করোনার ছুটিতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে?

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : করোনার সংক্রমন ঠেকাতে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার, গণপরিবহন সীমিত করাসহ জনসাধারণকে বাসায় অবস্থানের জন্য বলা হয়েছে।

এ অবস্থায় কী তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে ?

উদ্ভুত জরুরি এই পরিস্থিতে কী করণীয় ও প্রস্তুতি রয়েছে তা নিয়ে টেকশহরডটকমক কথা বলেছে খাতটির সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সঙ্গে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ভিডিও কনফারেন্সে টেকশহরডটমের প্রশ্নের উত্তেরে জানান, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ জরুরি সেবা ও কার্যক্রম চালু রাখতে প্রযুক্তিকে কাজ লাগাচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, খাবার-নিত্যপণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তাঁর বিভাগ ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করছে। এসব সেবা সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণকে দেবেন তারা।

সোমবারও পলক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা ও নিজ জেলা নাটোর প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসেডিওর (এসওপি), বিজনেস কনটিনিউটিং প্ল্যান (বিসিপি) এর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপদ নেটওয়ার্ক, ঘরে বসে স্বাস্থ্য সেবা, ঘরে বসে শিক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং ঘরে বসে বিনোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালু রাখতে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক, এটুআইয়ের পলিসি এডভাইজার আনীর চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রফিকুল মতিন টেকশহরডটকমকে জানান, অনলাইনে মনিটরিং এবং সেবা দিতে পারেন তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। কোথাও কোনো সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা হলে তারা সিস্টেমেই জানতে পারেন সেটি জরুরিভিত্তিতে ঠিক করে দিতে সমস্যা হবে না।

বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খাঁন টেকশহরডটকমকে জানান, নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে তারা যেসব কাজ পরিচালনা করে থাকেন তাতে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা রয়েছে।

বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর টেকশহরডটকমকে জানান, অনলাইনের মাধ্যমে কীভাবে কর্মীরা ঘরে বসে কাজ করতে পারেন তার গাইডলাইন ও রিসোর্স সম্পর্কে সব বেসিস সদস্যদের মেইল করে ইতোমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছেন তারা। 

এছাড়া কোনো সদস্যদের যদি জরুরি কোনো সেবা লাগে সেক্ষেত্রে তারা অনলাইন বা ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

বেসিস পরিচালক দিদারুল আলম সানি টেকশহরডটকমকে বলেন, এখনকার যে পরিস্থিতি তাতে প্রাণ সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় এই দুর্যোগে জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধের ফলে সবাই ঘরে থাকবে। তাই আমরা এই বন্ধের বিষয়টিই বলে আসছিলাম।  আর ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনে পরে সবাই মিলে কাজ করে একসঙ্গে তা কাটিয়ে উঠবে।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম টেকশহরডটকমকে বলেন, ইন্টারনেট সার্ভিস নিরবিছিন্ন রাখতে তারা সেবা দিয়ে যাবেন। অনলাইনে সেবা দেয়ার পাশাপাশি কোথাও কোনো সংযোগ বিছিন্নের ঘটনা হলে জরুরি হিসেবে তারা প্রস্তুত আছেন। 

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো. মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন বলেন, মার্কেট বন্ধ থাকায় সাধারণ হার্ডওয়্যার সেবা হয়তো এখন মানুষ পাবেন না। তবে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক জরুরি যেসব সেবা চালু রাখতে হার্ডওয়্যার সার্ভিস দরকার হবে সেগুলো দিতে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

এদিকে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক ক’দিন হতেই হোম অফিসে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এখন ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণায় অন্য সময়ের মতো নেটওয়ার্ক ঠিক রাখা ও জরুরি সেবা চালুতে তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

এডি/২০২০/মার্চ২৩/১৮২০

*

*

আরও পড়ুন