেল বুকিং স্টার্টআপ স্কাইস্ক্যানার কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। 

নীতি নির্ধারকদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, সাময়িক চিন্তা থেকে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা ও পরিকল্পনা থেকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, আগামী ১৮ মাস স্টার্টআপগুলো কিভাবে অর্থের সংস্থান করবে, তার কূলকিনারা করা যাচ্ছে না।  

বিশ্বব্যাপী এমন স্টার্টআপগুলোর কর্মী ছাঁটাই সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ব অর্থনীতির এ বিপর্যয়ের সময়ে পর্যাপ্ত তারল্যের অভাবে স্টার্টআপগুলো এ পথে হাঁটছে।

বিবিসি অবলম্বনে ইএইচ/ মার্চ৩১/২০২০/১৩০০

*

*

আরও পড়ুন