নবায়নযোগ্য শক্তির নতুন স্বপ্ন থার্মাল স্টোরেজ

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সহজ ভাষায় পাম্পড থার্মাল ইলেক্ট্রিসিটি স্টোরেজ পদ্ধতি হলো- একটি বড় ট্যাংকে যে কোনও বস্তুকে বিদ্যুৎ দ্বারা গরম করে রেখে প্রয়োজনের সময় তাপ ইঞ্জিনের মাধ্যমে সেই তাপ থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা।

বিজ্ঞানীরা ১০ বছর পুরনো এই পদ্ধতি ব্যবহারযোগ্য কিনা তা আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট মােকাবেলায় নবায়নযোগ্য শক্তিকেই ভবিষ্যতের সমাধান ভাবা হচ্ছে। পরিবেশকে বাঁচিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী রূপান্তরযোগ্য জ্বালানির পথেই হাঁটতে চাইছে সব দেশ।

তবে যে হারে চাহিদা বাড়ছে বিদ্যুতের সেভাবে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে বিদ্যুৎ মিলছে না। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যেকার এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পাম্পড থার্মাল স্টোরেজ সিস্টেমকে পরখ করে দেখা হচ্ছে।

এফিশিয়েন্সি সমস্যার সমাধান করা গেলে এ পদ্ধতিতেই নির্ভরযোগ্য করা যাবে সবুজ শক্তিকে।

জলবায়ু পরিবর্তনের উপসর্গ প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান হচ্ছে। তাই বাড়ছে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রয়োজনীয়তা। সমস্যা হচ্ছে প্রয়োজনের সময়ে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রাপ্তির বিষয়টা এখনও নির্ভরযোগ্যতার জায়গায় পৌঁছায়নি।

যেহেতু পর্যাপ্ত আলো ও প্রয়োজনীয় বাতাস সবসময় থাকে না, তাই সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুৎ এখনও নির্ভরযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি।

এই সমস্যাটা কাটিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তিকে নির্ভরযোগ্য শক্তিতে পরিণত করতে প্রয়োজন এমন শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তি, যা কম খরচে অনেক শক্তি জমা রাখতে পারবে। যেখান থেকে নবায়নযোগ্য শক্তির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যকার বিদ্যমান গ্যাপকে দূর করা যাবে।

অর্থাৎ যখন সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুকল বা অন্য কোনও নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হবে। তখন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে রেখে যখন প্রয়োজন হবে তখন তা সরবরাহ করা।

উদাহরণ স্বরূপ, দিনের বেলায় উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ রাতে ব্যবহারের জন্য রেখে দেওয়া।

এই পদ্ধতির পথে অন্তরায় হচ্ছে শক্তি সংরক্ষণ পদ্ধতি। বর্তমানে এই কাজের জন্য ব্যাটারি ও পাম্পড হাইড্রো স্টোরেজ ব্যবহার করা হচ্ছে।

এর মধ্যে বড় মাত্রায় শক্তির সংরক্ষণের জন্য ব্যাটারি নির্ভরযোগ্য নয়, কারণ এর ব্যায় অনেক বেশি। তাই গ্রিড লেভেলে শক্তির সংরক্ষণের জন্য পাম্পড হাইড্রো ইলেকট্রিক ড্যআমের ব্যবহার প্রচলিত আছে।

পাম্পড হাইড্রো ইলেকট্রিক ড্যাম হচ্ছে কৃত্রিম ড্যাম তৈরি করে শক্তি সংরক্ষণের পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত অতিরিক্ত শক্তিকে ব্যবহার করে পানি উঁচু একটি সংরক্ষণাগারে তুলে রাখা হয়, যা প্রয়োজনের সময়ে টার্বাইনের মধ্য দিয়ে ছেড়ে দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে নেওয়া হয়।

সমস্যার বিষয় হচ্ছে এই পদ্ধতির প্রয়োগের জন্য দরকার পাহাড়ি অঞ্চল। আর এর ফুটপ্রিন্ট বড় হওয়ায় আরও কার্যকর সমাধান বের করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

পাম্পড থার্মাল ইলেক্ট্রিসিটি স্টােরেজ পদ্ধতি পরিবেশগতভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে অনেক সাশ্রয়ী। কারণ তাপ যে কোনও বস্তুর মধ্যেই আটকে রাখা যায়।

এই ধরুন ইনসুলেটেড ট্যাংকে অনেক পানিও যদি গরম করে রাখা হয় তাও এই পদ্ধতি কাজ করবে। এই পদ্ধতিতে ব্যাটারির মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহারের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।

এমন একটি প্ল্যান্ট নির্মাণে কম যায়গায় প্রয়োজন হয় এবং যে কোনও স্থানে নির্মাণ করা যায়। তাই হাইড্রো ইলেকট্রিক ড্যামের মতো জিওগ্রাফিক্যাল চ্যালেঞ্জও নেই এতে।

শুধু ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ করে রাখলেই এক লিটার পানি থেকে এই পদ্ধতিতে হাইড্রো ইলেকট্রিক ড্যামের তুলনায় ১০ গুণ শক্তি পাওয়া যায়। তাই আকারেও এগুলো অত বিশাল হয় না।

সমস্যা হচ্ছে এফিশিয়েন্সি। অর্থাৎ জমা রাখা শক্তির বিপরীতে কতটা শক্তি পাওয়া গেল। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে জমা রাখা শক্তির ৮০-৯০ ভাগ শক্তি ফেরত পাওয়া যায়। পাম্পড হাইড্রো-ইলেকট্রিক ড্যামের ক্ষেত্রেই ফেরত পাওয়ার পরিমাণ ৭০-৮৫ শতাংশ। কিন্তু পাম্পড থার্মাল ইলেক্ট্রিসিটি স্টোরেজ প্রযুক্তিতে ফেরত পাওয়া শক্তির পরিমাণ ৫০-৭০ ভাগ। যা বেশ কম।

তবে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি স্থানে এই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। যদি এফিশিয়েন্সি বাড়ান যায় তাহলে এই পদ্ধতিটিই নবায়নযোগ্য শক্তির সংরক্ষণের সমস্যাকে সমাধান করতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

নিম্নে পাম্পড থার্মাল ইলেক্ট্রিসিটি স্টোরেজ পদ্ধতির একটি স্কেচ দেখান হলো :

এমআর/আরআর/ফেব্রুয়ারি/২৭/১৪.১৭

*

*