চিরতরে মহামারি রোধের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে

লুমি প্রযুক্তি। ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়া
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গবেষকদের এ প্রচেষ্টা সফল হলে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর আক্রান্তকে সনাক্ত করা যাবে। আসন্ন মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আগেই যা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

চিরতরে সব ধরনের মহামারি রোধ করতে এ গবেষক দল এক ধরনের ডিভাইস নির্মাণের চেষ্টা করে চলছেন।

প্রযুক্তিটি নিয়ে কাজ করছেন বায়োটেক কোম্পানি প্রফুসা। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্সের গবেষণা বিভাগ দর্পর অর্থায়নে এই গবেষণা চলছে।

গত মঙ্গলবার সংস্থাটির তরফ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, তারা এমন একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন যা তিন সপ্তাহ পর্যন্ত আগে শরীরে ফ্লু ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কিনা তা শনাক্ত করতে পারবে।

এই প্রকল্পের নাম লুমি অক্সিজেন প্ল্যাটফর্ম। প্রযুক্তিটির উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করছে আরটিআই ইন্টারন্যাশনাল, ডিউক ইউনিভার্সিটি ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকরা। ২০২১ সালের মধ্যে একটি ফলাফল আশা করছেন গবেষক দল।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মহামারির সবচেয়ে মারাত্মক দিক হচ্ছে এর উপসর্গ দেখানোর পূর্বের সময়টুকু। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটি শরীরে বাড়তে থাকে কিন্তু আক্রান্ত জানতেও পারেন না যে তিনি ভাইরাসটি বয়ে বেড়াচ্ছেন। অথচ এই সময়ে তিনি ঠিকই ছড়িয়ে দিতে থাকেন।

তাই ধারণা করা হচ্ছে, এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি হলে করোনাভাইরাসের মতো ভাইরাস মহামারি হয়ে উঠার আগে উৎসেই ধ্বংস করে দেওয়া যাবে।

প্রযুক্তিটি শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেনের লেভেল মনিটর করে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নির্ণয় করে। সাধারণত মানুষের শরীরের প্রতিরোধ সিস্টেম যখন কোনও ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকে তখন টিস্যুতে অক্সিজেন লেভেল কমতে থাকে। অক্সিজেন লেভেলের নিরবচ্ছিন্ন ডেটা আসন্ন অসুস্থতা সম্পর্কে পূর্ব ধারণা দিতে সক্ষম।

প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে প্রযুক্তিটি কাজে লাগাতে মানুষের চামড়ার উপরে ও নিচে দুটি ডিভাইস সেট করতে হবে। চামড়ার নিচে থাকবে সেন্সর, উপরে থাকবে রিসিভার।

সেন্সরটি সিরিঞ্জের মাধ্যমে চামড়ার নিচে সেট করা হবে। যা একেবারেই নিরাপদ উপাদান দ্বারা তৈরি। তাই এর স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকবে না বলেই দাবি করা হচ্ছে। সেন্সরে কিছু বিশেষায়িত অণু থাকবে যা অবস্থার প্রেক্ষিতে রঙ বদলাবে। কিছুক্ষণ পর পর চামড়ার উপরে থাকা ডিভাইস থেকে আলো প্রেরণ করে দেখা হবে সেন্সরের রঙে কোনো বদল এলো কিনা। রঙের বদলের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে রোগী শরীরে কোনো অসুখ দানা বাঁধছে কিনা। এরপর সেই ডেটা পাঠিয়ে দেওয়া হবে স্মার্টফোনে বা অন্য কোনো ডিভাইসে।

সমস্যার বিষয় হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারির অর্থায়নে এমন প্রকল্পের বিশ্বস্ততার একটি বিষয় রয়েছে। তবে গবেষকরা নিশ্চিত করছেন যে, এই প্রযুক্তিতে লোকেশন বা স্বাস্থ্যের তথ্য অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এখানে কোনো জিপিএস সেট করা নেই।

সূত্র: ইন্টারনেট, এমআর/মার্চ ১৫/২০২০/১১৫৬

*

*

আরও পড়ুন