Header Top

বাংলাদেশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে স্যামসাং

টেকশহরের মুখোমুখি স্যামসাং কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্স বাংলাদেশের হেড অব সেলস অ্যান্ড পার্টনার ম্যানেজমেন্ট সাদ বিন হাসান। ছবি : সৌজন্যে
Evaly in News page (Banner-2)

দেশে কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্সের বাজার বাড়ছে। স্থানীয় ও গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলো তাই নতুন পণ্য ও কৌশল নিয়ে হাজির হচ্ছে। স্যামসাং কনজুম্যার ইলেক্ট্রনিক্স বাংলাদেশের হেড অব সেলস অ্যান্ড পার্টনার ম্যানেজমেন্ট সাদ বিন হাসান এ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিভিন্ন দিক নিয়ে টেকশহরের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমরান হোসেন মিলন।

টেক শহর : কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্সে বাংলাদেশের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই। বাজারের আকার কেমন?

সাদ বিন হাসান : দেশের কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্সের কথা যদি বলি, তবে সর্বশেষ পাঁচ থেকে ছয় বছরে বড় একটা জাম্প হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার অগ্রগতির ধারায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। এ মুহূর্তে এমন কোনো বাসাবাড়ি পাবেন না, যেখানে টিভি বা রেফ্রিজারেটর নেই। আমাদের একটা মার্কেট সেন্স বা বাজার নিয়ে জানাশোনা আছে। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলতে পারি, দেশে কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্সের বাজার প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের।

আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, এ বাজারের ৪০ শতাংশ রেফ্রিজারেটর ও ৩০ শতাংশ টিভি। বাকি ৩০ শতাংশ অন্য হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য জায়গা করে নিয়েছে। এখন নিত্য ব্যবহারের গৃহস্থালী এসব ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী একেবারে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। কারণ, ইলেক্ট্রিসিটি পেনিট্রেশন। দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ এলাকায় এখন বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। আগামী এক দু’বছরের মধ্যে তা শতভাগ হয়ে যাবে। যে কারণে এ সংখ্যা বাড়বে।

টেক শহর : দেশের বাজারে স্যামসাংয়ের মার্কেট শেয়ার কত? প্রবৃদ্ধিতে কেমন করছেন আপনারা?

সাদ বিন হাসান : স্যামসাং একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড। বিশ্বে টিভির বাজারে আমরা প্রথম। গত ১৪ বছর ধরেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছি। এমনকি রেফ্রিজারেটরের বিশ্ববাজারে বেশ ভালো জায়গা করে নিয়েছি। অন্যান্য পণ্যেও খুব ভালো অবস্থানে রয়েছি। দেশে স্যামসাং ব্যবসা শুরু করেছে মাত্র ১০ বছর আগে। অন্যান্য গ্লোবাল ব্র্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে স্যামসাংয়ের অবস্থান কিন্তু সবার উপরে। তবে স্থানীয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে তুলনা নয়।

আর দামের ক্ষেত্রে বলতে গেলে স্যামসাংয়ের পণ্যের দাম ‘লিটিল বিট প্রিমিয়াম’।

গত পাঁচ বছর আমাদের ডাবল ডিজিট গ্রোথ হয়েছে। যেটি বাংলাদেশের বাজারে খুবই শক্তিশালী। তাই দক্ষিণ কোরিয়ার মূল এবং ভারতের আঞ্চলিক অফিস থেকে এ দেশে স্যামসাংকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বেশি।

টেক শহর : কোন ধরণের অ্যাপ্লায়েন্সের দিকে দেশের মানুষের ঝোঁক বা আগ্রহ বেশি?

সাদ বিন হাসান : গত কয়েক বছরে দেশের মানুষের রুচি বদলেছে। তাই সব ব্র্যান্ডই ইনোভেটিভ পণ্যে জোর দিচ্ছে। সবাই টিভি অফার করছে, রেফ্রিজারেটর অফার করছে। কিন্তু সেখানে কী এমন এক্সট্রা রয়েছে? সেই এক্সট্রা হিসেবেই বিভিন্ন কোম্পানি ইনোভেটিভ প্রোডাক্ট আনছে।

স্যামসাং ইনোভেশনে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। আমরাও স্থানীয় চাহিদা বিবেচনা করে পণ্য আনছি। টিভি, রেফ্রিজারেটরসহ এখন ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, এসি, এয়ার পিউরিফায়ার, ভ্যাকুইম ক্লিনার মানুষের কনজ্যুমার ইলেক্ট্রিনিক্স হিসেবে বেশি কিনছে।

টেক শহর : প্রযুক্তির উন্নতিতে কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবহারে পরিবর্তন এসেছে। সেখানে গ্রাহকের চাহিদা ও কেনার সক্ষমতাকে কিভাবে সমন্বয় করে স্যামসাং?

