মনের কথা মনেই থাকুক

মাইন্ড রিডিং প্রযুক্তি। ছবি : ইন্টারনেট
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কথা বলা বা আকার ইঙ্গিত বা লেখা ছাড়া যোগাযোগের আর কোনো সহজ মাধ্যম নেই। এসব কিছু করতে শরীরের অঙ্গ প্রয়োজন হয়।

তবে এখনো আঁতুড়ঘরে থাকা প্রযুক্তি ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেইসেস (বিসিআই) সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে কম্পিউটারের মাধ্যমে চিন্তা বা মনের ভাব প্রকাশের সুযোগ দেবে। তবে সেই প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটানোর আগে এর ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো খুঁজে বের করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

এখন পর্যন্ত বিসিআই প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে খুব স্বল্প পরিসরে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রযুক্তিটি আশীর্বাদস্বরূপ। এখন পর্যন্ত বিসিআই শুধু চিন্তা পড়তে পারে। তবে পরবর্তী প্রজন্মের বিসিআই চিন্তার পড়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কে ডেটা পাঠাতেও পারবে।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যক্তিগত অনুভূতি ও প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে পারে। কার মনে কী আছে, তা জানতে বিসিআই সিস্টেম হ্যাকও করতে পারে হ্যাকাররা। হ্যাক হওয়া তথ্যের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যবহারকারীরা ব্ল্যাকমেইলের শিকারও হতে পারেন।

অনেকের ধারণা, বিসিআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতে কল কাঠি নাড়ছে ক্ষমতাধর দেশগুলোর মিলিটারি বাহিনী। শত্রুপক্ষের কাছ থেকে তথ্য নিতে তারা বিসিআই প্রযুক্তিকে ইন্টারোগেশন ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

এছাড়াও, যাদের কাছে এই প্রযুক্তি থাকবে তারাই চাকরি ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করবে। বাকিরা পেছনে পড়ে থাকবে। তবে যারা চাকরি পাবে তাদেরকেও থাকতে হবে সার্বক্ষণিক নজরদারি মধ্যে।

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. ম্যাথ্যু লিয়ামের মতে, কাজ শেষে অফিসের ডিভাইস অফিসেই রেখে যেতে হয়। তবে সে সব ডিভাইসে মস্তিষ্কের ডেটা সেইভ থাকলে সেগুলোর মালিকানা কী কর্মীরা দাবি করতে পারবে? তারা কী ডেটা মুছে আবার পরের দিন কাজে আসতে পারবে? আমাদের কী মেন্টাল প্রাইভেসি থাকবে?

তিনি আরও জানান, একে অন্যের চিন্তা ভাবনা জানার বিষয়টা মোটেও ভালো ফল আনবে না। এই প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের কাছে এলে সামাজিক বন্ধনগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।

যদি এই প্রযুক্তি বিস্তৃত হয়, তবে মাইন্ড রিডিং সিস্টেমের ব্যবহার কোথায় গিয়ে থামাতে হবে তা জানতে হবে।

ইন্টারনেট অবলম্বনে এজেড/ ফেব্রুয়ারি ২৬/২০২০/১৪৩২

আরও পড়ুন –

ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি নির্ভরযোগ্য নয়! 

৫০ বছর পরের জীবন হবে প্রযুক্তিময়

*

*

আরও পড়ুন