Header Top

ভারতের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধুচন্দ্রিমা শেষ হচ্ছে!

ছবি : ইন্টারনেট থেকে নেওয়া
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৫০ কোটিতে। মাত্র দশ বছরের ব্যবধানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যায় পৌঁছে দেশটি। 

অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের এই উত্থানের পিছনে শুধু দেশটির সরকার নয়, বরং বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এতে খুব বেশি অবদান রেখেছে। 

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ ভারতের সঙ্গে এবার সেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মধুচন্দ্রিমার সময় যেন শেষ হচ্ছে। 

এই মধুচন্দ্রিমা সময় শেষ হবার কারণ হিসেবে দেশটিতে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর বিধিনিষেধ আরোপ, সরকারের কঠোর নীতিমালা, বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশি কঠোরতা আরোপের মতো বিষয়গুলোকে তুলে ধরা হচ্ছে। 

বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভারতের পরিস্থিতে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যে শঙ্কা তা থেকেই ভারতের সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের সুসময় ফুরিয়ে আসছে বলে তুলে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। 

কতটা সুসময় যাচ্ছিল তার প্রমাণ গত এক বছরের দিকে তাকালেই দেখতে পাই আমরা। গত বছরের শেষে এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে ফেইসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, টুইটারের সিইও জ্যাক ডরসি ভারত ভ্রমণ করেছেন। 

এছাড়াও এই সময়ের মধ্যে ভারতেই যাদের বেড়ে ওঠা গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এবং মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলাও সফর করেছেন ভারত। দেখা করেছেন প্রাধনমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসসহ দেশটির অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে।  

এসব টেক জায়ান্ট ছাড়াও উবার, নেটফ্লিক্স শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে ভারতে। 

এসব প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ভারতের বেশ কিছু স্টার্টআপে জাপানের সফটব্যাংক, চীনের টেনসেন্ট, বাইটড্যান্স এবং আলিবাবাও বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে।

তবে ভারত সরকার এখন যেভাবে তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে তাতে আগামী দশকে এসব প্রতিষ্ঠান মুনাফা করতে খুব খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। বিশেষ করে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডেটা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা, পণ্য বিক্রি করা এবং ব্যবহারকারীদের ডেটার নিরাপত্তা দিতে খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে। 

আর সম্প্রতি দেশটিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে খুব বেশি পরিমাণে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কাশ্মীরে দীর্ঘদিন থেকে ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। এসব কিছুই শঙ্কিত করে তুলেছে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের। 

দেশটিতে এখন প্রায় ৭০ কোটি মানুষ প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটে এসেছে। অন্যদিকে আরও অন্তত সমপরিমাণ মানুষ দেশটিতে ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়েছে। 

ফলে এই অবস্থায় বিদেশী এসব প্রতিষ্ঠানের উপর সরকারি হস্তক্ষেপ চীনের মতোই নিয়ন্ত্রণ আরোপের ভয়ও ঢুকিয়ে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোতে।  

ভারত সরকারের এমন নিয়ন্ত্রিত মনোভাবকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ সফটওয়্যার ফ্রিডম ল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মিশি চৌধুরী বলেন, সরকার এখন জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। যেখানে প্রযুক্তির সহায়তায় জনগণ তাদের মতামত তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন সেগুলো প্রতিহত করা হচ্ছে। মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে। এটাকে চীনের কর্তৃত্ববাদী সরকারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। 

ভারতের এখনকার অবস্থাকে বিতর্কিত বলে মনে করেন এশিয়ান ইন্টারনেট কোয়ালিশনের এমডি জেফ পেইনি। এই গ্রুপে রয়েছে ফেইসবুক, টুইটার, গুগল, অ্যামাজনও। পেইনি বলেন, আমরা আশা করছি নীতি নির্ধারকরা একটা দীর্ঘ মেয়াদি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।   

সিএনএন অবলম্বনে ইএইচ/ ফেব্রু ২৮/ ২০২০/১৪১০

*

*

আরও পড়ুন