Techno Header Top

ই-কমার্সে বিদেশিদের দেশীয় অংশীদার রাখার বাধ্যবাধকতা বাতিল

ছবি : টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ডিজিটাল কমার্স বা ই-কমার্স খাতে ব্যবসায় বিদেশিদের ক্ষেত্রে দেশীয় অংশীদার নেয়ার বাধ্যবাধকতার শর্ত বাতিল করা হয়েছে। 

সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া ‘জাতীয় ডিজিটাল কমার্স (সংশোধিত) নীতিমালা-২০২০’ এর খসড়ায় এই শর্ত তুলে দেয়া হয়েছে। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

এর আগে ‘জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা-২০১৮’  মন্ত্রিসভায় পাস হয় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। যার গেজেট প্রকাশ হয় ২০১৯ সালের শুরুতে। 

ওই নীতিমালায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের বাধ্যবাধকতার শর্ত দেয়া হয়েছিল।

নীতিমালার আইনি কাঠামোর ধারা ৩.৬.৭ এ বলা হয়েছিল, ‘ডিজিটাল কমার্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে। তবে বিদেশী ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রি দেশীয় কোনো ইন্ডাস্ট্রির সাথে যৌথ বিনিয়োগ ব্যতীত এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না এবং দেশীয় ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থসমূহকে প্রাধান্য দেয়া হবে’

কিন্তু গোল বাধে জাতীয় বিনিয়োগ নীতিমালার সঙ্গে এই শর্তটি সাংঘর্ষিক হলে। দেশে ই-কমার্সে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বিষয়টি নিয়ে নীতি-নির্ধারকদের কাছে যান। 

এরপরই বিষয়টিতে সামাঞ্জস্য আনতেই অনলাইন সেবা ও কেনাকাটায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই নীতির সংশোধনের উদ্যোগ নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।  

সোমবার সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এই ধারাটির  ‘ডিজিটাল কমার্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিবিধান প্রতিপালন করতে হবে’ শুধু এই অংশটুকু রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ ধারাটির ‘ তবে বিদেশী ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রি দেশীয় কোনো ইন্ডাস্ট্রির সাথে যৌথ বিনিয়োগ ব্যতীত এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না এবং দেশীয় ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থসমূহকে প্রাধান্য দেয়া হবে’ অংশটি তুলে দেয়া হয়েছে।

আর এই নীতিমালা সংশোধন ক্ষমতা থাকছে মন্ত্রিসভার। যা আগে ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে।  

যা আছে ডিজিটাল কমার্স নীতিমালায় : 

ই-কমার্স সেক্টরের সার্বিক উন্নয়নে সেন্টার অব এক্সিলেন্স, সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ বা অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল গঠন, ভোক্তাদের জন্য কোড অব কন্ডাক্টসহ বিভিন্ন বিধি-বিধান রয়েছে নীতিমালায়। 

দেখা যাক এই নীতিমালায় ই-কমার্স তথা ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেমন কাঠামো ও কী কর্মপরিকল্পনা দেয়া হয়েছে।

* ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রতিপালন করবে।

* ডিজিটাল কমার্স সাইটে বিক্রির জন্য উপস্থাপিত পণ্য সামগ্রী যথাযথ মানসম্মত হবে

* ক্রেতার স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বিক্রয়যোগ্য পণ্যের যথাযথ বিবরণ এবং এ সংক্রান্ত শর্তাবলী উল্লেখ করবে।

* ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান বিধি অনুযায়ী বিক্রিত পণ্যের ফেরত, মূল্যফেরত, প্রতিস্থাপন শর্তাবলী ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করবে।

* ভোক্তা অধিকার সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের (মার্কেটপ্লেস, উদ্যোক্তা, ডেলিভারিসিস্টেম, পেমেন্ট সিস্টেম ইত্যাদি) মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করবে।

* ক্রেতা ও বিক্রেতাগণ ইলেক্ট্রনিক লেনদেন, ই-পেমেন্ট ইত্যাদি বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান প্রতিপালন করবে।

