করোনার প্রভাব সামলাতে পলকের প্রযুক্তি পরিকল্পনা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : করোনার প্রভাব প্রযুক্তির মাধ্যমে মোকাবেলায় সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে শুরু করেছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে চললে দেশের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, খাবার-নিত্যপণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রযুক্তিকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগাতে চান তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তাই করোনার কারণে পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে এবং উদ্ভুত সেই পরিস্থিতি প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে মোকাবেলা করা যাবে সেজন্য ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উম্মুক্ত মতবিনিময় সভা করলেন পলক।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে শুক্রবার জুম অ্যাপের মাধ্যমে করা এই ভিডিও কনফারেন্সে সরাসরি যোগ দেন গণমাধ্যমকর্মীসহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সরকারি-বেসরকারি ১০০ এর বেশি অংশীজন।

কনফারেন্সটি তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ও প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে লাইভ সম্প্রচারিত হওয়ায় এতে অংশ নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।

তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই মতবিনিময় সভা।

পলক বলেন, এসওপি ‍স্টান্ডার্ড অপারেশনস প্রসেডিওর (এসওপি) এবং  বিজনেস কন্টিনিউটি  প্লান (বিসিপি) এই দুটি ডকুমেন্ট তৈরি করার উদ্দেশ্যে এই মতবিনিময় ।

‘পরিস্থিতি যদি দ্রুত ভাল হয়ে যায় তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই তবে যদি খারাপ হয়ে যায় তাহলে তার জন্য এই প্রস্তুতি। যদি ৩১ মার্চের মধ্যে পরিস্থিতি ভাল হয়ে স্বাভাবিক হয় তাহলে তো আর দুশ্চিন্তা নেই। কিন্তু যদি কোনো কারণে পরিস্থিতি কনটিনিউ করে তাহলে ভাববার রয়েছে, প্রস্তুতির বিষয় আছে’ বলছিলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি কয়েক মাস বা আরও বেশি দিন এমন চলে তাহলে স্কুল -কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়িতে বসে কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। 

‘ফুড ডেলিভারি, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, জরুরি প্রয়োজনে জিনিসপত্র সরবরাহ যেন স্বাভাবিক রাখা যায় সে প্রস্তুতি নিতে হবে। লজিস্টিক ঠিক রাখা এবং সেটি হবে কীভাবে তার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। আর এজন্যই সবাইকে নিয়ে এই মতবিনিময়। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং প্রযুক্তির সহায়তায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া’ উল্লেখ করেন তিনি।

পলক বলেন, যারা ঘরে বসে  থাকবেন তারা কীভাবে সময় পার করবেন, যোগাযোগ রক্ষা করবেন এগুলো দেখা। ডিজিটাল সংযোগে সময় কাটানোর সুযোগ তাদের দিতে হবে।

কনফারেন্সে টেকশহরডটকমের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জানান, এসওপি এবং বিসিপি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কমিটি করা হয়েছে। আরও কমিটি হচ্ছে যেন বিষয়টি সবসময় মনিটরিং করা যায়।

সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পলক জানান, গত বুধবার বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও সিআরআই ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি প্রতিটি খাতের সবাইকে সামর্থ্য নিয়ে এগিয়ে আসতে আহবান জানিয়েছেন। বিশেষ এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকলের পরামর্শ চেয়েছেন তিনি। 

মতবিনিময় সভায় করোনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গুজব ছড়ানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি সরকারের সাইবার রেন্সপন্স টিম হতে মনিটরিং করা হচ্ছে। গুজবকারীদের খুঁজে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

করোনার কারণে সরকারি দপ্তরগুলোর সংবাদ সম্মেলন ও নিয়মিত ব্রিফিংগুলো অনলাইনে করার বিষয়ে প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আজকের মতো কনফারেন্স অন্য বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো করতে পারে। বেসরকারি খাতেও এটি করার উদ্যোগ নেয়া যায়। এ বিষয়ে সরকারি দপ্তরগুলো যদি  ভিডিও প্রেস কনফারেন্সের প্রযুক্তিগত সহায়তা চায় সেটি করে দিতে পারে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

ই-কমার্স এবং খাবার সরবরাহের মতো লজিস্টিকে যারা কাজ করবেন তাদের সুরক্ষা এবং তাদের মাধ্যমে ভোক্তা যেন কোনো ঝুঁকিতে না পরেন সেটি পর্যবেক্ষণের আলোচনায় পলক উদ্যোক্তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহবান জানান। তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পোশাক তৈরিতে এটুআইয়ের ইনোভেশন কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

মোবাইল ফোন অপারেটরসহ বেসরকারি বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি যে হোম অফিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সাধুবাদ জানিয়ে পলক বলেন, এতে সবার সুরক্ষার পাশাপাশি কার্যক্রমের চাকাও সচল থাকছে। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো যেন জনগণকে করোনা সতর্কতা ও সচেতনার বার্তা পৌঁছাতে ভূমিকা রাখে সেই আহবান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার-নিত্যপণ্য ও শিক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার সঙ্গে মানুষ যেন ঘরে বসে বোরিং বা বিরক্ত না হয়ে যায় তার জন্য বিনোদনের বিষয়টিও ভাবতে চান প্রতিমন্ত্রী। স্থানীয় অনলাইন এন্টারটেইনমেন্ট প্লাটফর্মগুলো এই সময়ে তাদের অনুষ্ঠান-কনটেন্ট বিনামূল্যে দিতে পারে কিনা সেটি দেখার কথাও বলেন পলক।

তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, ঘরে বসে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিতে অনেক প্রস্তুতিই রয়েছে। সরকারি দপ্তরে এখন ই-নথি রয়েছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এই খাতে অনেক কিছু করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিস্থিতির কারণে বাসায় থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখার প্রসঙ্গে এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী বলেন, ই-লার্নিং এতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউট এবং সেকেন্ডারি পর্যায়ে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডকে ই-লার্নিং শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলনে নিয়ে আসতে কাজ চলছে বলে জানান।

মতবিনিময় সভায় রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, গ্রামীণফোন সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের সিসিআরএও তাইমুর রহমান, বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বাক্যের সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ এবং সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন, এসবিকে টেক ভেঞ্চার ও এসবিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান সোনিয়া বশির কবীর, এটুআইয়ের ইএম সলিউশনস আর্কিটেক্ট অ্যান্ড ই-কমার্স টিম লিড রেজওয়ানুল হক জামি, ওরাকল বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা উদ্ভুত পরিস্থিতে নিজ নিজ পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। 

এছাড়া ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার, সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, বঙ্গবিডির পরিচালক নাভেদুল হকসহ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও রাইড শেয়ারিং সার্ভিস, ই-কমার্স, সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি, এনজিও  খাতের উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরা  মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। 

এডি/২০২০/মার্চ২০/২০২০

*

*

আরও পড়ুন