হার্ডওয়্যার খাতে দরকার অটোমেশন, আরও ব্র্যান্ডিং

স্মার্ট প্রিন্টিং সল্যুশনস লিমিটেডের পরিচালক মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন। ছবি : সৌজন্যে
Evaly in News page (Banner-2)

করোনায় কতটুকু দুশ্চিন্তা দেশের হার্ডওয়্যার খাতে? কেমন আছেন খাতটির ব্যবসায়ীরা? কী সমস্যা, কী করণীয়? এসব নিয়ে টেকশহরের মুখোমুখি স্মার্ট প্রিন্টিং সল্যুশনস লিমিটেডের পরিচালক মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমরান হোসেন মিলন।

টেক শহর : দীর্ঘদিন থেকে দেশের হার্ডওয়্যার খাতে কাজ করছেন, খাতটির বর্তমান অবস্থা কেমন দেখছেন?

মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন : এক যুগেরও বেশি সময়ে বাংলাদেশের হার্ডওয়্যার খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এখনো প্রান্তিক পর্যায়ে আমরা খাতটিকে নিতে পারিনি। এজন্য অনেক সীমাবদ্ধতা অবশ্যই আছে। তাই বলা যায়, বর্তমানে খাতটিকে খুব বড় খাত হিসেবে বলা যাচ্ছে না। 

আমরা এখনো প্রতিটি খাতের অটোমেশন করতে পারিনি। যা খুব প্রয়োজন। শুধু যে ব্যবসয়িক বা গ্রাহক বাড়াতে প্রয়োজন তা নয়, এটি আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ যে ভিশন সেটি বাস্তবায়নেও প্রয়োজন। তাই প্রান্তিক পর্যায়ে আমরা কিভাবে আরও কাজ করতে পারি সেটি ভাবতে হবে।

খাতটিকে বড় করতে হলে অনেক পরিবর্তন আনা জরুরি। আমাদের নজর দিতে তরুণদের দিকে, তাদের এনগেজমেন্ট বাড়াতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের কার্যক্রম বাড়াতে হবে।  

 টেক শহর : বড় বাজার হবার পরেও খাতটি এখনো বেশিরভাগই কেনো আমদানি নির্ভর থেকে গেছে?

মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন : আমাদের বাজার আপাত দৃষ্টিতে বড় মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে বাজার খুব বড় নয়। যে কারণে হুট করেই আমরা আমদানি থেকে উৎপাদনে যেতে পারবো না। কারণ কোনো ব্র্যান্ড এসেই হুট করে কারখানা খুলে বসবে না। একটা প্রোডাকশন লাইনে যে পরিমাণ পণ্য তৈরি হবে তার তো ক্রেতা থাকতে হবে। এজন্য আমাদের সময় দিতে হবে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের দিকে তাকান, দেখতে পাবেন কত সংগ্রাম করে আজকের অবস্থানে এসেছে।

আমি বলছি না যে, আমরা তা পারবো না। আমরাও হার্ডওয়্যারে নিজেদের তুলে ধরতে পারবো। সে জন্য সময় দিতে হবে। বাজার না বাড়িয়ে আমরা তো উৎপাদনে যেতে পারবো না। দেশে বাজার তৈরি করতে হবে, বাইরে বাজার তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ যে পণ্য তৈরি করতে পারে সেটি তো বিশ্বকে জানাতে হবে।    

টেক শহর : দেশে হার্ডওয়্যার খাতের বর্তমানের সমস্যাগুলো কী কী?

মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন : আমাদের প্রথম ও প্রধানতম সমস্যা বাজার বড় করতে না পারা। আর আছে সচেতনতার অভাব। মানুষের কিন্তু প্রতিটি পদেই প্রযুক্তি পণ্যের প্রয়োজন। কিন্তু সচেতনতার অভাবে সেটা ঠিক তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। শুধু তো পণ্য পৌঁছে দিলেই কাজ শেষ হয় না। বলতে গেলে অনেক সমস্যাই রয়েছে এখনো হার্ডওয়্যার খাতে। যেগুলো আমরা সমাধানে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। 

এছাড়াও হার্ডওয়্যার খাতকে আমরা লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড হিসেবে দেখতে চাই। যেখানে দেশি এবং বিদেশি উভয় দেশের ব্র্যান্ড সমান সুযোগ পাবে। তাহলেই দেশে নিজেদের পণ্য আমরা তৈরি করতে পারবো। 

 টেক শহর : সামনেই বাজেট, নিশ্চয় আপনাদের অনেক চাওয়া আছে?

মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন : বাজেটে অবশ্যই আমাদের চাওয়া আছে। আমরা চাই হার্ডওয়্যার খাতটি দেশের বড় খাতগুলোর একটা হোক। সে জন্য আমরা সরকারের সহায়তা চাই। আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় সব বরাদ্দ চাই যাতে দেশে খাতটিকে সবার কাছে নিয়ে যেতে পারি। বিসিএস এবং সরকার যৌথভাবে সারা দেশে যেন বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে সে ব্যবস্থা আমাদের চাওয়া। এই খাতে ভ্যাট ট্যাক্স বসিয়ে এখনি আমদানিতে কোনো ধরনের খড়গ যেন না আসে সেটা আমাদের দাবি। আমরাও চাই মেইড ইন বাংলাদেশ পণ্য। তবে তার আগে আমাদের অন্যান্য খাতের মতো সুবিধা এবং সময় দিতে হবে।

টেক শহর : বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বেড়েছে পণ্যের দাম। কতটা প্রকট হতে পারে?

মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন : করোনাভাইরাসের প্রভাব দেশের প্রযুুক্তিপণ্যের বাজারে খুব প্রভাব পড়বে না। কারণ, চীনের বাৎসরিক যে ছুটি, তার আগেই আমরা প্রয়োজনীয় পণ্যের ফরমায়েস দিয়ে রাখি প্রতি বছর। এবারও তাই হয়েছে। আর করোনার যে প্রভাব সেটা চীনে সেই ছুটির সময়ে পড়েছে। চীন সরকার কিছুদিন ছুটি বাড়িয়েছে ঠিকই। তবে আমরা কোনো সংকটে পড়ছি না। হয়তো এর মধ্যে কিছু অ্যাক্সেসরিজ বিশেষ করে মেমোরি চিপ কিংবা হার্ডডিক্সের মতো পণ্যের কিছুটা সংকট দেখা গেছে। তবে চীন থেকে চালান আসতে শুরু করেছে। সেটাও থাকছে না। তাই আমরা সংকটে নেই বলা যায়। 

টেকশহর : টেকশহরকে সময় দেবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। 

মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন : টেকশহরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। 

ইএইচ/ মার্চ ১৩/ ২০২০/ ১৭২০

*

*

আরও পড়ুন