* সকল ক্ষেত্রে ই-পেইমেন্ট ও মোবাইল পেমেন্ট চালু করা এবং ইলেক্ট্রনিক লেনদেন সহজতর ও নিরাপদ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

* ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের ওয়েবসাইটে বিক্রয়যোগ্য পণ্যের নির্ধারিত মূল্য প্রদর্শন করবে।

* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান পেমেন্ট ব্যবস্থাকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে।

* সকল ব্যাংকে আন্তঃব্যাংক ও মোবাইল ফিনান্সিয়্যাল সার্ভিস (এমএফএস), ডিজিটাল ফিনান্সিয়্যাল সার্ভিস (ডিএফএস) লেনদেন উপযোগী সিস্টেম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।

* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট পেইমেন্ট ও পণ্য ডেলিভারির ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট অপারেশনাল গাইডলাইন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রণয়ন করবে।

* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট পেইমেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে ‘এসক্রো সার্ভিস’ চালু করা হবে।

* অনলাইন পেমেন্ট সার্ভিসকে গতিশীল করতে প্রি-পেইড কার্ড,  ভার্চুয়াল কার্ড, ওয়ালেট কার্ডসমূহ এজেন্ট, ডিজিটাল কমার্স সাইটের মাধ্যমে প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

* ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং, প্রি-পেইড কার্ড, ক্রেডিট কার্ডসহ সমস্ত পেইমেন্ট পদ্ধতি ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ-এর সাথে সংযুক্ত থাকার মাধ্যমে রিয়াল টাইম ফান্ড ট্রান্সফারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

*  বৈধ পথে আন্ত:দেশীয় অনলাইন কার্ডভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণের নিমিত্ত ট্রাভেলার্স কোটা ও অনলাইন লেনদেনের কোটা বর্ধিতকরণ ও যুগোপযোগীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

* পাইরেসি, হ্যাকিংসহ ডিজিটাল কমার্স খাত সংশ্লিষ্ট সকল সাইবার অপরাধ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিদ্যমান ও উদ্ভূত ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিশ্চিতকরণেসংশিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

*  যথাযথ নিরাপত্তার স্বার্থে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রমিতমান অনুসরণ করে তাদের ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেস ইত্যাদি প্রস্তুত করবে।

*  ডিজিটাল কমার্সসংশ্লিষ্ট অপরাধ চিহ্নিত হলে তা দেশে প্রচলিত সংশ্লিষ্ট আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাইট, মার্কেটপ্লেসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

* দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সাপেক্ষে ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু ও আইনি কাঠামোপরিবর্তন,পরিবর্ধন,পরিমার্জন, সংশোধন করা হবে।

* ডিজিটাল কমার্স সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক গঠিত কেন্দ্রীয় সেল এ বিষয়ে সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, প্রতিষ্ঠান, সংস্থার সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করবে।

* ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সরকার মনোনীত সংস্থা, অ্যাসোসিয়েশন দেশের ডিজিটাল কমার্স ব্যবস্থা সংক্রান্ত কার্যক্রম কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের সাথে সমন্বয় সাধন করবে।

* ডিজিটাল কমার্স সেক্টরের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সেন্টার অব এক্সেলেন্স গঠন করা হবে।

* ডিজিটাল কমার্স ব্যবসা পরিচালনা, বিক্রয়কৃত পণ্য সরবরাহ ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং এ সকল কর্মকাণ্ড হতে উদ্ভূত অসন্তোষ নিরসন ও অপরাধসমূহের বিচার সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট আইনিকাঠামো প্রণয়ন করা হবে।

* ভোক্তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয়ন করা হবে।

* ডিজিটাল কমার্স খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান প্রতিপালন করা হবে।

* ডিজিটাল কমার্স বিষয়ক কপিরাইট ও মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, অনলাইন ডকুমেন্ট আদান-প্রদান সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান-এ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিমার্জন, পরিবর্ধনের কাযক্রম গ্রহণ করা হবে।

* আইপিআর (প্যাটেন্ট ও নকশা, ট্রেডমার্ক, কপিরাইট ইত্যাদি)-এ ডিজিটাল কমার্স বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্তির জন্য হালনাগাদ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

