করোনাভাইরাস : তথ্য শেয়ারের আগে মাথায় রাখুন বিষয়গুলো

শেয়ারের আগে যাচাই করুন তথ্য সঠিক কিনা। ছবি : বিবিসি
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : করোনাভাইরাস মহামারিতে ইন্টারনেট জুড়ে ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি। তার ভিতর সঠিক তথ্য পাওয়া এখন খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করোনা সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করা উচিত। একই সঙ্গে তার প্রকৃত উৎসের উল্লেখ থাকাও প্রয়োজন। 

যেকোনো তথ্য শেয়ারের আগে অবশ্যই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সেসব দেখে নিই। 

থামুন, চিন্তা করুন

আপনি পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তার জন্যই তথ্য শেয়ার করতে চান। কোনো ভালো উপদেশমূলক তথ্য মেইল, ম্যাসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে পাবার সঙ্গে সঙ্গে সেটি অন্যদের ফরোয়ার্ড করেন। 

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানেই প্রথমে আপনাকে থামতে হবে। আপনি ভাবুন যে তথ্য পাঠাচ্ছেন সেটি আসলেই কতটা সত্য। ভুল তথ্য কিনা সেটি চিন্তা করুন। আপনার যদি একটুও সন্দেহ হয়, তবে অবশ্যই সেটি পাঠানো বন্ধ করুন, তা যাচাই করে নিন। 

তথ্যের উৎস যাচাই করুন

কোনো কিছু ফরোয়ার্ড করার আগে প্রথম প্রশ্ন মাথায় রাখুন, কোথা থেকে তথ্যটি এলো। উৎসটি যদি কোনো বন্ধুর বন্ধু বা আন্টির কলিগের প্রতিবেশীর হয় তবে বুঝে নেবেন এটি খুব ভয়ংকর তথ্য। 

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা ফুল ফ্যাক্টের ডেপুটি এডিটর ক্লেয়ার মিলনি বলেন, এই সময়ে করোনা সম্পর্কিত সবচেয়ে বিশ্বস্ত তথ্য হতে পারে এনএইচএস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। 

এমনকি বিশেষজ্ঞরাও এখন এই তালিকার বাইরে, তবে হোয়াটসঅ্যাপে অজ্ঞাত কোনো সোর্সের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞরা। 

এটি কি ফেইক?

কোনো তথ্য ফেইক হলেও সামনে হাজির হতে পারে ভিন্নভাবে। সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বলছে, যেকোনো অফিসিয়াল সাইট, সংস্থা বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ফেইক অ্যাকাউন্ট খোলা হতে পারে হুবহু। এমনকি স্ক্রিনশট নিয়ে সেটিও বদল করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

এমন ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রথম কাজ হবে সেগুলো যাচাই করে নেওয়া। প্রয়োজনে সেই সাইটে গিয়ে মূল তথ্য কি সেটি দেখুন। তাছাড়া যদি শেয়ার করেন তাহলে সেটি প্যানিক ছড়াতে পারে। 

বড় অক্ষর এবং সাইটের ফন্টের সঙ্গে অনেক সময়ই ভুল তথ্যগুলো মেলে না। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ফ্যাক্ট চেক করে নিন। 

নিশ্চিত না হয়ে তথ্য শেয়ার করবেন না

কোনো তথ্য একেবারে তার উৎস থেকে নিশ্চিত না হয়ে এই সময়ে শেয়ার করবেন না। এটা সত্য হতে পারে এমন ধারণা ভুলে যান। 

আমরা কোনো ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের বক্তব্য বা কোনো লেখা শেয়ার করি। সেটি ঠিক আছে। তবে আপনার প্রথমে জানতে হবে, তিনি আসলেই সেই ডাক্তার কিনা, বিশেষজ্ঞ কিনা। ভিডিও ও ছবির ব্যাপারে তাই শতভাগ নিশ্চিত হয়ে নেবেন সেটি এডিটেড নয়।

প্রতিটি তথ্যের ফ্যাক্ট চেক করুন

ব্যক্তিগতভাবে আপনি যে তথ্যটি শেয়ার করতে চান তার ফ্যাক্ট চেক করে নিন। হোয়াসটঅ্যাপ বা ম্যাসেঞ্জারে এমন বার্তা আপনি পেয়েছেন কোনো বন্ধুর কাছ থেকে বা অডিও পেয়েছেন যা শত শত মানুষকে পাঠিয়েছেন, কিন্তু অডিওটি কার সেটি সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত নন। তাই আগে নিজ থেকে ফ্যাক্ট চেক করুন। 

আবেগীয় পোস্ট থেকে বিরত থাকুন

কোনো একটি পোস্ট পড়লেন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত। আপনি সেটাতে খুব ইমোশনাল হয়ে গেলেন এবং তা শেয়ার করে দিলেন। এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি কোনো আবেগীয় বিষয় নয়। এখানে সত্যটাই মূল। তাই সবকিছুর আগে তথ্য যাচাই করতে হবে।

ক্লেয়ার মিলনি বলেন, সবাই তার প্রিয়জনদের ভালোবাসে। তাদের ভালো রাখতে কিছু বিষয় তাদের সঙ্গে শেয়ার করে। কিন্তু সেটি কী সঠিক নির্দেশনা কিনা তা আগে ভাবতে হবে। 

পক্ষপাতিত্ব আছে কিনা দেখুন

আপনার ধারণার সঙ্গে মেলে, শুধু এই কারণেই কোনো তথ্য আপনি শেয়ার করছেন না তো?

থিংক ট্যাঙ্ক ডেমোসের অ্যানালাইসিস ও সোশ্যাল মিডিয়া সেন্টারের রিসার্চ ডিরেক্টর কার্ল মিলার বলেন, শুধু আমাদের চিন্তার সঙ্গে, বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে এমন তথ্য ভুল হলেও আমরা শেয়ার করি। 

তাই এমন তথ্য শেয়ারের ক্ষেত্রে অনেকবার ভাবতে ও চেক করে নিতে হবে। কেননা আমরা এখন খুব খারাপ একটা সময়ের মধ্যে রয়েছি বলেও জানান তিনি। 

যে তথ্য আমরা শেয়ার করবো বা অন্যকে ফরোয়ার্ড করবো সেটি অবশ্যই যাচাই করে নেবো। তাহলে ভুল তথ্য, গুজব বা ক্ষতিকর কোনো তথ্য দিয়ে অন্যকে বিপদে ফেলবো না। 

বিবিসি অবলম্বনে ইএইচ/ মার্চ২৮/২০২০/১৫১৫

আরও পড়ুন – 

করোনা গুজব ঠেকাতে তথ্য দেখাবে ফেইসবুক

গুজব রোধে একাট্টা ফেইসবুক, গুগলসহ আট টেক জায়ান্ট

গুজবে মরে মানুষ, ডিপফেইকে ফেঁসে যাচ্ছে নিরপরাধী

করোনাভাইরাস : ওয়েবসাইট চালু গুগলের

ডিপফেইক : নিজের চোখকে কি আর পারবেন করতে বিশ্বাস?

*

*

আরও পড়ুন