সাদ বিন হাসান : আমরা গ্রাহকদের সাধ্যের মধ্যেই পণ্য আনার চেষ্টা করি। সেজন্য স্যামসাং গ্লোবাল এবং স্থানীয় বাজারকে মাথায় রেখে দাম ঠিক করে। দেশে এখন আমরা কারখানা করেছি। ফলে সরকারের কাছ থেকে উৎপাদনে সহায়তা পাই। এতে গ্রাহকদের জন্য আরও সাধ্যের মধ্যে পণ্য নিয়ে আসা সম্ভব হয়।

টেক শহর : ফাইভজি চালু হলে স্মার্ট হোমের চাহিদা বাড়বে। এআই ও আইওটি পণ্য নিয়ে স্যামসাং এখন কী করছে বা ভবিষ্যতে কেমন পণ্য আনবে?

সাদ বিন হাসান : এ মুহূর্তে স্যামসাংয়ের আইওটি এনাবল সব ধরনের পণ্য রয়েছে। টিভি, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন। আসলে প্রতিটি সেগমেন্টে এমন পণ্য রয়েছে। দেশের বাজারে ফাইভজি না থাকায় এসব পণ্যের জন্য প্রস্তুত নন গ্রাহক। তাই এখনকার বাজারে এগুলো আনা হয়নি। আমাদের প্রোডাক্ট লাইন রেডি। দেশের বাজার প্রস্তুত হলেই সেগুলো আনা হবে।

টেক শহর : দেশে কাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন আপনারা?

সাদ বিন হাসান : বাংলাদেশের বাজারটা খুবই প্রতিযোগিতামূলক। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সব ব্র্যান্ডের এখন নজর এখানে। স্যামসাং বিশ্বে কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্সে শীর্ষে রয়েছে। আমরা মনে করি, যারা ইনোভেশনে জোর দেবে তারা এ বাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে।

টেক শহর : ফোনের বাইরে আর কোন পণ্য দেশে তৈরি করছেন?

সাদ বিন হাসান : স্যামসাং দেশে স্মার্টফোনের পাশাপাশি টিভি, রেফ্রিজারেটর, মাইক্রোওয়েভ ওভেন তৈরি করছে। এয়ার কন্ডিশনের উৎপাদন নিয়ে কাজ করছে। ওয়াশিং মেশিনে নিয়েও পরিকল্পনা চলছে।

টেক শহর : একেবারে গ্রামের ক্রেতাদের সঙ্গে স্যামসাং যোগাযোগ করে কিভাবে? বিশেষ করে তাদের চাহিদা, মনস্তত্ত্ব কিভাবে জানার চেষ্টা করে?

সাদ বিন হাসান : সত্যি কথা বলতে, একেবারে গ্রামের ক্রেতাদের সঙ্গে এখনও সেভাবে খুব ভালো ভাবে যোগাযোগ করে ওঠা সম্ভব হয়নি। গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শহরকেন্দ্রিক। এ ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছি। এ জন্য ডিলার, পার্টনারদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করা হচ্ছে। গ্রাহকদের চাহিদা বুঝে পণ্য পৌঁছে দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছ।

টেক শহর : গ্রাহকসেবায় কতটা এগিয়ে স্যামসাং? বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকরা ঠিকমতো সেবা পাচ্ছেন কী?

সাদ বিন হাসান : স্যামসাং পুরোপুরি ‘ইন হোম সার্ভিস’ দিয়ে আসছে। ফলে একটি নম্বরে জাস্ট কল করলেই আমাদের কর্মী পৌঁছে যান। এছাড়াও সারাদেশে ১০টি সার্ভিস ভ্যান রয়েছে। ফোনকল পেলে এগুলো গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় সেবা দিতে। নদীমাতৃক এলাকাতেও এমন কিছু পরিকল্পনা করেছি, যাতে সেখানকার গ্রাহকও সঠিক সেবা পান।

টেক শহর : স্যামসাং গাড়ি তৈরি করবে এমনটি শোনা যাচ্ছে।

সাদ বিন হাসান : আসলে এটা এখনও গুজবই বলা চলে।

টেক শহর : কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

সাদ বিন হাসান : বিশ্বে যখন যে প্রযুক্তি স্যামসাং উন্মোচন করবে, সেটা ঠিক সেই সময়েই বাংলাদেশে আনতে চাই আমরা। আমাদের যেন কারও জন্য অপেক্ষা করতে না হয়। আমরা চাই প্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন বাংলাদেশেও পাবেন গ্রাহকরা। এমন পরিকল্পনা নিয়েই কাজ চলছে।

ইএইচ/আরআর/ মার্চ ০৪/ ২০২০/১৪৪৯

*

*

আরও পড়ুন