* মোবাইল অপারেটরদের নেট নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে।

* ডিজিটাল কমার্স লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

* ডিজিটাল কমার্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেবিদ্যমান বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে। 

* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটপ্লেস এবং হোস্টিং অ্যান্ডমেইনটেন্যান্স বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

* ডিজিটাল কমার্স খাতসংশ্লিষ্ট লেনদেন এবং অসন্তোষ নিরসনের বিষয়াদি সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালন করার উদ্দেশ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ,  সংস্থা’র মধ্যে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল সমন্বয় সাধন করবে।

* ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ও নতুন কোনো আইন ও বিধি-বিধান প্রণীত হলে, সে বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সকল সংস্থাকে অবহিত করা হবে।

* ডিজিটাল কমার্স সম্পর্কিত বিষয়সমূহে গবেষণাকার্য পরিচালনা, তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদ্ভূত সমস্যা নিরসনে সুপারিশ প্রদানের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে।

* ই-পেমেন্ট পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেন এর অপপ্রয়োগ, জালিয়াত চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্লিয়ারিং হাউজ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

* ডিজিটাল কমার্স খাতের বিভিন্ন দিকসমূহ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার- প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

* ডিজিটাল কমার্স প্রক্রিয়ায় ক্রয়-বিক্রয়জনিত ভয়-ভীতি দূরীভূতকরণ এবং আস্থা অর্জনের জন্য ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় পর্যাপ্তপ্রচার-প্রচারণায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

* রাজধানীসহ সকল বিভাগ, জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ বিষয়ে সেমিনার, কর্মশালা, মেলা,রোড শো ও র‍্যালি এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমুহের উদ্যোগে ডিজিটাল কমার্স মেলা, সেমিনার আয়োজন করা হবে।

* ডিজিটাল মার্কেটিং এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাসহজ ও সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

* ডিজিটাল কমার্স ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকারের প্রমোশন কার্যক্রম ও প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করাহবে।

* ভবিষ্যতে নীতিমালার যে কোনো ধরণের সংশোধন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পরামর্শক্রমে তা সম্পাদন করবে।

এই নীতিমালায় দুটি অধ্যায়ের একটিতে নীতিমালার নাম, পরিধি ও সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন, নীতিমালায় বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোর রয়েছে। যেখানে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা পদ্ধতি, ডিজিটাল কমার্স ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ, ইলেক্ট্রনিক লেনদেন ও ই-পেমেন্ট, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা, ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের কার্যক্রম সমন্বয়, আইনি কাঠামো, আইন প্রয়োগ পদ্ধতি, ডিজিটাল কমার্স প্রমোশন ও নীতিমালা পর্যালোচনার বিস্তারিত রয়েছে।

কর্মপরিকল্পনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন  করণীয় ঠিক করা হয়েছে। এগুলোকে  বিষয়ভিত্তিক উদ্দেশ্যে ভাগ করে প্রাথমিক বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও প্রত্যাশিত ফলাফলের উল্লেখ করা হয়েছে।

নীতিমালার প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের মাধ্যমে দেশব্যাপী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবকাঠামো তৈরি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা এবং আইটি শিল্প বিকাশে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মোবাইল প্রযুক্তি এক্ষেত্রে অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে সারাদেশ ৩-জি নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত এবং ৪-জি নেটওয়ার্ক ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। উল্লেখ্য, সারাদেশে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে আইসিটি নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি এর আওতায় প্রান্তিক বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ই-সেবা এবং মোবাইল ব্যাংকিং এর আওতাভুক্ত করেছে।

ফলে দেশে ডিজিটাল কমার্স অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি এবং গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার বৃহত্তর বেকার জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

এসব বিষয় ছাড়াও ডিজিটাল কমার্সের বিভিন্ন বিষয়ে এতে গাইডলাইন দেয়া হয়েছে।

এডি/২০২০/ফেব্রুয়ারি২৫/০৪৪৬

*

*

আরও পড়ুন