Techno Header Top

অফিস না থেকেও ভ্যাটের রেজিস্ট্রেশন পাচ্ছে ফেইসবুক-গুগল

Facebook-Google-techshohor
এনবিআরের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন পাচ্ছে ফেইসবুক-গুগল। ছবি : ইন্টারনেট থেকে
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশে আবাসিক অফিস না থাকলেও ফেইসবুক বা গুগলের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছ থেকে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) পাবে।

এটি পেলে সহজেই তাদের সেবার ওপর থেকে ভ্যাট আদায় করতে পারবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক এবং সার্চ ইঞ্জিন গুগল ছাড়াও প্রথম দফায় ইউটিউব এবং মাইক্রোসফটকে বিআইএন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।

এনবিআর-এর হিসেবে বিদেশী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনা গেলে এই খাত থেকে সরকারের বছরে অন্তত তিনশ কোটি টাকা বাড়তি আয় হবে।

মূলত বিদেশী এই কোম্পানিগুলো ভ্যাট প্রদানের ক্ষেত্রে জটিলতার বিষয়টি এনবিআরের সামনে তুলে ধরে নিয়মটির ক্ষেত্রে শিথিলতার সিদ্ধান্ত আনার অনুরোধ করে তারা। তার পরেই এনবিআর এই পথে চিন্তা করতে শুরু করে বলে জানিয়েছে সূত্র।

এনবিআর-এর বিধানানুসারে বাংলাদেশে অফিস না থাকলে কেউ বিআইএন পায় না। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়মের কিছুটা শিথিল করে তাদেরকে বিআইএন দেওয়া সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে তারা তাদের সেবার ওপর থেকে এনবিআরকে সারাসরি ভ্যাট দিতে পারবে।

প্রথম দিকে পরিকল্পনা ছিল, বৈশ্বিক এই কোম্পানিগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে ভ্যাট আদায় করা হবে। সে লক্ষ্যে চলতি বছরের বাজেটেই বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাধ্যতামূলক করে সরকার। জুলাই থেকেই এই ভ্যাট কার্যকর করা হলেও আদায় হয়নি কিছুই।

বলা হচ্ছে, অনাবাসী কোম্পানির বিআইএন-নিবন্ধনের সুযোগ না থাকায় এটি কার্যকর করা যাচ্ছিল না। যদিও ভ্যাট আইনে স্থানীয় প্রতিনিধির বিআইএন নিবন্ধনের মাধ্যমে ভ্যাট আদায়ের সুযোগ আছে, কিন্তু ফেইসবুক-গুগল বা অন্য কেউ সেই পথে যেতে রাজি হয়নি। তারা বরং এনবিআরকে অনুরোধ করে নিয়মের কিছুটা পরিবর্তন করে তাদেরকে সরাসরি বিআইএন দেওয়ার জন্যে।

এই আবেদন মেনে নিয়মটাকে সহজ করে এনবিআর।

এ বিষয়ে এনবিআর-এর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছর এই চারটিসহ আরো কিছু প্রযুক্তি কোম্পানির কাছ থেকে বাংলাদেশিরা অন্তত দুই হাজার কোটি টাকার সেবা কেনে। মূলত প্রচার এবং সফটওয়্যার কেন্দ্রিক এই সেবার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ধরলে এখান থেকে সরকারের অন্তত তিনশ কোটি টাকা আয় হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিনিই এই খাতটি বড় হচ্ছে। ফলে সরকার এখনই উদ্যোগ না নিলে রাজস্ব আয়ের অনেক বড় একটি খাত হাতছাড়াই থেকে যাবে। মূলত এই চিন্তা থেকেই নিয়মে কড়াকড়ি থেকে কিছুটা বেরিয়ে আসলো এনবিআর।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ সংশ্লিষ্ট একটি বৈঠকে এনবিআর-এর ভ্যাট উইং বিদেশী প্রযুক্তি কোম্পানিকে ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়ার কড়াকড়িকে সহজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিষয়টি সকলকে অবহিত করতে এনবিআর খুব দ্রুতই এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করবে। ফলে তখন থেকে সরকারের কোষাগারে বৈদেশিক প্রযুক্তি কোম্পানির মাধ্যমে আয় বাড়তে থাকবে।

এদিকে আবার বৈশ্বিক ক্লাউট কমিউটিং সেবা কোম্পানি অ্যামাজান সম্প্রতি তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের অনুরোধ করেছে যেন তাদের বিআইএন হালনাগাদ করে সঠিকভাবে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কার্যকর করা হয়।

এসজেড/ইএইচ/ ফেব্রু২৮/ ২০২০/ ১৫০০

আরও পড়ুন – 

ভ্যাট দিতে গুগল-ফেইসবুককে প্রতিনিধি নিয়োগের নির্দেশনা

ফেইসবুকের কাছে বাংলাদেশ কেন গুরুত্বহীন?

বাংলাদেশে ২ কর্মকর্তা নিচ্ছে ফেইসবুক, আবেদন নেয়া হচ্ছে

১ টি মতামত

*

*

আরও পড়ুন